1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

সালামের গ্রেপ্তার কি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ?

একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ গত মঙ্গলবার৷ এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার বাকস্বাধীনতা রোধ করেছে৷

মঙ্গলবার ভোররাতে ইটিভি কার্যালয়ের নীচ থেকে চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে ধরে নিয়ে যায় গোয়েন্দারা৷ সালামের গ্রেপ্তার কি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে আপনিও কি মনে করেন? এ প্রশ্নই রেখেছিল ডয়চে ভেলে তার ফেসবুকের পাঠক বন্ধুদের কাছে৷

১৯,৬১৬ জন পাঠক ডয়চে ভেলের এই প্রতিবেদনটি লাইক করেছেন আর দেখেছেন ৪৮ হাজারেরও বেশি পাঠক৷ দেখেছেন আর মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ যেমন নজরুল ইসলাম বেশ স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন যে, শতকরা একশোভাগই বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে৷ আর মো. রহিম বলছেন, ‘‘একুশে টিভি নিরপেক্ষ কথা বলার জন্য তা বন্ধ করেছে সরকার৷''

শাকিল আহমেদ কিন্তু বেশ মজা করে তাঁর মত জানিয়েছেন এভাবে, ‘‘মিয়া, মন্তব্য করে কি জেলে যামু নাকি!''

শরীফুল ইসলাম শরীফ আমানুলের একেবারেই সোজা মন্তব্য, ‘‘দেশে এখন কোনো স্বধীনতা নাই৷''

পাঠক আবদুর রহিম মুক্তারের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে কোন আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?''

ফেসবুক পাঠক রূপা রহমান চেয়াম্যান সাহেবের গ্রেপ্তারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷

আবদুস সালাম গ্রেপ্তার হওয়ায় পাঠক এয়াকুব আলীর তেমন মাথা ব্যাথা নেই৷ তাঁর কথা, ‘‘দেশে আরো অনেক টিভি চ্যানেল আছে৷''

অন্যদিকে ডিডাব্লিউ-র ফেসবুক বন্ধু হিমু, হাসান মির্জা, মানিক মাহমুদ, মনির হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামান, আসগর আলী, সিমি রায়ান, জামালউদ্দিন, মোহাতাফ মৃধা, ফয়সাল আমজাদুল হক এবং আশেকুর রহমান মনে করেন, আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে অবশ্যই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে৷

ডয়চে ভেলের ফেসবুক বন্ধু মাসুদ সাকোর সোজা জবাব, ‘‘বাকস্বাধীনতা ১০০ ভাগই বাক্সবন্দি৷''

সুহেব সালমান বেশ ভয়ে ভয়ে লিখেছেন, ‘‘এ ব্যাপারে মন্তব্য করবো কিনা বুঝতে পারছি না৷ পরে যদি আবার RAW-এর লোকেরা আমাকে ধরে নিয়ে যায়!''

মাসুদ আহমেদ লিখেছেন, ‘‘ডয়চে ভেলেকে বলছি, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার ব্যপারে কি মতামত দেবো? এ দেশে এখন কোনো বাকস্বাধীনতা নেই৷''

মোহাম্মদ ভাইয়ের মন্তব্য, ‘‘হাসিনা পাগল হয়েছেন৷''

আরমান মোস্তফা অবশ্য এই সংবাদে বিশ্বাসী নন৷ তিনি লিখছেন, ‘‘স্বাধীনতার মানে কি মন গড়া মিথ্যা সংবাদ করা?''

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাঠক সুমিত লিখেছে, ‘‘কী কারণে আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা ডয়চে ভেলের জানানোর দায়িত্ব ছিল, যা তারা পালন করলো না৷ স্বাধীনতা চাইলে সাথে দায়িত্বও চলে আসে৷''

মোহাম্মদ আন নাহিয়ানের মতে, ‘‘গণতন্ত্র এখন আর নেই বললে মিথ্যা হবে না৷ এটা সম্পূর্ণ বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ৷

মো. তুহিন তাঁর মতামতে জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই, যা নিয়ে আমরা লজ্জিত৷ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন করে নির্বাচন চাই৷ তবে তা হতে হবে পুরোপুরি নিরপেক্ষ৷ একুশে টিভিই হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র স্বাধীন টিভি, যা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেল৷ এই সরকারের মধ্যে স্বাধীনতা এবং শান্তি অনুপস্থিত৷ আমরা চাই একুশে টিভি-র চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হোক৷ আমরা আবার নতুন করে নির্বাচন চাই৷''

পাঠক আরিফুল হকও মনে করেন, আবদুস সালামের গ্রেপ্তার অবশ্যই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ!!

দিদার উদ্দিনও আরিফুল হকের সাথে একমত৷ তবে তিনি মিডিয়াগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং লিখেছেন, ‘‘হ্যাঁ, আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে৷ তবে এভাবে চলতে দেওয়া যায় না৷ মিডিয়াগুলোকে একসাথে এর প্রতিবাদ করতে হবে৷ তা না হলে একদিন আপনাদের একই অবস্থায় পড়তে হবে৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন