1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সুপেয় পানি পাচ্ছে না দুই কোটি মানুষ

উপকূলে লবণাক্ততা, আর্সেনিক দূষণ আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পানীয় জলের সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ৷ গ্রামাঞ্চলে ৩০ কিমি দূরে গিয়ে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে আর শহরে গভীর নলকূপেও পাওয়া যাচ্ছে না সুপেয় পানি৷

খুলনা শহর থেকে ৪০ কিমি দূরে দাকোপ উপজেলা৷ সেই উপজেলায় এখন পানীয় জলের প্রধান উৎস একটি গভীর নলকূপ৷ আগের নলকূপগুলো থেকে লবণ পানি ওঠে৷ তাই সেই পানি পান করা যায় না৷ দু'বছর হলো নতুন বসানো এই নলকূপটির পানি সুপেয়৷ এই নলকূপের পানি নিতে প্রতিদিন কম করে হলেও ৩০ হাজার মানুষ ভিড় করেন৷ ডয়চে ভেলেকে এই তথ্য জানান খুলনার সাংবাদিক হেদায়েত হোসেন৷

তিনি বলেন, ‘‘দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পানি নিতে আসেন৷ নৌকা যোগে কলসি বা ড্রামে করে তাঁরা পানি নিয়ে যান৷ প্রতি কলসি পানি সংগ্রহ করতে খরচ পড়ে যায় ১০ টাকার মতো৷ তাও সবাই পান না সেই পানি৷’’

খুলনার উপকূলবর্তী কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপে চলছে লবণ পানির আগ্রাসন৷ দু-একটি গভীর নলকূপে সুপেয় পানি পওয়া যায়৷ বাকি নলকূপে লবণ পানি ওঠে৷ পুকুরের পানিই ভরসা৷ তবে সব পুকুরের পানি পানযোগ্য নয়, নয় নিরাপদ৷ তারপরও ঐ সব অঞ্চলে কিছু বড় বড় পুকুর আছে, যেখান থেকে মানুষ পানীয় জল সংগ্রহ করে৷

খুলানা দীঘলিয়া, রূপসা আর ফুলতার নলকূপের পানিতে রয়েছে আর্সেনিক৷ হেদায়েত বলেন, ‘‘আর্সেনিক, লবন পানির আগ্রাসন আর পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট চলছে৷’’

খুলনা শহরে গভীর নলকূপে পানি পাওয়া যায় না৷ এই মৌসুমে তাই খুলনা শহরে পানীয় জলের সংকট চলছে বলে জানান হেদায়েত৷

বাংলাদেশের দক্ষিণের বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ ১৬টি জেলার কোনোটাতেই পর্যাপ্ত সুপেয় পানি নেই৷ সবখানেই লবণ পানির আগ্রাসন৷ কোথাও কোথাও আবার নলকূপের পানিতে রয়েছে আর্সেনিক৷

অডিও শুনুন 03:29

‘কলসি প্রতি খরচ হয় ১০ টাকার মত’

পিরোজপুরের সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের গ্রামের মানুষ পুকুরের পানির ওপরই নির্ভরশীল৷ তবে পুকুরগুলোর দীঘদিন সংস্কার হয় না৷ ফলে অনেক সময়ই এলাকাবাসীরা বাধ্য হয়ে দূষিত পানি পান করেন৷ সিডরের পর কয়েকটি দাতা সংস্থার উদ্যোগে পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করে পানের উদ্যোগ নেওয়া হয়৷ এ জন্য পন্ড স্যান্ড ফিল্টার বা পিএসএফ বসানো হয় পুকুরে৷ কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার অধিকাংশই আজ অকেজো হয়ে গেছে৷’’

আর যেগুলো সচল আছে তা থেকে পানি নিতে দূর দূরান্ত থেকে নারী-পুরুষরা ভিড় করছেন৷ কেউ কেউ আবার বৃষ্টির পানি ধরে রাখছেন পানীয় জলের জন্য৷

গতবছর ‘‘নেপোটিজম অ্যান্ড নেগলেক্ট: দ্য ফেইলিং রেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার অফ বাংলাদেশ'স রুরাল পুয়র’’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ জানায়, ‘‘বাংলাদেশের প্রায় দু’কোটি মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকির ভেতর রয়েছে৷ এছাড়া প্রতিবছর ৪৩ হাজার মানুষ আর্সেনিকজনিত রোগে মারা যাচ্ছেন৷ দেশে খাওয়ার পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হওয়ার ২০ বছর পরও বাংলাদেশ সরকার এই সমস্যার প্রতিকারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে৷’’

অডিও শুনুন 05:21

‘অনেক সময় বাধ্য হয়ে তাঁরা দূষিত পানি পান করেন’

এইচআরডাব্লিউ-র দাবি, ‘আর্সেনিক দূষণের শিকার অধিকাংশ মানুষের ত্বকে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না৷ অথচ আর্সেনিকের কারণে অনেকক্ষেত্রেই ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যা তৈরি হচ্ছে৷ তাই অনেকে জানেনই না যে তাঁরা আর্সেনিক সমস্যায় আক্রান্ত৷’’

এদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন পানির চাহিদা ২৫০ কোটি লিটার৷ কিন্তু সরবরাহ করা হয় মাত্র ২০০ থেকে ২০৫ কোটি লিটার৷ অর্থআৎ ৪৫ কোটি লিটার ঘাটতি থেকে যায়৷ ঢাকায় এক দশকে আড়াই মিটার হারে ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে৷ এছাড়া ওয়াসার পানি পানযোগ্য কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে৷ তাই পানীয় জল হিসেবে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বোতলজাত পানির চাহিদা বাড়ছে৷

ওয়াটার এইড-এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের দু'কোটিরও বেশি মানুষ নিরপাদ পানি থেকে বঞ্চিত৷ তাদের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সি কমপক্ষে ৪,১০০ শিশু মারা যায় নিরাপদ পানি এবং সেনিটেশন সুবিধার অভাবে৷

প্রিয় পাঠক, এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে... 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও