1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সালাহ উদ্দিনকে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্যাচ'

ভারতের শিলংয়ে সন্ধান পাওয়া বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দেখা দিয়েছে আইনি জটিলতা৷ অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তা নিষ্পত্তি হওয়ার পরই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে৷

দু'মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের৷ তাই এবার ভারত থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ৷ বুধবার নিজের বাসায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের সহযোগিতা সবসময় কামনা করছি৷ সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়৷''

ভারতের ভিসা পেলেই ‘যতদ্রুত সম্ভব' শিলংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হতে চান বলে জানান বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবের স্ত্রী৷ বলেন, ‘‘ভিসার জন্য সকালেই আবেদন জমা দিয়েছি৷ ভিসা পেলেই শিলং রওনা হবো৷''

সালাহ উদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তিনি তো ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন৷ তাই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে৷''

কিভাবে প্রক্রিয়াগুলো শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সালাহ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারতে অবস্থান করছেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়েছে৷ ফলে তাঁকে আনতে হলে ভারত সরকারের একটা আইনি প্রক্রিয়া থাকবে এবং আমাদের একটা আইনি প্রক্রিয়া থাকবে৷ সেখানে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখ্য ভূমিকা নেবে৷ আমরা সেভাবেই শুরু করছি৷ তবে আমরা এখনও ‘অফিশিয়ালি' কাগজপত্র হাতে পাইনি৷ মৌখিকভাবে যেসব খবর পাচ্ছি, তার ভিত্তিতেই কথাগুলো হচ্ছে৷ আমরা আশা করছি, সব কিছুই হবে৷ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব কিছু সম্পন্ন করা হবে৷''

জানা গেছে, অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তার নিষ্পত্তি হওয়ার পর দু'দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব৷

বিএনপি চুপ

সালাহ উদ্দিনের সন্ধান পাওয়ার পরও বিএনপির তরফ থেকে এ ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি৷ বুধবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সালাহ উদ্দিনকে ফিরিয়ে আনার পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে৷ আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে সরকারের কোনো সংস্থা তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে৷''

কিন্তু সালাহ উদ্দিন আহমেদকে শিলং কিভাবে পাঠানো হলো? – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘...তাই তো বলছি, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাবে৷''

‘ভিসা পেলেই যাবো'

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ অন্তর্ধানের দু'মাস পর, গত মঙ্গলবার, ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে তাঁর হদিস মেলে৷ ঐ দিন দুপুরে তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ জানান, শিলংয়ের হাসপাতাল থেকে তিনি স্বামীর ফোন পেয়েছেন৷ অন্যদিকে শিলং পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, সঙ্গে কাগজপত্র না থাকায় তারা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে৷ অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়েছে৷ পুলিশের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তিনি মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন৷

হাসিনা আহমেদ জানান, ‘‘ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনপত্রে সড়ক ও আকাশপথ – দুই সুযোগই রেখেছি৷ যে পথ সুবিধাজনক হবে, সে পথেই যাবো৷ তবে মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিবর্তন হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারিনি৷''

তিনি বলেন, ভিসার জন্য ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান৷ হাসিনা আহমেদ ও তাঁর ভগ্নিপতি মাহবুবুল করীম বুলবুলসহ চারজনের নামে ভিসার আবেদন করা হয়েছে৷ যাঁদের ভিসা পাওয়া যাবে তাঁদের নিয়েই ভারত যাবেন হাসিনা৷

প্রসঙ্গত, গত ১০ই মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তাঁর পরিবার৷ সেই থেকে ৬২ দিন নিখোঁজ ছিলেন তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়