1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি লঞ্চ ব্যবসা!

পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিককে বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে৷ সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আবু বকর নিজের দায় অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁরা একটি সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি৷

বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে র‌্যাব পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে৷ বৃহস্পতিবার তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে ১৮ আগস্ট রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন৷

গত ৪ আগস্ট মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাওড়াকান্দি থেকে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাওয়ায় আসার পথে বেলা ১১টার দিকে ডুবে যায় পিনাক-৬৷ এ ঘটনায় মোট ৪৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে৷ ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত না করে গত সোমবার উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়৷

এ ঘটনায় মাওয়া নৌপরিবহণ পরিদর্শক (টিআই) জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া বাদী হয়ে পিনাকের মালিক আবু বকর সিদ্দিকসহ ছয়জনকে আসামি করে লৌহজং থানায় মামলা দায়ের করেন৷ আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন৷

গ্রেফতার হওয়ার পর বুধবার আবু বকর সিদ্দিক এই লঞ্চ দুর্ঘটনার দায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) ও ঘাট ইজারাদারদের ওপর চাপান৷ তাঁর দাবি, লঞ্চে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া ছিল৷

আবু বকর সিদ্দিক মুন্সিগঞ্জের মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি৷ ব়্যাব তাঁকে গ্রেফতারের পর মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে৷

তার আগে আবু বকর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘ঘাট ইজারাদারদের অনুমতি ছাড়া লঞ্চ ছাড়া যায় না৷ তারা যাত্রী দেয়৷ ৭০-৮০ জন যাত্রী উঠলে ভাড়া পাওয়া যায় ১০-২০ জনের৷ বাকি টাকা ইজারাদার রেখে দেয়৷ মাঝখানের ঘাটে না থামলে পরের দিন সিরিয়াল মেলে না৷ বিআইডাব্লিউটিএ-র লোকজন এসব জেনেও কিছু বলে না৷''

আবু বকর সিদ্দিকের দাবি, ঘাট তদারক করেন ইয়াকুব আলী নামের এক ব্যক্তি৷ তিনি আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন৷ এখন আওয়ামী লীগ করেন৷ ঈদের সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকে জানিয়ে পিনাক-৬-এর মালিক বলেন, ‘‘ঈদের সময় ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার পরও যাত্রীরা লাফিয়ে উঠে পড়েন৷''

চার বছর আগে মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১১ লাখ টাকায় লঞ্চটি কিনেছিলেন আবু বকর৷ তিনি জানান, আগের মালিক লঞ্চটির নাম পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করেননি৷ পিনাক-৬ লঞ্চ চলাচলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার লঞ্চ স্টিল বডির৷ ফিটনেসসহ আমার লঞ্চের সব কাগজ ঠিক ছিল৷''

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, দুর্ঘটনার পর আবু বকর সিদ্দিক বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন৷ লঞ্চডুবির ঘটনায় করা মামলার অন্য পাঁচজন আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে৷ এই ঘটনায় লঞ্চের মাস্টার (চালক), সারেং, সুকানিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও মালিক ছাড়া কেউ এখনো গ্রেফতার হয়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন