1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সিরিয়া

সিরিয়ার রাকায় ইসলামিক স্টেটের শেষ লড়াই

‘এক দল বিদেশি যোদ্ধাকে মাঝখানে রেখে’ রাকায় শেষ লড়াই-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গি গোষ্ঠী৷ অপরদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এই জঙ্গিদের নিরাপদ পশ্চাদপসারণের সুযোগ দিতে নারাজ৷

ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের হাত থেকে সিরিয়ার রাকা শহরকে মুক্ত করার যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ অবশিষ্ট আইএস যোদ্ধারা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, বলে ধরে নিচ্ছেন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডিলন৷ 

তিনি জানান, ৪০০ অবধি জঙ্গি এখনও রাকায় অবস্থান করছে, বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ দৃশ্যত তাদের অধিকাংশ রয়েছে রাকার ঐতিহাসিক কেন্দ্রে, যেখানে আইএস তাদের শত্রুদের প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ ও ক্রশবিদ্ধ করত৷

‘‘বিদেশি যোদ্ধারা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালাবে, বলে আমরা প্রত্যাশা করছি৷ আইএস যোদ্ধাদের মধ্যে বিদেশি যোদ্ধাদের একটি কট্টর গোষ্ঠী রয়েছে,'' বলেন ডিলন৷ ‘‘কিন্তু গতমাসে আমরা প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচজন আইসিস যোদ্ধাকে আত্মসমর্পণ করতে দেখেছি, যাদের মধ্যে আমিররাও আছে,'' বলে ডিলন মন্তব্য করেন৷ এই আমিররা হলো রাকায় আইএস-এর স্থানীয় নেতৃবর্গ৷

গত জুন মাসে মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) রাকা অবরোধ করে একটি বহুমুখী অভিযান শুরু করে৷ এসডিএফ প্রধানত কুর্দি ও আরব যোদ্ধাদের একটি জোট৷ রাকা অভিযানে এসডিএফ-কে আকাশ থেকে সাহায্য করছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জেট৷

রাকা অবরোধে বেসামরিক ব্যক্তিরা আটক

জাতিসংঘের বিবৃতি অনুযায়ী প্রায় ৮,০০০ বেসামরিক ব্যক্তি রাকায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন৷ তাদের ‘মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় রাকা সিভিক কাউন্সিল বা রাকা পৌর পরিষদ আইএস-এর সঙ্গে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করেছে৷ আইএস-এর পতনের পর রাকার অস্থায়ী প্রশাসন হিসেবে এসডিএফ এই পৌর পরিষদ সৃষ্টি করে৷ 

‘‘দায়েশ-এর হাতে আটক বেসামরিক বাসিন্দাদের (রাকা) শহর পরিত্যাগের শ্রেষ্ঠ উপায় সম্পর্কে রাকা পৌর পরিষদ কথাবার্তা চালাচ্ছে৷ সন্ত্রাসবাদীরা বেসামরিক বাসিন্দাদের একাংশকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে,'' বলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের তরফ থেকে বলা হয়৷ ‘‘রাকা থেকে পলায়নপর ব্যক্তিদের মধ্যে যারা দায়েশ-এর হয়ে লড়াই করেছে, বলে জানা যাবে, তাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে বিচারের জন্য তুলে দেওয়া হবে৷''

এখনও ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহ ও স্থানীয় গোষ্ঠীবর্গের আক্রমণে গত এক বছরে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ক্রমেই আরো ছোট হয়ে এসেছে৷ ইরাকের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনী এ বছরের গোড়ায় মোসুলকে মুক্ত করে, যা আইএস-এর বিরুদ্ধে একটি বড় জয় হিসেবে উদযাপিত হয়৷

২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়া জুড়ে অভিযান চালিয়ে শেষমেষ মোসুল দখল করে, যেখানে আইএস নেতা আবু-বকর আল-বাগদাদি ঐতিহাসিক আল-নুরি মসজিদ থেকে ইসলামিক স্টেটের খেলাফত ঘোষণা করেন৷

আইএস তার দখলীকৃত এলাকার একটি লক্ষণীয় অংশ হারালেও, আইএস-এর বিদেশি যোদ্ধাদের একাংশ ইউরোপে প্রত্যাবর্তন করার পর তারা যে ধরণের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হতে পারে, সে ব্যাপারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট উদ্বিগ্ন৷ 

এসি/জেডএইচ (রয়টার্স, এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়