1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সাহিত্যে ২০১০ এর নোবেল পেলেন মারিও ভার্গাস লোসা

সাহিত্যে ২০১০ সালের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণাটি হয়ে গেছে৷ ইতোমধ্যেই গোটা বিশ্ব জেনে গেছে, এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারটি কে পেয়েছেন৷ এবারের এই বিশেষ নোবেলটি যিনি জিতেছেন, তাঁর নাম মারিও ভার্গাস লোসা৷

default

মারিও ভার্গাস লোসা

তাঁর প্রথমদিকের উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে দ্য গ্রিন হাউস, কনভারসেশন ইন দ্য ক্যাথেড্রাল৷

জন্মেছিলেন ২৮ মার্চ ১৯৩৬ সালে৷ পেরুর দক্ষিণাংশের আরেকিপায় জন্মগ্রহণকারী লাতিন আমেরিকার ডাকসাইটে এই লেখক বহুমাত্রিক আর বহু বর্ণীল জীবনের অধিকারী৷ তাঁর সাহিত্যকর্ম আদতে তাঁর যাপিত জীবনের নানান অধ্যায়, যেখানে তিনি তাঁর জীবনের দর্শন আর চারপাশের পৃথিবীর সব রূঢ় বাস্তবতার ছবি এঁকেছেন৷

৭৪ বছর বয়স্ক এই লেখক সম্পর্কে এককথায় কোনকিছু প্রকাশ করাটা আসলেই রীতিমত এক দুঃসাধ্য কাজ৷ তিনি তাঁর পেশাদারি লেখক জীবনের শুরুটা করেছিলেন ছাত্রাবস্থাতেই, পেরুতে – রেডিও আর সংবাদপত্রে সাংবাদিকতা দিয়ে৷

১৯৫৫ তে, মাত্র উনিশ বছর বয়সে লোসা বিয়ে করেছিলেন জুলিয়া নামে সম্পর্কে তাঁর এক চাচীকে৷ পরে তাঁর একটি উপন্যাসও লিখেছিলেন ‘আন্ট জুলিয়া অ্যান্ড দ্য স্ক্রিপ্টরাইটার' নামে৷ এরপর ১৯৬৫ সালে সম্পর্কে এক বোনকে বিয়ে করেছিলেন লোসা৷

Peru Schweden Großbritannien Russland Nobelpreis Literatur 2010 Mario Vargas Llosa

লোসা জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায়

জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায়৷ ১৯৯৫ সালে স্পেনের বিখ্যাত সারভান্তেস পুরস্কার, ১৯৯৬ সালে জার্মান পিস প্রাইজ সহ অসংখ্য পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন লোসা৷ তাঁকে ইউরোপিয় ভাবধারার লেখক হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে৷ ফুহিমোরির শাসনামলে তিনি পেরুর প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দিতাও করেছিলেন৷ কিন্তু হেরে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯৯৩ সালে তিনি স্পেনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন৷

একসময় বামপন্থায় আস্থা ছিল তাঁর, অবশ্য শেষপর্যন্ত মুক্তবাজারের ছন্দেই নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন এই লেখক৷ যাকে বলে সব্যসাচী, লোসা হচ্ছেন তেমনই একজন৷ দুহাতে লিখেছেন, এ পর্যন্ত প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা ৩০ পেরিয়ে গেছে৷ এই উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক উপন্যাস, রগরগে রোমান্স, অপরাধ কিসসা, হালকা চালের কমেডি সহ নানান বিচিত্র সব বিষয়৷ লিখেছেন নাটক আর স্মৃতিকথাও৷

লোসা অপরাপর লেখকদের মতো সংবাদপত্রে লেখা আর সামাজিক হুলুস্থুলের বাইরে থাকতে চাননি৷ সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লিখেছেন, নিয়মিত পত্রিকাতেও লেখেন তিনি৷

তাঁর লেখায় বা সাহিত্যকর্মে তিনি প্রায়শই বাস্তবের রূঢ় ঘটনাকে এঁকেছেন৷ এটি তার লেখার একটি বৈশিষ্ট্যও বটে৷ এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, আর সহিংসতার বিভিন্ন নিষ্ঠুরতার বর্ণনা৷ সম্ভবত লেখক জীবনের শুরুর দিকের লিমা'র ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘লা ক্রোনিকা'য় অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদকের কর্ম অভিজ্ঞতার প্রভাব তার উপন্যাসে অবচেতন ছায়া ফেলেছে৷

খুব ঘুরে বেড়ান, অর্থাৎ ভ্রমণ ভালবাসেন৷ প্রায়শই বক্তৃতা আর বেড়ানোর কাজে তাঁকে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ছুটে বেড়াতে দেখা যায়৷ সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, একজন লেখকের কখনোই স্থবির হওয়া উচিত নয়৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমি কখনোই মনে করি না একজন লেখককে পৃথিবী বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল পাঠাগারের চৌহদ্দিতেই আটকে থাকতে হবে৷ যেমনটি প্রুস্ত ছিলেন৷ বাস্তবের হৃৎস্পন্দনটি আমি অনুভব করতে চাই প্রতি পল, চারপাশে কি ঘটছে.. তা লক্ষ্য করতে চাই৷''

প্রতিবেদন: হুমায়ূন রেজা

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়