1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

সুখ তুমি কি, বড় জানতে ইচ্ছে করে

যারা নিজেকে সবসময় অসুখী মনে করেন তাদের অনেকেই মানসিক ডাক্তার ও মনস্তত্ত্ববিদের কাছে যান সাহায্যের জন্য৷ এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, কারা তাদের কাছে আসেন এবং তাদের সমস্যা কি?

ড্যুসেলডর্ফের মনস্তত্ত্ববিদ আন্ড্রেয়াস সোলইয়ানের কাছে এমন সব মানুষই আসেন যারা কোনো কিছু হারানোর যন্ত্রণা ভোগ করছেন৷ ‘‘যেমন কোনো সম্পর্ক ভেঙে গেলে, বিবাহ বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে৷’’

সুখের প্রাচুর্যও অসুখী করে তোলে!

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সুখের প্রাচুর্যও অনেককে অসুখী করে তোলে৷ অল্প সময়ের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ অনেক কিছু ঘটে গেলে মানসিক দিক দিয়ে অনেকে তাল সামলাতে পারে না৷ ভাল একটি কাজ পাওয়া, নতুন জীবনসঙ্গী পাওয়া, বিয়ে হওয়া, সুলভ মূল্যে একটি বাড়ি কেনার সুযোগ হওয়া – এসব স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটে গেলে বিহ্বল হয়ে যেতে পারে মানুষ, জেগে উঠতে পারে একটা মনমরাভাব৷

Stephan Lermer

স্টেফান লেরমারের মতে, বলা যায়, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা সুখকে ধ্বংস করতে পারে

ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মনস্তাত্ত্বিক সোলইয়ান চিত্তাকর্ষক দুটি দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করেন৷ দুই জনের দুই রকম ভাগ্যলিপি৷ একজন, বিনা দোষে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এক তরুণ৷ এই তরুণ হাসিমুখেই থেরাপিস্টের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন৷ পরে সুখ সম্পর্কে তাঁর অনুভূতির কথা জিজ্ঞেস করা হয়৷ প্রশ্ন করা হয় একদম অসুখী থেকে বেশ সুখী, অর্থাৎ ০ থেকে ৬ পর্যন্ত সুখের স্কেলে নিজেকে তিনি কোথায় দেখেন৷ তাঁর উত্তর ছিল ৪.১৷ অন্যদিকে দ্বিতীয়জন লটারিতে পাঁচ লাখ ইউরো পেয়েও তাঁর উত্তর ছিল ৪.২৷ এতে বোঝা যায় একেক জনের সুখ ও দুঃখের অনুভূতি একেক রকম৷


কারণের ওপর মানুষের হাত নেই

মনোরোগ চিকিৎসক রোলান্ড উরবান মনে করেন, দুঃখের অনুভূতির ব্যাপারে একটা মিল দেখা যায় সব ক্ষেত্রে৷ আর সেটা হলো এর কারণটার ওপর মানুষের হাত নেই৷

মানুষ এটিকে প্রভাবিত করতে পারে না৷ যেমন অসুস্থতা, আপনজনের মৃত্যু কিংবা অন্য কোনো ক্ষতি হওয়া৷ তবে মানুষের ভেতরের একটা নিরাময় ক্ষমতা দুঃখবোধকে কমিয়ে দিতে পারে৷

ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই চিকিত্সক বলেন, ভুক্তভোগী যদি এমন কিছু খুঁজে পান যা তার জীবনে একটা পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে দুঃখবোধটাও অনেক কমে যায়৷ এই প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দেন তিনি৷ এক মহিলা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর শোকাভিভূত হয়ে পড়েন৷ কিন্তু যখন থেকে তিনি পাশের বাড়ির এক অসহায় মহিলাকে সাহায্য করতে শুরু করেন, তখন থেকে নিজের দুঃখবোধও অনেকটা কমে যায়৷ সামাজিক কাজকর্ম, অন্যের প্রতি ভালবাসা, দায়িত্ববোধ এসব মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়৷ নিজের ক্ষতিকে ঘিরে থাকে না আর৷

মানসিক অসুস্থতা নয়

এই মনস্তাত্ত্বিক সতর্ক করে বলেন, দুঃখবোধকে মানসিক বৈকল্য বা অসুস্থতার সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘অসুখী বোধ করা একটি গভীর যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি৷ এটা কোনো অসুস্থতা নয়৷ অনেককে বলতে শোনা যায় তারা অসুখী এবং ডিপ্রেশনে ভুগছেন৷ শোক অনুভব করা সুস্থ মানুষের নিতান্তই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া৷''

মিউনিখের সাইকোথেরাপিস্ট ও কোচ স্টেফান লেরমার মনে করেন শোক ও ‘অসুখ' মানুষের জীবনেরই অঙ্গ৷ আলো ও ছায়ার মতো৷ সুখ খুঁজতে হলে প্রয়োজন আত্মআবিষ্কার৷ ‘‘মানুষের নিজের চাহিদাটা জানতে হবে৷ জানতে হবে আমি কী চাই? আমার কাছে কী গুরুত্বপূর্ণ? ভোগ মানুষকে সুখী করতে পারে না৷ এটা বলা যায়, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা সুখকে ধ্বংস করতে পারে৷ অন্যকে সুখী করতে পারলে নিজেও সুখ পাওয়া যায়৷''

মনস্তত্ত্ববিদ লেরমার বলেন, আগে অনেকে পরকালে সুখ পাওয়ার আশা করতেন৷ আজ এই মনোভাব পালটে গেছে৷

সুখ হলো বেতার তরঙ্গের মতো৷ এটা সবসময় থাকে৷ একে শুধু বের করে আনতে হয়৷ বলেন শ্টেফান লেরমার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন