1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সুব্রামনিয়াম স্বামীর মন্তব্যটি অনুচিত এবং অশোভন'

ভারতের আসাম রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারে বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়াম স্বামীর বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্য নাকি নেহাতই নির্বাচনি চমক৷ তাই এ নিয়ে জল ঘোলা না করাই উচিত বলে মন্তব্য ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের৷

প্রশ্ন হলো, ঠিক কী বলেছিলেন বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়াম স্বামী? আসামের গুয়াহাটিতে এক জনসভায় ভাষণ দেবার পর স্থানীয় বুদ্ধিজীবী এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তিনি বলেছিলেন যে, তাঁর মতে রাজ্যের সবথেকে বড় সমস্যা বাংলাদেশ থেকে বাঙালি মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ক্রমবর্ধমান হার৷

সুব্রামনিয়াম স্বামীর কথায়, বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ আসাম ও ভারতের অন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশ করেছেন৷ হয় বাংলাদেশকে এঁদের ফিরিয়ে নিতে হবে আর না হলে এঁদের পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে৷ এমনটাই দাবি জানান তিনি৷ বলেন, ভারত ভাগের সময় ব্রিটিশ সরকারের ‘ইন্ডিপেনডেন্স অ্যাক্টে' এই ধরণের সংস্থান রয়েছে৷ তাই নির্বাচনের পর তিনি ভারতের নতুন সংসদে ইস্যুটি তুলবেন৷

Indien Zusammenstöße zwischen AAP- und BJP-Anhängern

‘অনুপ্রবেশকারী ফেরত নেবার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’

বলা বাহুল্য, শিলচর থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক ‘সাময়িক প্রসঙ্গ' এবং রাজ্যের অন্যান্য পত্র-পত্রিকায় সুব্রামনিয়াম স্বামীর এমন বক্তব্য ছাপা হলে তা নিয়ে রীতিমত ঝড় ওঠে৷ ডয়চে ভেলেকে টেলিফোনে এ কথা জানান ঐ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাময়িক প্রসঙ্গ দৈনিকের সংবাদদাতা গৌতম চট্টোপাধ্যায়৷

স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের মতে, প্রথমত বাংলাদেশ তো স্বীকারই করে না যে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেছে বা ঘটছে৷ কাজেই ফেরত নেবার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ মহলও এই দাবিকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন৷ এমনকি দিল্লিতেও এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তেমন কোনো হেলদোল এখন পর্যন্ত নেই৷ প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে ভারতের বন্ধু দেশ বাংলাদেশ৷ তাছাড়া এই ধরণের জিগির তুলে বিতর্কের জন্ম দেয়া যায়, কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না৷

বৃহৎ নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. অমল মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ভারতের নির্বাচনে এখন স্রেফ কথার যুদ্ধ চলেছে, যার অনেকটাই অসংলগ্ন৷ আসলে কে কতটা মিডিয়ার নজর কাড়তে পারে – তা নিয়েই সকলে মরিয়া৷

সাধারণ মানুষ একে ধিক্কার জানাবে৷ কারণ এটা আইন বিরুদ্ধ৷ বন্ধু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার চেষ্টা নিন্দিত হবে সর্বস্তরে৷ সংসদে বিজেপি নেতা ইস্যুটা তুলতে পারেন৷ সাংসদ হিসেবে এটা তাঁর অধিকারের মধ্যে পড়ে৷ তবে ভারত ভাগের সময় ব্রিটিশরা এই ধরণের একটি আইনি সংস্থান রেখে গেছে – ইতিহাস অন্তত এমনটা বলে না৷ কাজেই এই ধরণের মন্তব্যের কোনো গুরুত্ব নেই৷ আর একজন বিশিষ্ট আইনজীবী হয়ে সুব্রামনিয়াম স্বামীর এ রকম মন্তব্য করাটা অনুচিত এবং অশোভন৷

পাশাপাশি অন্য একটা চিত্রও উঠে আসা স্বাভাবিক৷ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় বাঙালি মুসলমান সংখ্যালঘুদের হার রাজ্যের হিন্দু ভোটারদের তুলনায় বেশি৷ সবথেকে বেশি বেড়েছে বরপেটা জেলায় প্রায় পাঁচ শতাংশের মতো৷ মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা এতটা বাড়ায় নির্বাচন কমিশনে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি৷ ২০০৮ সালে জেনারেল সিনহার রিপোর্টে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয় যে, তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে না পারলে ভবিষ্যতে আসাম হয়ে পড়বে মুসলিম প্রধান রাজ্য৷ বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে স্পর্শকাতর লোয়ার আসামে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চারটি জেলা ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, বরপেটা এবং হাইলাকান্দিত৷ হয়ত এমন একটা সময় আসতে পারে যখন বাংলাদেশ পাল্টা দাবি তুলবে যে, লোয়ার আসামের ঐ সব এলাকা বাংলাদেশেরই অঙ্গ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়