1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

‘সীমান্ত রক্ষীদের সমন্বয় বাড়লে হত্যা কমবে’

বাংলাদেশের তিনদিকে ভারতের সীমান্ত৷ প্রায়ই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশিদের৷ দুই দেশের শীর্ষ নেতারা সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার কথা বললেও, তা শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে৷

কেন সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা যাচ্ছে না? বাংলাদেশ সরকারের এক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য আছে কি? শুধু অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণেই কি সীমান্ত এলাকার মানুষ রাতের আধাঁরে অবৈধ মালামাল এপার-ওপার আনা-নেয়া করেন? কী করলে সীমান্ত এলাকার মানুষদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত করা যাবে? ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে এ সব বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ভারতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর৷ দু'বার ভারতের কলকাতা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি৷ প্রথমবার, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত প্রথম সচিব আর দ্বিতীয়বার, ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের এই প্রবীণ কূটনীতিক৷

ডয়চে ভেলে: আপনি তো বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন৷ কলকাতা মিশনেও আপনি ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন৷ তা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কেন আমরা এ ধরনের ‘হত্যার ঘটনা' বন্ধ করতে পারছি না? আন্তরিকতা দু'দেশেরই আছে৷ কিন্তু তার ফল আসে না কেন?

অডিও শুনুন 06:06

‘বিএসএফ-এ যাদের আনা হয়, তাদের অনেকেই এ অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত না’

হুমায়ুন কবীর: আমার মনে নয়, এক্ষেত্রে দু-একটা বিষয় কাজ করে৷ প্রথম হলো – নীতিগত পর্যায় থেকে আমরা চাই এ ধরনের ঘটনা না ঘটুক৷ এটাকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমরা প্রতিশ্রুতিও পাই৷ কিন্তু তা কাজে লাগে না৷ অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি আর কাজের মধ্যে একটা তফাৎ আমরা দেখি৷ এর কারণ একটা হতে পারে যে, সীমান্তে যে ধরনের কর্মকাণ্ড চলে তা নিয়ে দুই পাশেই এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা কাজ করে৷ এই ধরনের ঘটনা যে ঘটে, সেটা অধিকাংশ সময় রাতেরবেলায় ঘটে৷ ভারতীয় দিক দিয়ে বলা হয়, তারা মাঝে মধ্যে আক্রমণের শিকার হন৷ আমি জানি না এটা কতটা সত্য৷ কিন্তু আমার মনে হয়, ওদিকে এক ধরনের ‘নার্ভাসনেস' কাজ করে৷ বিএসএফ-এর যারা সীমান্তে পাহাড়া দেন তারা অনেক সময় ভীত থাকেন, যে কারণে খুব সহজেই তারা ‘কিলিংয়ে' যান৷ সীমান্তে যদি কোনো অন্যায় ঘটে, সেটা দেখার জন্য দু'দেশের মধ্যে ব্যবস্থা আছে৷ গ্রেপ্তার করা যেতে পারে, অন্যান্য ব্যবস্থাও নেয়া যায়৷ তাই আমার মনে হয়, কিলিংয়ের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়াটা আসলে নার্ভাসনেস-এর ফলে৷

আরেকটা বিষয় হলো, এ ধরনের ঘটনাটা বেশি ঘটছে ২০০১ সালের পর থেকে৷ অর্থাৎ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সে সময় যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তখন থেকে৷ তাছাড়া বিএসএফ-এ যাদের আনা হয়, তাদের অনেকেই এই অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত না৷

এছাড়া তৃতীয়ত যে কারণটি হতে পারে সেটা হলো, স্থানীয় পর্যায়ে এমন কোনো বিষয় আছে যে কারণে নীতিগত পর্যায় থেকে বারবার বলার পরও সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আনা যাচ্ছে না৷

আমাদের সরকারের কি কোনো শৈথিল্য আছে? রাতেরবেলায় যে ঘটনাগুলো ঘটছে, যেটাকে আমরা চোরাচালান বা অনিয়মিত কাজ বলি, সেটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না কেন? কেন আজও আমাদের সীমান্ত এলাকার মানুষদের এপার-ওপার হতে গিয়ে জীবন দিতে হচ্ছে?

আমি আসলে সরকারের শৈথিল্য বলবো না৷ আসলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বলুন বা ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত – আমাদের এই এলাকায় সীমান্ত এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল৷ ফলে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মিত কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে এ সব সীমান্তে৷ তাই এই এলাকাগুলোকে আমরা যদি আর্থিকভাবে সচল করতে পারতাম বা আকর্ষণীয় করতে পারতাম, তাহলে সীমান্তের উভয় পাড়ে যে অনিয়মিত কাজগুলো হয় সেগুলোকে বন্ধ করা যেত৷

আপনি নিজে যখন কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন, তখনও নিশ্চয় এই বিষয়গুলো সরকারের নজরে এনেছেন? সরকারকে জানিয়েছে যে, আমাদের সীমান্ত এলাকার মানুষ দরিদ্র৷ তারা আসলে আর্থিক কারণেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এপার-ওপার করে অনৈতিক কাজগুলো করছে৷ এক্ষেত্রে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ কি করা যায়নি?

সেটা তো বরাবরই করা হয়েছে৷ এই ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সরকারি পর্যায় থেকে সেটা সবসময়ই চাওয়া হয়৷ আমরাও চেয়েছি৷ ভবিষ্যতে যারা আসবেন তারাও চাইবেন৷ তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে৷ আমাদের এখানে সীমানাগুলো এমনভাবে চিহ্নিত হয়েছ যে, দু'পাশেই মানুষের বাস৷ ঐতিহাসিকভাবে এ সব এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আগেও চলেছে, এখনও চলছে৷ অনেকক্ষেত্রে নিয়মিত কর্মকাণ্ডও চলেছে৷ এটা নিয়ন্ত্রণে আনা, আমার মনে হয়, সরকারের ক্ষমতারও বাইরে৷ সরকার তো প্রত্যেকটা মানুষকে পাহাড়া দিতে পারে না৷ তাছাড়া মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তার নিজের প্রয়োজনে৷

এর সাধাধান কী? আসল ঘাটতিটা কোথায়? দুর্বলতাটাই বা কোনখানে?

গত দু'বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে ‘কোঅর্ডিনেটেড'ভাবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নতি করার জন্য কাজ চলছে৷ আমি আশা করি, দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা যদি তাদের মধ্যে ‘কোঅর্ডিনেশন'টা বাড়াতে পারে, তাহলে সীমান্ত হত্যা অনেক কমে আসবে৷

আপনি কি সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে একমত? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়