সুন্দর হাতের লেখার কদর আজও আছে | অন্বেষণ | DW | 02.08.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সুন্দর হাতের লেখার কদর আজও আছে

কম্পিউটারের এই যুগে মানুষ টাইপ করতেই অভ্যস্ত৷ হাতের লেখার যুগ কি তাহলে শেষ? না, ফ্রান্সের এক ক্যালিগ্রাফার এই তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করেছেন৷ কারণ তাঁর ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই৷

আজকাল যখন প্রায় সবাই কম্পিটারেই টাইপ করেন, তখনও নিকোলা উশনির কলম ছাড়েন নি৷ হাতের লেখা এতই ভালো যে, ক্যালিগ্রাফার হিসেবে তিনি ফ্রান্সে বেশ নাম কুড়িয়েছেন৷ অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ বছর বয়স্ক এই মানুষটির বিষয় ছিল অর্থনীতি৷ চিত্রকলা জাতীয় কোনো বিষয়ে প্রশিক্ষণও পাননি তিনি৷ উশনির বলেন, ‘‘বাবা, দাদা ও তাঁর বাবার মতো আমারও হাতের লেখা চিরকাল বেশ ভালোই ছিল৷ এটা আসলে আমাদের পরিবারে, আমাদের রক্তেই রয়েছে৷''

নিকোলা তাঁর শখকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন৷ কাস্টমারদের তালিকায় কে না নেই! বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড-গুলির জন্য কাজ করেন তিনি৷ সব রকমের আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেন৷ উপলক্ষ্য অনুযায়ী লেখার শৈলি স্থির করেন – কখনো রোম্যান্টিক, কখনো আধুনিক৷ বাকিদের জন্য ব্র্যান্ড লোগো ও নিজস্ব হরফের স্টাইল তৈরি করেন তিনি৷ যেমন ফ্রান্সের ‘ভোগ' ম্যাগাজিন বা হলিউডের হোটেল ‘শাতো মারমঁ'-র জন্য৷ উশনির বলেন, ‘‘আসলে সব কিছুতেই ক্যালিগ্র্যাফি চলতে পারে৷ তাতে একটা ব্যক্তিগত ছোঁয়া রাখা যায়৷ মানুষ খুশি হয়, আবেগ অনুভব করে৷ প্রযুক্তির চাপে ক্যালিগ্র্যাফি উধাও হয়ে যাবে – এ ধারণা একেবারেই ভুল৷ বরং বিপরীতটাই দেখা যাচ্ছে৷ আজকের এই হাইট টেক যুগে ক্যালিগ্র্যাফি-র চাহিদা বেড়েই চলেছে৷''

সাধারণ মানুষও নিকোলা-র স্টুডিওতে আসেন৷ যেমন সেসিল টোগনি কয়েক সপ্তাহ পর বিয়ে করছেন৷ অনুষ্ঠানে যাঁরা সাক্ষী হবেন, তাঁদের জন্য সুন্দর চিঠি লেখানো দরকার৷ সেসিল মনে করেন, ‘‘অবশ্য শুধু ই-মেল লিখলেও চলতো৷ তবে মেল তো চিঠি নয়, যা লেটারবক্সে পাওয়া যায়, বিছানার পাশে টেবিলে রেখে দেওয়া যায়৷ ঘনিষ্ঠ কোনো মানুষের কাছ থেকে পাওয়া চিঠির মর্মই আলাদা৷ কাগজের উপর কালির ছোঁয়া৷ মারি অঁতোয়ানেৎ-এর যুগের মতো৷ আইডিয়াটা আমার বেশ ভালো লাগে৷''

পরের কাজ প্যারিসের ‘কার্লা অটো' পিআর এজেন্সিতে৷ ক্যালিগ্রাফার হিসেবে নিকোলা বিভিন্ন রকমের আমন্ত্রণপত্রের জন্য মানানসই হরফ খুঁজছেন৷ আপাতত ফ্যাশন ডিজাইনার আলবেয়ার এলবাস ও লঁকোম-এর বিশেষ সান্ধ্য অনুষ্ঠানের জন্য৷ উশনির বলেন, ‘‘এই হরফের মধ্যে একটু নাটকীয়তা চাই৷ কারণ আমন্ত্রণপত্রের মোটিভ আমাকে মঞ্চের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ তবে এর জন্য কালি ব্যবহার করবো কিনা, তা আমি জানি না৷ ফেল্ট পেন আরও আধুনিক ছাপ রাখতে পারে৷ ফ্যাশন শো-র মাঝেই এই পার্টি হবে৷ দেখা যাক, কোনটা মানানসই হয়৷''

প্যারিসের এক পাড়ায় নিজের কাজের উপকরণ খুঁজে পেয়েছেন নিকোলা৷ লুই ভুইতোঁ ব্র্যান্ড কয়েক মাস আগে সেখানে লেখালেখির সরঞ্জামের এক বুটিক দোকান খুলেছে৷ নানা রংয়ের কালি, ক্রিস্টালের দোয়াত, ফাউন্টেন পেন রাখার দামি পাত্র৷ এই সব সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছেন নিকোলা৷ উশনির বলেন, ‘‘ডট পেন ও ফাউন্টেন পেনের মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হলে আমার মতে, ভালো মানের ফাউন্টেন পেনের দিকেই ঝোঁকা উচিত৷ কারণ মানুষ তখন সময় নিয়ে পরিশ্রম করে লেখার আগে প্রতিটি শব্দ ভেবে দেখতে বাধ্য হয়৷ আসলে কালির আঁচড় তো বহুকাল থেকে যায়৷''

বিশেষ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র লিখতে লিখতে নিকোলা উশনির-এর আরেকটি বিষয়ে জ্ঞান বেড়ে গেছে৷ তারকাদের ঠিকানা তো বটেই, তাঁদের একান্ত জগতেও ঢুঁ মারার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি৷ উশনির বলেন, ‘‘কিছু নাম বার বার লিখতে হয়৷ তখন বুঝতে পারি কে বাসা বদল করেছে, কার নতুন সঙ্গী হয়েছে বা কার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে৷ কেউ মারা গেলেও তা জানতে পারি৷ আবার এমনও হয়, যে কেউ আর আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না৷ ফ্যাশন শো-র সময় কাউকে তাঁর নির্দিষ্ট আসন ছাড়তে হলেও বুঝতে পারি৷ আসলে যাঁর যত উঁচু স্ট্যাটাস, তিনি ব়্যাম্প-এর তত কাছে বসার সুযোগ পান৷''

নিকোলা উশনির-এর কাজের চাপ কম নয়৷ মাঝে মাঝে রাত জেগেও কাজ শেষ করতে হয়৷ এই যেমন প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহের আগে৷ ঠিক সময়ে হাজার-হাজার আমন্ত্রণপত্র পাঠাতে হবে৷ সবকটি তাঁর নিজের হাতেই লেখা৷

এসবি/ডিজি

ইন্টারনেট লিংক