1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সিডনির আততায়ী ছিল ‘‘উদভ্রান্ত এবং অসুস্থ''

মন্তব্যটি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট’এর৷ নিহত অস্ট্রেলীয় সৈনিকদের পরিবারবর্গকে অবমাননাকর চিঠি লেখা থেকে শুরু করে নিজের স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী তালিকায় নাম ছিল না মন হারন মোনিস-এর৷

৫০ বছর বয়সি মোনিস উদ্বাস্তু হিসেবে ইরান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসে ১৯৯৬ সালে৷ ২০১৩ সালে তার ৩০-বছর-বয়সি স্ত্রীকে ১৮ বার ছুরি মেরে হত্যা করা হয় এবং মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ এ ঘটনা ঘটে সিডনির পশ্চিমাংশে৷ মোনিস ও তার বান্ধবী হত্যাকাণ্ডে সহযোগী ছিল, বলে অভিযোগ ওঠে৷ তা সত্ত্বেও ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জামিন দেন – যদিও মোনিস-এর বিরুদ্ধে মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের বহু অভিযোগ ছিল: মোনিস নাকি ‘স্পিরিচুয়াল হিলার' হিসেবে আধ্যাত্মিক উপায়ে রোগ নিরাময় করার নামে বহু মহিলাকে যৌন নির্যাতন করেছিল৷

কাজেই মোনিস এবার সিডনির কাফেটিতে হামলা চালানোর পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে: এ ধরনের একজন ব্যক্তি কোনোরকম নজরদারি ছাড়াই প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারে কীভাবে? প্রশ্নটি এবার মন্ত্রীসভায় আলোচিত হবে, বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট৷ অপরদিকে এ ধরনের একটি ‘‘অসুস্থ এবং মানসিকভাবে পীড়িত'' ব্যক্তিকেও ২৪ ঘণ্টা নজরে রাখা সম্ভব নয়, বলেন অ্যাবট৷

Sydney Twitter Aktion #Illridewithyou

সিডনি থেকে ঠুইটার অভিযান: ‘‘আই’ল রাইড উইথ ইউ’’

মোনিস সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয় ছিল, এমনকি উইকিপিডিয়াতেও তার নামে এন্ট্রি ছিল৷ দৃশ্যত মোনিস নিজেকে একজন ‘‘শহিদ' বলে মনে করত৷ সে নিজেকে বলত মৌলানা৷ সে যে শিয়া ইসলাম থেকে সুন্নি ইসলামে ধর্মমত পরিবর্তন করেছে, সে'কথাও মোনিস জানিয়েছে তার পোস্টিং-এ৷ তার এককালীন উকিল অ্যাডাম হুদার মতে মোনিসকে কেউ চিনতো না; তার কোনো গোষ্ঠী কিবা মসজিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না; তার কাজকর্ম সবই ছিল স্বেচ্ছাপ্রণোদিত৷ হুদার মতে, মোনিস কিছুটা খামখেয়ালি এবং আবেগপ্রবণ হলেও, বিপজ্জনক ছিল না৷ হুদার পরামর্শ সত্ত্বেও মোনিস মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে; তখন হুদা আর মোনিসকে মক্কেল রাখতে চাননি৷ এর পর মোনিস আদালতের বাইরে নিজেকে চেইন দিয়ে বেঁধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছে৷ গতবছর মোনিসকে ৩০০ ঘণ্টা সমাজসেবার দণ্ড দেওয়া হয়৷

মোনিস-এর মতাদর্শ যে কী ছিল, তা বলা শক্ত: ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর প্রতি তার আগ্রহ থাকলেও, আনুগত্য কতটা ছিল, তা অজ্ঞাত৷ অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ সিডনির কাফেতে পণবন্দি নেওয়ার ঘটনা ও তার রক্তাক্ত সমাপ্তির পর একদিকে যেমন দুঃখ-বেদনায় বিমূঢ়, অপরদিকে তারা যেন এক নতুন জাতীয় ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ৷ বিশেষ করে তাদের মুসলিম স্বদেশবাসীদের সঙ্গে সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশে অস্ট্রেলিয়া এবার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত রেখেছে: হ্যাশট্যাগ আই'লরাইডউইথইউ৷ আর হিজব পরিহিতা মুসলিম মহিলারা লিন্ড্ট কাফের সামনে ফুলের তোড়া রেখে যাচ্ছেন৷

এসি/ডিজি (এপি, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

  • তারিখ 16.12.2014