সুপারহিরো হয়ে উঠুন ‘ফ্লাইবোর্ড’ নিয়ে | অন্বেষণ | DW | 12.02.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সুপারহিরো হয়ে উঠুন ‘ফ্লাইবোর্ড’ নিয়ে

সাধারণ মানুষও ক্ষণিকের জন্য সুপারম্যান হয়ে উঠতে পারে৷ চাই শুধু উপযুক্ত সরঞ্জাম আর সাহস৷ ইউরোপে এমনই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে ‘ফ্লাইবোর্ড’৷ তবে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে৷

সঙ্গে ‘ফ্লাইবোর্ড' থাকলে তীব্র গতিতে পানি থেকে ছিটকে বেরিয়ে আকাশের দিকে ধেয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়৷ দুই হাতে জেট, পায়ের নীচেও পাইপে লাগানো জেট জুতো৷

‘ফ্লাইবোর্ড' নিয়ে মেতে উঠেছেন মার্কো আমিকো-ও৷ ইটালির গার্ডা লেকে তিনি নতুন এই খেলা শেখান৷ ইউরোপে এমন সুযোগ এখনো বিরল৷ তাঁকে উড়তে দেখা নজর কাড়ার মতো এক দৃশ্য বটে৷ বোর্ডের উপর দাঁড়ানোর অনুভূতিটাই আলাদা! আমিকো বলেন, ‘‘৫ মিটার উচ্চতায় পায়ের নীচে এত চাপ থাকলে মনে হবে বাতাসে যেন ভাসছি, অনবদ্য এক অভিজ্ঞতা৷ একেবারে সুপারম্যান-এর মতো লাগে, নিজেকে মুক্ত মনে হয়৷ মনে হয়, এই বয়সেও যেন একটা খেলনা পেয়ে গেছি৷''

Schiffschaukel Schiffsschaukel Looping Schaukel Metall

এক্সট্রিম স্পোর্টসের আর একটি ধরণ...

মার্কো আনাড়িদেরও ‘সুপারহিরো' প্রশিক্ষণ দেন৷ অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুক শহরের ক্রিস্টিয়ান ডেমল তাতে অংশ নিয়েছেন৷ প্রশিক্ষণের আগেই ‘ফ্লাইবোর্ড' শিক্ষক বিভিন্ন কৌশল ও আচরণবিধি বুঝিয়ে বলেন৷ তাঁর কাছে প্রশ্ন, সামনে বেশি ঝুঁকে পড়লে কি হাতের জেট দিয়ে সামলে নেয়া যায়? মার্কো বলেন, ‘‘হ্যান্ড-জেট দিয়ে অবশ্যই ভারসাম্য আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব৷ কিন্তু সেটা কাজ না করলে কেউ হ্যান্ড-জেট আবার দু-পাশে রেখে মাথা সামনে করে, ঠিক ডলফিনের মতো ডাইভ দিতে পারে৷ তারপর আবার জেটের তোড়ে পানি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে৷''

শুনতেই বেশ কঠিন লাগে বৈকি৷ সংক্ষিপ্ত নির্দেশ শোনার পর ক্রিস্টিয়ান সাহস করে কাজে নামলেন৷ পানি বেশি ঠাণ্ডা নয়৷ তিনি বললেন, ‘‘বেশ উত্তেজনা হচ্ছে, কী যে হবে! আমার কোনো ধারণা নেই৷ দেখি না কী হয়৷'' প্রথম প্রচেষ্টা দেখে তাঁকে ঠিক সুপারম্যান মনে হচ্ছে না৷ তবে তার আগে চাই যথেষ্ট প্রশিক্ষণ৷

একটি ইন্টারনেট ভিডিও-তে বেপরোয়া কসরত দেখে ফ্লাইবোর্ডিং সম্পর্কে সবাই জানতে পারে৷ ২০১১ সালে এক ফরাসি তার সরঞ্জাম উদ্ভাবন করেন৷ কাতারের রাজধানী দোহায় গত বছর প্রথম ফ্লাইবোর্ডিং বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল৷ ১৭টি দেশ থেকে ৫০ জন তাতে যোগ দিয়েছিলেন৷ প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী এসেছিলেন ফ্লাইবোর্ড-এর দেশ ফ্রান্স থেকে৷

এদিকে ক্রিস্টিয়ান ডেমল-ও কয়েক মিনিটের মধ্যেই বোর্ডের উপর দাঁড়াতে শিখেছেন৷ ওঠানামা করতে তাঁর বেশ লাগছে৷ ডলফিন ডাইভ-ও দিব্যি রপ্ত করে নিয়েছেন তিনি৷ তীরে দাঁড়িয়ে দর্শকরাও ‘সুপারহিরো' মানের কসরত দেখেন৷ এক নারী বললেন, ‘‘দেখে ঠিক সায়েন্স ফিকশন মনে হচ্ছে৷ প্রথমে একজন এমনভাবে ঝাঁপ দিলো, যেন সে এক ডলফিন৷ আমরা বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম৷ তবে বেশ মজার নতুন খেলা, কেন নয়?'' আরেক জন বলেন, ‘‘আমার মনে হয় না, এই খেলা তেমন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে৷ কারণ খুব বেশি মানুষের কাছে এর আবেদন নেই৷ এর জন্য উপকরণ কেনা, জোগাড় করা কঠিন, বাসায় রাখাও সহজ নয়৷ এ সব ভাড়া করাই অনেক সহজ৷ তাই খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম৷''

ফ্লাইবোর্ডিং মোটেই সস্তার খেলা নয়৷ গার্ডা লেকে আনাড়িদের জন্য কোর্সের খরচ প্রায় ১৬০ ইউরো৷ তবে ক্রিস্টিয়ান ডেমল-এর মতো ওয়াটার স্পোর্টস অনুরাগীদের জন্য এটা এমন কোনো বড় অঙ্ক নয়৷ তিনি বললেন, ‘‘অসাধারণ অভিজ্ঞতা৷ এত উপরে উঠলে ভয় একটু করে বৈকি৷ তবে পড়ে গেলেও ক্ষতি নেই, তারও ব্যবস্থা আছে৷ বেশ পরিশ্রম করতে হয়, পেশিগুলির উপর অনেক চাপ পড়ে৷''

শেষে ওস্তাদ নিজেই আসরে নামলেন৷ মার্কো আমিকো অন্তত পানির উপর সুপারহিরো-র মতোই অনায়াসে ঘোরাফেরা করতে পারেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক