1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সুপারট্যাংকার তেল শোষার কাজ শুরু করল

শুক্রবার তাইওয়ানের একটি সুপারট্যাংকার মেক্সিকো উপসাগরে তেল বিপর্যয়ে নির্গত তেল শোষার কাজ শুরু করেছে৷ যুগপৎ ঐ দুর্ঘটনা বিশ্বের সর্ববৃহৎ অনিচ্ছাকৃত তেল দূষণের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

default

তেল একটানা বেরিয়ে চলেছে

সুপারট্যাংকারটির ডাকনাম রাখা হয়েছে ‘তিমি'৷ কারণটা সহজ: প্রায় ৩০০ গজ লম্বা দৈত্যাকার ট্যাংকারটির দু'ধারে তেল-জল শুষে নেবার ‘কাট' রয়েছে৷ ট্যাংকারটি তেল এবং তেল-মেশানো জল শুষে নিয়ে, তেল ধরে রেখে, জল আবার বার করে দেয়৷ এ'ভাবে দিনে দু'কোটি দশ লক্ষ গ্যালন তেল-মেশানো জল শোষার ক্ষমতা রাখে ট্যাংকারটি৷ শুক্রবারেই ‘তিমি' তার পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছে৷ তবে শেষমেষ তাকে কাজে লাগানো হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আর ক'দিন পরে৷

তবে এ'টুকু বলা দরকার যে, গত দশ সপ্তাহ ধরে যে ছোট তেল শোষার বোটগুলো মেক্সিকো উপসাগরে টহল দিচ্ছে, তারা এযাবৎ সব মিলিয়ে মাত্র দু'কোটি আশি লক্ষ গ্যালন তেল-মেশানো জল সংগ্রহ করতে পেরেছে, ‘তিমি' যা প্রায় একদিনেই করতে পারবে৷

বিশ্বের বৃহত্তম তেল বিপর্যয়

এবং এই আশার আলোর প্রয়োজন ছিল৷ কেননা গত ২২ শে এপ্রিল ডীপওয়াটার হোরাইজন তেলের রিগটি ডুবে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ৩৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ ব্যারেল তেল নির্গত হচ্ছে৷ যার অর্থ, এযাবৎ আনুমানিক ৮কোটি থেকে ১৫ কোটি গ্যালন তেল উপসাগরের জলে গিয়ে পড়েছে৷ পরিমাণটা যদি সত্যিই ১৫ কোটি গ্যালন হয়, তবে এই সর্বাধুনিক তেল বিপর্যয় ১৯৭৯ সালের ইক্সটক ব্লোআউট'কেও ছাড়িয়ে গেছে৷ সেবার ঐ মেক্সিকো উপসাগরেই সংঘটিত দুর্ঘটনায় তেল বেরনো বন্ধ করতে ন'মাস সময় লেগেছিল৷ ঐ সময়ে প্রায় ১৪ কোটি গ্যালন তেল সাগরে গিয়ে পড়েছিল৷ অর্থাৎ ডীপওয়াটার হোরাইজন বিপর্যয় এখন বিশ্বের বৃহত্তম তেল বিপর্যয় বলে গণ্য৷ ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকি সৈন্যরা বিভিন্ন ট্যাংকার ধ্বংস করেছিল এবং কুয়েতের একাধিক তেলের খনিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল৷ ফলে ২৪ কোটি গ্যালন তেল পরিবেশ দূষিত করে৷ কিন্তু সেটা ছিল ইচ্ছাকৃত৷

এবারকার দুর্ঘটনায় অগাস্টের মাঝামাঝি তেল নির্গমন বন্ধ হওয়ার আশা আছে, যদি বিকল্প কূপ খনন করে এবং ভগ্ন কূপটিতে কাদা এবং সিমেন্ট পাম্প করে সেটিকে সীল করা সম্ভব হয়৷ ওদিকে ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম শুরু হয়েছে৷ ফলে তেল পরিষ্কারের প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে বাধ্য৷ ঝোড়ো বাতাসে তেল ঠেলে দিচ্ছে উপকুলের দিকে৷ মার্কিন উপকুলের প্রায় ৪৫০ মাইল পরিমাণ অংশ এখন তেলে দূষিত৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: হোসাইন আব্দুল হাই

সংশ্লিষ্ট বিষয়