1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে ‘প্রচারনা যুদ্ধ'

বাশার আল-আসাদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার শাসকগোষ্ঠী আবারো নিজের দেশের মানুষের উপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, এই দাবি সেদেশের বিরোধী পক্ষের৷ তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে ঠিক গ্যাস হামলার দিকে যাওয়া কথা নয় আসাদের৷

কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত প্ররোচনা? যে মুহূর্তে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সেদেশে পা রাখলেন জাতিসংঘের পরিদর্শকরা, তখনই বিরোধী পক্ষ এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের নতুন অভিযোগ নিয়ে এলো৷

যদি এসব অভিযোগ প্রমাণ হয়, তাহলে সিরিয়া যুদ্ধ এক নতুন মাত্রা পাবে – যেখানে বলা হচ্ছে দামেস্কের কাছে রাসায়নিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছে তেরশো'র বেশি মানুষ, আহত কয়েক শত৷ অন্তত সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সিরিয়ান রেভোলিউশনারি' এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এই তথ্য৷

‘ভীতি প্রদর্শন নয়, সমূলে উৎপাটন'

ডয়চে ভেলের এক প্রশ্নের জবাবে সিরিয়া সরকারের বিরোধীপক্ষের জোটের অন্যতম মুখপাত্র হিশাম মারওয়া বলেন, ‘‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, কমপক্ষে ৮০০ মানুষ মারা গেছেন৷ আর এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন৷''

সিরিয়ার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জ সাবরাও এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন৷ ইস্তানবুলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘‘এবার আর শাসকগোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়নি, বরং তাদের সমূলে উৎপাটন করেছে৷'' তবে হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি৷

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সানাকে জানিয়েছে, ‘‘বিরোধী পক্ষের অভিযোগ মিথ্যা৷'' সরকারের দাবি, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার তদন্তে সিরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যকার সমঝোতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বিরোধী ‘সন্ত্রাসীরা'৷ আর একারণেই সরকারের উপর দায় চাপাতে নতুন এই হামলার খবর প্রকাশ করেছে তারা৷

Syrien Rebellen berichten von Giftgasangriff im Region Ghouta

হিশাম মারওয়ার দাবি, কমপক্ষে ৮০০ মানুষ মারা গেছেন

উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ মারগ্রেট জোহানসেন মনে করেন, প্রথমে এসব হামলার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পরিষ্কার হতে হবে৷ কারা এসব হামলা চালাচ্ছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘যদি এগুলো বাশার আল-আসাদ করে থাকেন, তার অর্থ হবে তিনি তাঁর কৌশল আমূল বদলেছেন৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো যৌক্তিক কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না৷ অন্তত শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে৷''

এই বিষয়টি সত্য কেননা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যেই বলেছে, সিরিয়া যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হবে ‘রেড লাইন' লঙ্ঘনের সামিল৷ যার অর্থ হচ্ছে, সিরিয়া যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে পশ্চিমা দেশগুলো সেদেশের বিরুদ্ধে আরো শক্ত পদক্ষেপ নেবে৷ আর সেই পদক্ষেপ আকাশ পথে সেদেশে অভিযান কিংবা তার বেশিকিছুও হতে পারে৷ তাছাড়া জোহানসেনের মতে, ‘‘সামরিকক্ষেত্রে আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও এরকম অস্ত্র ব্যবহারের কোন প্রয়োজন আদৌ বাশার সরকারের আছে কিনা দেখতে হবে৷''

হিশাম মারওয়া বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন৷ তাঁর মতে, যৌক্তিক কারণেই বাশার প্রশাসন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে কেননা তারা এখন সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে৷ বুধবার হামলার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে তারা জানাতে চেয়েছে, ‘রেড লাইন' হুমকি নিয়ে ভীত নয় বাশার প্রশাসন৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা এই সংকেত দেয় যে, শাসকগোষ্ঠী অনেক মানুষকে হত্যা এবং বিপ্লব বন্ধের জন্য প্রস্তুত৷''

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের পরিদর্শকদলের তদন্ত তিনটি নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ৷ তারমধ্যে সর্বশেষ হামলার স্থল অন্তর্ভুক্ত নেই৷ আর এসব হামলার উৎপত্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে না জানা পর্যন্ত, ‘প্রোপাগ্যান্ডা ওয়ার' বা ‘প্রচারনা যুদ্ধ' চলতেই থাকবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়