1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সিনেমাতেও প্রলয়ের ইঙ্গিত দেখছে সরকার!

না, ভূতের সিনেমা নয়, বরং বাস্তবিক একটি সত্য ঘটনা নিয়েই তৈরি হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি৷ নাম – ‘প্রলয়’৷ কিন্তু তার মধ্যেই প্রভাব হারানোর ভূত দেখছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার!

অস্বস্তির ঢোঁক গেলার কথা কেউই স্বীকার করছেন না, কিন্তু মূলধারার বাণিজ্যিক বাংলা ছবির জনপ্রিয় পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিকতম ছবিটি সেন্সরে আটকে গিয়েছে, কারণ, খোদ মুখ্যমন্ত্রী নাকি এই ছবির কিছু দৃশ্য এবং সংলাপ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন! ‘প্রলয়' নামে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ঐ ছবিটি বাস্তবের একটি চরিত্র এবং কিছু ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি৷ ঘটনাচক্রে মাত্র কিছুদিন আগে যে ঘটনার বর্ষপূর্তি হয়ে গেল৷

একদল অপরাধীর বেপরোয়া অরাজকতার বিরুদ্ধে শুধু নিজে প্রতিবাদ করা নয়, গণ-প্রতিবাদ সংগঠিত করেছিলেন এক যুবক স্কুল শিক্ষক৷ উত্তর ২৪ পরগণার সুটিয়ায় একদল দুষ্কৃতি একটি এলাকার বাসিন্দা ৩৩ জন মহিলাকে দিনের পর দিন গণধর্ষণ করে আসছিল৷ বরুণ বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক এই ধারাবাহিক নিগ্রহের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন৷ ‘প্রতিবাদী মঞ্চ' নামে একটি নাগরিক জোট গড়েন বরুণ, যেখান থেকে এলাকার আরও নানা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষ৷

দৃষ্টান্তমূলক সেই গণ আন্দোলনের ঘটনা পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে, যা উত্তর ২৪ পরগণার ওই এলাকায় তথাকথিত ‘পরিবর্তন'-এরও সহায়ক হয়েছিল৷ কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, অর্থাৎ পরিবর্তনের সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিবাদী স্কুল শিক্ষককেই প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করেছিল একদল দুষ্কৃতি৷ সেখানেই শেষ নয়, জখম যুবক রাস্তায় পড়ে থেকে অবিরল রক্তক্ষরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন৷ খুনে মাস্তানদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কেউ তাঁকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার সাহসও দেখাতে পারেনি৷ সেই বরুণ বিশ্বাসকে নিয়েই পরিচালক রাজ চক্রবর্তী বানিয়েছেন তাঁর নতুন ছবি ‘প্রলয়'৷

যদিও ছবিটি সেন্সরে আটকে যাওয়া এবং সেই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই রাজ্যের নতুন সরকার এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রলয় আদৌ সুটিয়ার বরুণ বিশ্বাসকে নিয়ে তৈরি ছবি নয়, কাল্পনিক ঘটনা৷ যদিও প্রলয় ছবির ‘ফার্স্ট লুক' এবং যে পোস্টার রাজ চক্রবর্তী প্রকাশ করেছেন, সেটা সুটিয়ায় গিয়ে এবং বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুর বর্ষপূর্তির দিন৷ সে ব্যাপারে রাজ চক্রবর্তীর দুর্বল সাফাই, বরুণ বিশ্বাস যেহেতু একজন পরিচিত প্রতিবাদী মুখ, সেজন্য তিনি তাঁর নাম এবং মৃত্যুর দিনটি প্রচারের কাজে ব্যবহার করেছেন মাত্র৷ তবে বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত মানুষজনের বক্তব্য, রাজ চক্রবর্তী যদি বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুর দিন সুটিয়ায় গিয়ে, সংবাদমাধ্যমকে জুটিয়ে ঢাক-ঢোল না পেটাতেন, তা হলে মুখ্যমন্ত্রীর নজর হয়ত কোনো দিনই এই ছবির দিকে পড়ত না৷

একই ধরনের ঘটনার উদাহরণ হিসেবে তথ্যাভিজ্ঞ মহল জানাচ্ছে, একইভাবে সেন্সরে আটকে থাকা সুমন মুখোপাধ্যায় নির্দেশিত ‘কাঙাল মালসাট' ছবিটির কথা৷ নবারুণ ভট্টাচার্যের যে উপন্যাস নিয়ে তৈরি এই ছবি, তাতে যথারীতি নবারুণ-সুলভ প্রচুর খারাপ শব্দ এবং তার অশালীন প্রকাশভঙ্গী রয়েছে৷ সেন্সর বোর্ড সেই যুক্তিতেই ছবিটিকে ছাড়পত্র দিচ্ছে না৷ কিন্তু জনান্তিকে শোনা যাচ্ছে, ছবিটি বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপছন্দ, তার কারণ, তৃণমূল সাংসদ কবীর সুমনের এই ছবির একটি চরিত্রে অভিনয়, যে কবীর সুমন নানা সময়ে বহু দলবিরোধী মন্তব্য করে তৃণমূলনেত্রীর বিরাগভাজন হয়েছেন৷ যদিও প্রকাশ্যে সেকথা কেউই আলোচনা করছে না, কিন্তু ঘটনা হলো, এর থেকে অনেক বেশি খারাপ শব্দ বা গালিগালাজ নিয়ে একাধিক বাংলা ছবি হাসতে হাসতে সেন্সরের পরীক্ষায় পাশ করে গিয়েছে৷

কিন্তু এমন কী ঘটল, যাতে সুটিয়ার বরুণ বিশ্বাসকে নিয়ে সিনেমা শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে? নির্দিষ্টভাবে সেটা বলা না গেলেও নিহত বরুণ বিশ্বাসের বাবার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক ভালো নয়৷ তাঁর বিরুদ্ধে সীমান্তে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে রীতিমত এফআইআর করেছেন দুই স্থানীয় তৃণমূল নেতা৷ অন্যদিকে, বরুণের বাবা জগদীশ বিশ্বাস তাঁর ছেলের হত্যার পিছনে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত থাকার অভিযোগ তুলে ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন৷ সেখানে রাজ চক্রবর্তীর ছবি ‘প্রলয়' না ডেকে আনুক, কিছুটা অস্বস্তি এবং অশান্তি অবশ্যই ডেকে এনেছে মহাকরণের অন্দরমহলে৷