1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সুনামির পর মানুষ আরো বেশি ধর্মপ্রাণ হয়ে উঠেছে’

২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর সকালে আঘাত হানা সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার আচে প্রদেশে প্রায় এক লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল৷ দশ বছর পর সেই এলাকার খবর জানাচ্ছেন পুরস্কার জয়ী সাংবাদিক কিরা কে৷

‘ব্যুরো ফর ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং' বা বিআইআর-এর নির্বাহী পরিচালক কিরা কে সুনামির আগে পরে বেশ কয়েকবার আচে গেছেন৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সুনামির পর ঐ এলাকায় ব্যাপক পুনর্গঠন কাজ হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, এর ফলে আচে-র গৃহযুদ্ধ বন্ধ হয়েছে – যা একটি ইতিবাচক দিক৷

ডিডাব্লিউ: দশ বছর আগে সুনামির পর ইন্দোনেশিয়ার অবস্থা আপনি কেমন দেখেছিলেন?

কিরা কে: সুনামির পর যে আমি আচে-তে গিয়েছিলাম সেটা আমার ঐ অঞ্চলে প্রথম যাওয়া ছিল না৷ আচে-তে চলতে থাকা গৃহযুদ্ধ কভার করতে ২০০২ সালে আমি সেখানে গিয়েছিলাম৷ সেসময় আচে-র যে অবস্থা আমি দেখেছিলাম সুনামি সেটা পুরোপরি বদলে দিয়েছিল৷

Kira Kay BIR

সাংবাদিক কিরা কে (একদম সামনের জন)

সুনামির দুই সপ্তাহ পর আমি আচে পৌঁছেছিলাম৷ জরুরি সহায়তা হিসেবে যে তৎপরতা চলছিল সেটা ঠিকই ছিল৷ দুর্গতরা খাবার ও আশ্রয় পাওয়া শুরু করেছিল৷ ততদিনে বেঁচে থাকাদের খুঁজে পাওয়ার আশা মিইয়ে এসেছিল৷

আচে-র প্রায় এক লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল৷ তখনও নিখোঁজ ছিল আরও প্রায় ৩০ হাজার৷ হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল৷ ভূমির মালিকানা ফিরে পাবার মতো কাগজপত্রও পানিতে ভেসে গিয়েছিল৷ ধ্বংসস্তূপের নীচে মরদেহ পড়ে ছিল৷ মৃতদেহগুলো ক্যারাভানে করে নিয়ে একসঙ্গে গণকবর দেয়া হয়েছিল৷ বিভীষিকাময় সেই সময়গুলোতেও আচে-র মানুষ পুনর্গঠিত হয়ে নতুন জীবন শুরুর কথা ভাবছিল৷

এই দুর্যোগ সবচেয়ে বেশি দুর্গত এলাকা, যেমন রাজ্যের রাজধানী বান্দা আচে-র মানুষের জীবন কীভাবে বদলে দিয়েছিল?

এবার গ্রীষ্মে আমি সেখানে গিয়েছিলাম৷ বান্দা আচে ও তার আশেপাশের এলাকা একেবারে চেনা যাচ্ছিল না৷ শহরের অনেক ভবন হয় নতুন করে নির্মিত, না হয় বেশ ভালোভাবে সংস্কার করা৷ সুনামির পর অনেকে সমুদ্র সৈকতের কাছে না থেকে দূরে পাহাড়ের ওপরে বসবাস করতে চলে গেছে৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সেখানে বসবাসের জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে৷ সেখানে ‘জ্যাকি চেন হিল' নামে একটি জায়গা রয়েছে, যেটা এই অভিনেতা তৈরি করে দিয়েছেন৷ অবশ্য অনেকে সৈকতের কাছেই আবার বাসা বেঁধেছেন৷ জীবিকার প্রয়োজনে তাঁদের সেখানে থাকাই ভালো বলে মনে করছেন তাঁরা৷ দাতাদের সহায়তায় ঐ এলাকার অনেক রাস্তাঘাট সংস্কার হয়েছে৷

পুনর্গঠন কাজের শুরুতে কিছুটা দুর্নীতির খবর পাওয়া গেলেও দশ বছর পর মনে হচ্ছে কাজ ভালোই হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করার সুযোগ দেয়ায় ইন্দোনেশিয়ার সরকার ধন্যবাদ পেতে পারে৷

মনস্তাত্ত্বিক স্তরে কেমন পরিবর্তন চোখে পড়েছে?

এটা বলা কঠিন৷ সুনামির পর মানুষ যেন ট্রমা (মানসিক আঘাত) কাটিয়ে উঠতে পারে, সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল৷ অবশ্য সরকারের কারণে বেশিদিন সেগুলো চলতে পারেনি৷ আচে-র কেউ কেউ আমাকে ট্রমা-র কথা জানিয়েছে৷ অবশ্য অনেকেই বলেছে, শক্ত ধর্মীয় বিশ্বাস তাঁদের দুঃখ ভোলাতে সহায়তা করেছে৷ তাদের মতে, গৃহযুদ্ধটি ছিল ‘মানুষের তৈরি' আর সুনামি ‘ঈশ্বরের তৈরি'৷ সুনামির পর আচে-র মানুষ বেশি বেশি ধর্ম পালন শুরু করেছে, কারণ তাদের বিশ্বাস, সুনামির মাধ্যমে ঈশ্বর তাদের দুষ্কর্মের প্রতিশোধ নিয়েছে৷ এমন মনে হওয়ার আরেকটি কারণ এই যে, মানুষ দেখেছে সুনামির কারণে গ্রামের আর সব ধ্বংস হয়ে গেলেও অনেক মসজিদ দাঁড়িয়ে ছিল৷