1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সুচিত্রা মিত্রের শেষকৃত্য সম্পন্ন

গানে, ফুলে, শ্রদ্ধায় আর চোখের জলে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল প্রয়াত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্রের৷ শেষযাত্রায় পা মেলালেন বিশিষ্ট শিল্পী থেকে সাধারণ মানুষ৷

Suchitra, Mitra, last journey, her home, Kolkata, Indien, ভারত, সুচিত্রা, মিত্র, রবীন্দ্র, সংগীত, শিল্পী, কলকাতা,

নিজ বাড়ি থেকে সুচিত্রা মিত্রের শেষ যাত্রা

যদিও তাঁর মাথার চুল অনেকদিন ধরেই কাশফুলের মত সাদা৷ অনুষ্ঠান করতে যখন মঞ্চে, তখনও তিনি আভরণহীন থেকেছেন, কানে হীরের দুল আর বাঁ হাতের মনিবন্ধে হাতঘড়িটি ছাড়া৷ পরতেনও সাদা বা হাল্কা রঙের শাড়ি৷ কিন্তু তিনি নাকি সাদা রঙের ফুল একেবারেই পছন্দ করতেন না৷ তাই তাঁর মরদেহ রঙিন ফুলে ভরিয়ে দিলেন সুচিত্রা মিত্রের গুণগ্রাহীরা৷ রক্তলাল গোলাপ থেকে শীতের মরশুমি ডালিয়া চন্দ্রমল্লিকার রঙের উচ্ছ্বাস, শেষযাত্রায় রানির মত চলে গেলেন তিনি৷ কত যে লোক এসেছিলেন তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে৷ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা তো ছিলেনই, ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পীরা, রাজনীতির লোকজন এবং অগণিত সাধারণ মানুষ৷

মঙ্গলবার সকাল সওয়া নটা নাগাদ পিস হাভেন থেকে সুচিত্রা মিত্রের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে৷ সেখানে রবীন্দ্রনাথের মূর্তির নিচে তৈরি এক অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয়েছিল মরদেহ৷ তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে এখানেই পুষ্পস্তবক পাঠিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আর মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রয়াত শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন রবীন্দ্র সদনে৷ দুপুর ১২টা নাগাদ জোড়াসাঁকো থেকে এখানেই আনা হয় সুচিত্রা মিত্রের মরদেহ৷ আরও দু'ঘণ্টা পর সেখান থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁরই প্রতিষ্ঠিত গানের স্কুল রবিতীর্থে৷ এখানে মানুষের ঢল নেমেছিল এদিন৷ ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমসিম খেতে হয়৷ মরদেহ যখন ক্যাওড়াতলা শ্মশানে পৌঁছয়, তখন সেখানেও জনসমুদ্র৷ কত মানুষ তাঁর গুণমুগ্ধ ছিলেন, সেটা দেখার বাকি ছিল এই শহরের৷ বিকেল সওয়া চারটে৷ বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ছাই হয়ে গেছে কিংবদন্তী শিল্পীর নশ্বর দেহ৷ বাইরে তখন মানুষ সমবেত কণ্ঠে গান ধরেছেন তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে৷

এদিন সকালে শান্তিনিকেতনেও আশ্রমিকরাও তাঁদের প্রিয় আশ্রমকন্যার স্মরণে একটি অনুষ্ঠান করেন, যেখানে গাওয়া হয়, তবু মনে রেখো৷

প্রতিবেদন: শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন