1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘সাহিত্যের পোপ’ মার্সেল রাইশ রানিস্কির চিরবিদায়

জার্মানির সবচেয়ে খ্যাতিমান সাহিত্য সমালোচক তিনি৷ ১৮ই সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মার্সেল রাইশ রানিস্কি৷ হলোকস্টে বেঁচে যাওয়া এই ব্যক্তি তাঁর ধারালো সমালোচনার জন্য বিশেষভাবে সুপরিচিত ছিলেন৷

তাঁকে প্রায়ই ‘সাহিত্যের পোপ' বলে ডাকা হতো৷ তিনি নিজে সেটা খুব পছন্দ করতেন না, কারণ, তিনি অব্যর্থ নন, বিশেষজ্ঞ হিসেবেই পরিচিতি চেয়েছিলেন৷ জার্মান সাহিত্যের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ৷ তার উপর তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন৷ গ্যোটে, হাইনে, ক্লাইস্ট, ফন্টানে এবং টমাস মানের মতো লেখকরা ছিলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়৷ কিন্তু সমকালীন সাহিত্যের প্রতিও ছিল তাঁর সমান আগ্রহ৷ সাহিত্য সমালোচক হিসেবে বিখ্যাত জার্মান পত্রিকা ‘সাইট' বা ‘এফএজেড'-এর তিনি ছিলেন সতর্ক নিত্য সঙ্গী৷ সাহিত্য সংস্থা ‘গ্রুপ ৪৭'-এর সাথে গোড়া থেকেই যুক্ত ছিলেন৷ ১৯৯৫ সালে ‘ডেয়ার স্পিগেল' ম্যাগাজিনে গ্যুন্টার গ্রাসের ‘আইন ভাইটেস ফেল্ড' উপন্যাস নিয়ে তাঁর বিরূপ সমালোচনা অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল৷

এক সাহিত্যভিত্তিক টেলিভিশন টক শো-তে তিনি পেয়েছিলেন বিরাট সাফল্য৷ প্রায় ২০ লক্ষ শ্রোতা দর্শক উপভোগ করতেন ওই টক শো৷ বই নিয়ে প্রাণবন্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ তর্ক-বিতর্কের ঝড় উঠতো সেখানে৷ বিতর্ক ভালোবাসতেন রানিস্কি৷ ২০০০ সালে তিনি সহকর্মী সমালোচক সিগ্রিড ল্যোফলারকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার ফলে ল্যোফলার অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে আসেন৷

Marcel Reich-Ranicki

কয়েকজন সাহিত্য সমালোচকের সঙ্গে রানিস্কি

২০০৮ সালে আরো একটি ঘটনা ঘটে৷ সাহিত্যে সারা জীবনের অবদানের জন্য জার্মান টেলিভিশন পুরস্কার দিতে চেয়েছিল, সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন তিনি৷ এই প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জার্মান টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নিম্ন মানের৷

রানিস্কির জন্ম ২রা জুন, ১৯২০ সালে, পোলান্ডের ভ্লোস্লাভেক শহরে, এক ইহুদি পরিবারে৷ ছোটবেলাতেই পরিবারের সাথে তিনি চলে আসেন বার্লিনে৷ খুব ভালো জার্মান না জানায় স্কুলে বেশ অসুবিধায় পড়তে হয়েছে তাঁকে৷ রানিস্কি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘‘স্কুলে আমি ছিলাম এক বহিরাগত৷ আমার কখনো কোনো আবাস ছিল না৷ ১৯৩৮ সালের শেষ অবধি আমি ছিলাম বার্লিনে৷ সেখানে আমার একটি জায়গা গড়ে ওঠে, আর তা হলো সাহিত্য৷'' হাইস্কুল শেষ করার পর জার্মান সাহিত্যে পড়শোনা করতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তদানিন্তন নাৎসি সরকার তাঁর আবেদন বাতিল করে দেয়৷ ১৯৪০ সাল থেকে ইহুদিদের জন্য নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে বাস করতে শুরু করেন৷ নাৎসিরা তাঁর বাবা-মা এবং ভাইকে হত্যা করে৷ ঐ জায়গায় পরিচয় হয় টেওফিলার সাথে৷ ২০১১ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টেওফিলা ছিলেন রানিস্কির স্ত্রী৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর লন্ডনে পোলান্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলেন রানিস্কি৷ সেখান থেকে ফিরে এসে কমিউনিস্ট পার্টি ত্যাগ করেন এবং সম্পূর্ণরূপে সাহিত্যে মনোনিবেশ করেন৷ সাহিত্য সমালোচক হিসেবে পোল্যান্ডে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে৷ তাঁর বিশেষ ক্ষেত্র ছিল জার্মান সাহিত্য৷ ১৯৫৮ সালে গবেষণা করতে আসেন জার্মানিতে এবং তারপর আর ফিরে যাননি৷

তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ১৯৯৯ সালে রচিত আত্নজীবনী, ‘মাইন লেবেন' বা আমার জীবন৷ ২০০৯ সালে এই আত্নজীবনী নিয়ে একটি ছায়াছবিও নির্মান করা হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন