1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

সিরিয়ায় সক্রিয় জার্মান জিহাদি

বর্তমানে সিরিয়ায় জার্মানি থেকে আসা প্রায় ২০০ ইসলামপন্থি আছে, যারা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করার পর একটা বড় রকমের বিপদ হয়ে উঠতে পারে৷ ওদিকে তারা বাস্তব যুদ্ধের বিভীষিকাকে চিনেছে৷

জার্মান জিহাদিদের দৃষ্টিকোণ থেকে সিরিয়ায় যাওয়ার নানা যুক্তি আছে৷ সেখানে তারা জিহাদি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষ, অর্থাৎ ‘‘অবিশ্বাসীদের'' বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে৷ সেখানে তারা শিয়া-সুন্নি সংঘাতে সামিল হতে পারে, যার উপর নাকি মধ্যপ্রাচ্যে কোন সম্প্রদায়ের আধিপত্য কায়েম হবে, তার নিষ্পত্তি নির্ভর করবে৷ এছাড়া সিরিয়ার ধ্বংসস্তূপে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও কিছু কম লোভনীয় নয়৷

সিরিয়ায় ‘‘জার্মান ক্যাম্প''

এই সব লক্ষ্য সামনে রেখে অনেক সুন্নি চরমপন্থি আজ সিরিয়ার মাটিতে অস্ত্র হাতে করেছে – এমনকি তাদের সংখ্যা দশ হাজার হতে পারে৷ তাদের কাছে আল-কায়েদার আদর্শের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জিহাদের মিল আছে৷ সিরিয়ায় আরো যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ইসলামপন্থি রয়েছে, তারা মূলত আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই ব্যস্ত, বিশ্বব্যাপী জিহাদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কে নেই৷জার্মানির ‘‘ডের স্পিগেল'' পত্রিকা ফেডারাল গুপ্তচর বিভাগের সূত্রে জানাচ্ছে যে, সিরিয়ায় জার্মানি থেকে আসা শ'দুয়েক তথাকথিত জিহাদিরা অবস্থান করছে৷ তাদের অধিকাংশই এসেছে পশ্চিমের নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য থেকে – এছাড়া হেসে, বার্লিন, বাভেরিয়া ও হামবুর্গ রাজ্য থেকেও কিছু কিছু জিহাদি আছে৷ এদের অর্ধেকের বেশির জার্মান নাগরিকত্ব আছে৷ দৃশ্যত জার্মানি থেকে আগত জিহাদিরা সিরিয়ায় ‘‘জার্মান ক্যাম্প'' নামে পরিচিত একটি শিবিরে বাস করে৷

Vehicles burn after an explosion at central Damascus February 21, 2013, in this handout photograph released by Syria's national news agency SANA. The big explosion shook the central Damascus district of Mazraa on Thursday, residents said, and Syrian state media blamed what it said was a suicide bombing on terrorists battling President Bashar al-Assad. Syrian television broadcast footage of at least four bodies strewn along a main street and firefighters dousing the charred remains of dozens of burning vehicles. Black smoke billowed into the sky. REUTERS/Sana (SYRIA - Tags: CONFLICT POLITICS TPX IMAGES OF THE DAY) ATTENTION EDITORS - THIS PICTURE WAS PROVIDED BY A THIRD PARTY. REUTERS IS UNABLE TO INDEPENDENTLY VERIFY THE AUTHENTICITY, CONTENT, LOCATION OR DATE OF THIS IMAGE. FOR EDITORIAL USE ONLY. NOT FOR SALE FOR MARKETING OR ADVERTISING CAMPAIGNS. THIS PICTURE IS DISTRIBUTED EXACTLY AS RECEIVED BY REUTERS, AS A SERVICE TO CLIENTS

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ধ্বংসস্তূপ

জিহাদি, কিন্তু যোদ্ধা নয়

সিরিয়ার যুদ্ধে জার্মানি থেকে আসা জিহাদিরা কি ভূমিকা পালন করছে, তা বলা শক্ত৷ তাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও হয় সীমিত, নয়ত অনুপস্থিত৷ সে তুলনায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক জিহাদি বসনিয়া, আফগানিস্তান কিংবা ইরাকে যুদ্ধ করে এসেছে৷ তাদের আছে অভিজ্ঞতা৷ অপরদিকে জার্মানি থেকে আসা জিহাদিদের আছে আদর্শবাদ৷ কিন্তু প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা ছাড়া তারা ‘যোদ্ধা' হয়ে উঠতে পারে না৷

কিন্তু যোদ্ধা না হলেও, ইসলামপন্থিদের কাছে এই জার্মান জিহাদিদের অন্যান্য উপযোগিতা থাকতে পারে৷ তাদের মধ্যে হয়ত এমন কেউ আছে, যে অর্থসংগ্রহ কিংবা সংগঠনের কাজটা ভালো বোঝে এবং পারে৷ কেউ হয়ত মিডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারে – যেমন ইন্টারনেটের মাধ্যমে নতুন রংরুট সংগ্রহ করতে পারে৷ কাজেই জার্মান জিহাদিদের কাজের অভাব হয় না৷

জার্মান জিহাদিরা আর্বি ভাষা না জানার ফলে অন্যান্য দেশ থেকে আসা জিহাদিদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলতে পারে না৷ সেটাও তাদের সিরিয়ায় নিঃসঙ্গ বোধ করার একটা কারণ৷ এছাড়া তাদের এই বিদেশে যেভাবে থাকতে হয়, যা খেতে দেওয়া হয়, সমৃদ্ধ দেশ জার্মানি থেকে এসে তারা তা-তে অভ্যস্ত নয়৷ অপরিচিত সব রোগ, সেই সঙ্গে জীবনের ভীতি – কেননা ইসলামপন্থিদের প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির উপরে প্রায়শই আক্রমণ চালিয়ে থাকে আসাদ বাহিনী৷

না পাসপোর্ট, না টাকা

জার্মান জিহাদিরা এই সব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে যখন দেশে ফেরে, তখন তাদের মনের অবস্থা কি থাকে, তা বলা শক্ত৷ তারা এদেশে কি এবং কতটা বিপদ সৃষ্টি করতে পারে, সেটা যাচাই করার জন্য আগে জানা দরকার, তারা সিরিয়ায় কি শিখেছে, এবং কতটা জিহাদি চেতনা ও প্রেরণা নিয়ে ফিরে এসেছে৷ অন্তত তাদের পূর্ণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মরিয়া সন্ত্রাসবাদি বলে গণ্য করার আপাতত কোনো কারণ নেই, বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷

জার্মান গুপ্তচর বিভাগ বলে, জার্মান জিহাদিদের অনেকেই বিদেশে যে হতাশাজনক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে, তার ফলে তারা দেশে – অর্থাৎ জার্মানিতে ফিরতে উদগ্রীব৷ কিন্তু সেটাও সহজ কথা নয়, কেননা তারা হয়ত ভিসা না নিয়ে ঢুকেছে, এমনকি পাসপোর্ট নেই, আর্থিক সম্বল তো নেই-ই৷ কাজেই শেষমেষ জার্মান দূতাবাসের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়