সালোকসংশ্লেষ সরাসরি দেখা যাবে গবেষণা কেন্দ্রে | অন্বেষণ | DW | 06.09.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সালোকসংশ্লেষ সরাসরি দেখা যাবে গবেষণা কেন্দ্রে

পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, বায়োলজির পাঠ্যবইতে আমরা অনেক বিষয় ও প্রক্রিয়ার কথা পড়েছি, যা অনেকটাই এখনো তাত্ত্বিক পর্যায়েই রয়েছে৷ ইউরোপে এক গবেষণা প্রকল্প সালোকসংশ্লেষণের মতো অনেক প্রক্রিয়া চোখে দেখার সুযোগ করে দিতে চলেছে৷

‘ফিউচার ইউরোপিয়ান রিসার্চ লেজার' বা এক্সএফইএল-এ ফ্ল্যাশ-এর উত্তরসূরির দেখা পাওয়া যায়৷ বিশাল চুম্বক পরীক্ষা করে তাতে লাগানো হচ্ছে৷ এগুলি বিশালাকার আলোর উৎসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ চুম্বকগুলিকে একেবারে নিখুঁতভাবে ক্যালিব্রেট করতে হবে, কারণ আলোর রশ্মির যথেষ্ট ঘনত্ব থাকতে হবে৷ এক মিটারের ১০ লক্ষের ভগ্নাংশ বা ন্যানোমিটার মাত্রায় একচুল বিচ্যুতি হলে চলবে না৷

পদার্থবিদ ড. ইয়ান গ্র্যুনার্ট বলেন, ‘‘যখনই কোনো ইলেকট্রন চক্রাকারে ঘোরে, তখন সে আলো বিকিরণ করে৷ অর্থাৎ আমরা যেহেতু সেটি বার বার ওয়েভড লাইনের উপর বেঁকিয়ে দিতে পারি, তাই ইলেকট্রন আগেই লেজার রশ্মিতে পরিণত হয়৷ লেজার রশ্মি হয়ে ওঠার কারণ হলো, ইলেকট্রনগুলি তাদের নিজস্ব আলোর মধ্যেই এগিয়ে চলে এবং শক্তির প্রভাব বেড়ে যায়৷''

ভবিষ্যতে এই সব অ্যাক্সিলারেটর টিউবের মধ্যে ইলেকট্রন শক্তির চার্জ ভরপূর থাকবে, যতক্ষণ না অত্যন্ত ছোট ও ঘন লেজার ফ্ল্যাশ সৃষ্টি না হয়৷ সাধারণ রশ্মির উৎসের তুলনায় কোটি কোটি গুণ ঘন হয় সেই ফ্ল্যাশ৷ এক্সএফইএল বিশ্বের সবচেয়ে সেরা আলোর উৎস হতে চলেছে৷ আমাদের গ্রহের সবচেয়ে ক্ষুদ্র কাঠামো খতিয়ে দেখতে পারবে সেটি৷ জার্মানি, রাশিয়া ও ইউরোপের অন্য ১০টি দেশ ১০০ কোটি ইউরো মূল্যের এই প্রকল্পের অর্থায়ন করছে৷

এক্সএফইএল বিজ্ঞানের অনেক শাখাকে সমৃদ্ধ করবে৷ যেমন সেমিকন্ডাকটর পদার্থবিদ্যা, আণবিক জীববিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, রসায়ন, অ্যাসট্রোফিজিক্স ও ভূতত্ত্ব৷ অন্য অনেক বিষয় ছাড়াও বিজ্ঞানীরা নতুন ওষুধ অথবা গাড়ি ও বিমান নির্মাণের উপকরণের সন্ধান করবেন৷ এই প্রথমবার তাঁরা কোষের ভেতর থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন৷ সরাসরি দেখতে পাবেন, গাছপালা কীভাবে আলোকে শক্তিতে রূপান্তরিত করছে৷ ড. ইয়ান গ্র্যুনার্ট বলেন, ‘‘আমরা এমন সব বিষয় দৃশ্যমান করে তুলছি, যেগুলি শুধু মানুষ নয়, অন্য সব যন্ত্রের কাছেই অদৃশ্য রয়েছে৷ কিন্তু আমাদের জীবনযাত্রার উপর তার গভীর প্রভাব রয়েছে৷ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া একটি উদাহরণ৷ অর্থাৎ গাছপালা কীভাবে আলো গ্রহণ করে৷ গাছপালা কীভাবে লাইট কোয়ান্ট ধরে জমা রাখতে পারে, আমরা তা জানতে চাই৷''

সুড়ঙ্গটি ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ৷ প্রথম অ্যাক্সিলারেটরগুলি ভূপৃষ্ঠের ৪০ মিটার গভীরে বসানো হয়েছে৷ ২০১৭ সালে এক্সএফইএল চালু হলে ১০০টি এমন অ্যাক্সিলারেটর সক্রিয় থাকবে৷ তার যন্ত্রাংশগুলি মাইনাস ২৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠান্ডা রাখা হয়, যাতে কোনো অপচয় ছাড়াই সেগুলি বিদ্যুৎ বহন করতে পারে৷

একই সঙ্গে একাধিক পরীক্ষার স্বার্থে রশ্মিগুলিকে ৫টি সুড়ঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়া হয়৷ তামার থাম বাড়তি ইলেকট্রন শুষে নেয়, যাতে কিছুই বাইরে বেরোতে না পারে৷ ড. গ্র্যুনার্ট বলেন, ‘‘প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা পুরোপুরি বদলে যাবে, কারণ তখন আমরা অতি ক্ষুদ্র কাঠামোর ডাইনামিক্স-ও বুঝতে পারবো, যা এতকাল সম্ভব ছিল না৷ যেমন প্রোটিন কীভাবে প্রস্ফুটিত হয়৷ প্রকৃতিতে এই স্কেলে বিভিন্ন প্রক্রিয়া কীভাবে ঘটে, তা বুঝতে গেলে এই ডাইনামিক্স অত্যন্ত জরুরি৷''

ভাইরাস ও কোষের পরমাণু সম্পর্কে বিশদ তথ্যের রহস্য এখানে উন্মোচিত হবে৷ নক্ষত্রের মধ্যে কী ঘটে, তাও জানা যাবে৷ ইউরোপের এক্সএফইএল-এর চাহিদা যে তার পূর্বসূরি ফ্ল্যাশ-এর তুলনায় গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের কাছে অনেক বেড়ে যাবে, এখনই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক