1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

সিগারেট নয় – এবার উপহারের জন্য স্বয়ংক্রিয় মেশিন

জার্মানির অনেক জায়গাতেই এখন অটোম্যাটিক বা স্বয়ংক্রিয় মেশিন থেকে সিগারেটের বদলে বের হয়ে আসে ছোট ছোট শিল্পকর্ম ৷ বেশ কিছু সিগারেটের মেশিনকে এইভাবে উপহারের মেশিনে রূপান্তরিত করা হয়েছে৷

default

এই সেই কেস থেকে শিল্প কর্ম

বন্ধু বান্ধবের কাছে যাওয়ার সময় কিংবা কোন জন্মদিনের উৎসবে উপহার কিনতে ভুলে গেলে এই মেশিনগুলির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে৷

‘কেস থেকে শিল্প কর্ম'

এইরকমই একটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন দেখা যাবে স্বাস্থ্যনিবাস বলে পরিচিত পর্যটকদের প্রিয় শহর বাড ম্যুন্সটারআইফেলে৷ সাদা বরফঢাকা রাস্তার পাশে ৬০'এর দশকের স্বয়ংক্রিয় সিগারেটের মেশিনটি রূপ বদলে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে, গায়ে টকটকে লাল কালিতে লেখা ‘কেস থেকে শিল্প কর্ম'৷ ছয়টি ইউরো মুদ্রা মেশিনে ঢোকালে একটি ড্রয়ার টানা যাবে, যাতে দেখা যাবে ছোট্ট সাদা এক প্যাকেট৷ মোড়কটি খুললেই বেড়িয়ে পড়বে সামনের কারুকার্যকরা রেস্তোরাঁ ভবন প্রিন্টেনহাউসের অনুকরণে তৈরি একটি মিনি বাড়ি৷ এই শিল্পকর্মটির স্রষ্টা ইউলিয়া ব্র্যুক এবং তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী হেক্টর গোবিকে বসে থাকতে দেখা যায় সেই কাফে রেস্তোরাঁটিতে৷ চার বছর আগে এই দুই শিল্পী ড্যুসেলডর্ফ থেকে আইফেল অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করছেন৷ গ্রামীণ শান্ত স্নিগ্ধ নিটোল পরিবেশ তাঁদের ভাল লেগে যায়৷ কিন্তু একটি জিনিসের অভাব বোধ করেন তাঁরা৷ এই প্রসঙ্গে ইউলিয়া বলেন, ‘‘এখানে তেমন কোনো অভিনব সুভেনির পাওয়া যেত না৷ এখন এই মেশিনটি থেকে নতুন নতুন ধরনের জিনিস বের হয়ে আসে৷''

শিল্পী ইউলিয়া আইফেলে এসে তৎপর হয়ে ওঠেন সৃজনশীল কিছু তৈরি করার জন্য৷ বড় বড় জিনিসের অনুকরণে ছোট ছোট মিনি শিল্পকর্ম গড়ে তুলতে থাকেন তিনি৷ হাতের আঁচড়ে রঙিন করে তোলেন সেগুলি৷ এখান সেখান থেকে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস দিয়ে কারুকার্যখচিত করে তোলেন সেগুলি৷ হাঁটতে হাঁটতে পথে পেয়ে যাওয়া পাথর, ফলমূল, ঘাস ইত্যাদি শিল্পের কাজে লাগান তিনি৷ বিশেষ করে এই অঞ্চলের বাড়িঘর, উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎ থেকে শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণা খুঁজে পান ইউলিয়া৷ সাদা ছোট ছোট কাগজের বাক্সে ভরে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে রেখে দেন জিনিসগুলি৷ ইউলিয়া জানান, ‘‘এর ফলে আমাকে কোনো দোকানের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়না এবং এমন সব এলাকায় পৌঁছে যেতে পারি, যেখানে কোনো দোকানপাট নেই৷ হঠাৎ কোনো উপহারের প্রয়োজন পড়লে এই স্বয়ংক্রিয় মেশিন থেকে তা পেয়ে যেতে পারে মানুষ৷''

ছড়িয়ে পড়ছে উপহার মেশিন

রাইন ও মোজেল নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে দেখা যাবে ১৬ টি স্বয়ংক্রিয় মেশিন, যাতে রয়েছে নানা আকর্ষণীয় মিনি শিল্পকর্ম৷ শিল্পী ইউলিয়ার বন্ধু হেক্টর গোবি কারিগরি ও ব্যবস্থাপনার দিকটি দেখাশোনা করছেন৷ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিগারেটের স্বয়ংক্রিয় মেশিন কিনে সেগুলিকে ঠিকঠাক করে রঙের প্রলেপ লাগিয়ে ঝকঝকে করে তোলেন তিনি৷ তারপর নির্দিষ্ট জায়গায় মেশিনগুলি বসিয়ে দেন, লক্ষ্য রাখেন সব ঠিকমতো চলছে কিনা৷ প্রয়োজন হলে নতুন শিল্প সামগ্রী দিয়ে মেশিনগুলি ভরে তোলেন৷ এই কাজটির সাফল্য সম্পর্কে কোনো সন্দেহ ছিলনা হেক্টরের৷ তিনি বলেন, ‘‘তা না হলে আমি বলতাম হাত সরিয়ে নাও এসব থেকে৷ এতে কোনো লাভ নেই৷ কিন্তু জিনিসগুলি ভাল হচ্ছে৷ ক্রেতারাও খুব খুশি৷ তারা বলেন, দাম বেশ কম৷''

এত পরিশ্রম সত্ত্বেও জিনিসগুলির দাম মাত্র ছয় ইউরো৷ এটা সত্যি খুব বেশি নয়৷ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই এই দাম৷ শীতকালে বিক্রি কিছুটা কম হলে গ্রীষ্মকালে সেটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়৷ শিল্পকর্মগুলি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান দুই শিল্পী৷ ইতোমধ্যে এই কাজ থেকে জীবনধারণ করতে পারছেন তারা৷ তবে মাঝে মাঝে একটু আধটু দুশ্চিন্তাও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে৷ ইউলিয়া বলেন, ‘‘প্রায় প্রতিদিনই আমার মনে হয়, আমি কি পাগল? আমি কী করছি, এতগুলি জিনিস আমি তৈরি করেছি, হাজারের বেশি তো হবেই৷''

ইউলিয়া ও হেক্টর তাঁদের অনেক ক্রেতাকেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন৷ অনেকের কাছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফিডব্যাকও পাওয়া যায়৷ রেস্তোরাঁ প্রিন্টেন হাউসের মালিক গ্যুন্টার পর্ট তাদেরই একজন৷ তাঁর কথায়, ‘‘এই মিনি শিল্পগুলি এত সুন্দর যে সবার জন্য তা প্রদর্শন করতে আগ্রহী আমি৷ অবশ্য বরফঢাকা শীতকালে নয়৷ বসন্ত বা গ্রীষ্মকালে৷ বাস চলাচল শুরু করলে যখন দৃশ্যটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হবে৷''

আসছে বসন্তে পর্যটকদের প্রিয় স্থানগুলিতে কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন স্থাপন করার পরিকল্পনা করছেন এই দুই শিল্পী৷ তাঁদের আশা, শুধু উপহারের জন্য নয়, নিজের শো'কেসের শোভাবর্ধনের জন্যও এই শিল্পকর্মগুলি কিনবে মানুষ৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়