1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সীমান্ত হত্যা কমছে না, আস্থা নেই ফেলানী হত্যার বিচারে

ফেলানী হত্যার পুনর্বিচারের আশ্বাস পাওয়া গেলেও, বিএসএফ-এর আদালতে ন্যায় বিচারের আশা নেই, বলছেন মানবাধিকার কর্মীরা৷ তাঁদের কথায়, বিএসএফ-এর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি৷ বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা৷

২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয় কিশোরী ফেলানী৷ তার লাশ দীর্ঘ সময় কাঁটাতারের ওপর ঝুলে ছিল৷ এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে বিএসএফ প্রাথমিক তদন্ত করে তাদের নিজস্ব আদালতে বিচার শুরু করে৷ ২০১৩ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর বিএসএফ-এর আদালত বিএসএফ জওয়ান আসামি অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়৷ পরবর্তীতে এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলে একই আদালত মামলাটির পুনর্বিচার করে৷ চলতি বছরের ৩রা জুলাই দেয়া রায়ে আবারো অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেয় বিএসএফ-এর নিজস্ব আদালত৷ এ রায়ের বিরুদ্ধে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের মানবাধিকার সংগঠনগুলোও অবস্থান নিয়েছে৷

এরপর গত সপ্তাহে ভারতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, ‘‘ফেলানীর পরিবার চাইলে বিএসএফ আবারো রায় পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেবে৷''

Bangladesch Dhaka Tod von Felani Khatun

ফেলানী হত্যার প্রতিবাদ...

এ বিষয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠস আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যদি পুনর্বিচারের কথা বলা হয় তাহলে তা হতে হবে সিভিল আদালতে৷ কারণ বিএসএফ-এর নিজস্ব আদালতে ন্যায় বিচার যে পাওয়া যাবে না, তা এরইমধ্যে প্রমাণ হয়েছে৷ তারা আসলে তাদের আদালতে ফের বিচার করার নামে আরেকটি প্রহসন করতে চায়৷''

ফেলানী হত্যা মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বিএসএফ-এর তদন্তেই প্রমাণিত যে, অমিয় ঘোষ ফেলানীকে হত্যা করেছেন৷ অথচ বিচারে বলা হচ্ছে, ঘোষ আত্মরক্ষার জন্য গুলি করেছেন, তাই তিনি নির্দোষ৷ নিরস্ত্র এক কিশোরী কিভাবে একজন সশস্ত্র বিএসএফ জওয়ানের জীবনের প্রতি হুমকি হতে পারে?'' তাই তিনি বলেন, ‘‘এবার বিএসএফ-এর বাইরে কোনো আদালতে আমার বিচার চাই৷ আমারা অতি দ্রুত পুনর্বিচারের আবেদন করব৷''

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমি আমার সন্তান হত্যার ন্যায় বিচার পাইনি৷ আমি ন্যায় বিচার চাই৷''

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নানা ইতিবাচক দিক এখন আমরা দেখতে পেলেও, সীমান্তের ব্যাপারে কোনো উন্নতি দেখতে পাচ্ছি না৷ সীমান্ত হত্যাসহ নির্যাতন এবং অপহরণ আগের মতোই চলছে৷''

আসক-এর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সীমান্তে ২৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বিএসএফ সদস্যদের হাতে৷ তাঁদের মধ্যে ১৫ জনকে গুলি ও আটজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷ এছাড়া অপহরণ করা হয় প্রায় ১১০ জনকে৷ ২০১৪ সালে বিএসএফ-এর হাতে নিহত হয় ৩৩ জন আর ২০১৩ সালে হত্যা করা হয়েছিল ৩৮ জন বাংলাদেশিকে৷

নূর খান বলেন, ‘‘এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় যে, সীমান্তে বাংলাদেশিদের প্রতি বিএসএফ-এর মনোভাব কেমন৷ ভারতের শীর্ষ পর্যায় থেকে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার কথা বার বার বলা হলেও, বাস্তবে তার প্রমাণ মিলছে না৷''

ফেলানী হত্যা মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘‘সীমান্তে সত্যিই যদি হত্যা বন্ধ করতে চাইতো বিএসএফ, তাহলে ফেলানী হত্যা মামলার রায় নিয়ে এত নাটক করত না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়