1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

সার্চ কমিটি গঠন: নারী কমিশনার পেতে যাচ্ছে ইসি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ৷ কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে৷ এবার প্রথমবারের মতো একজন নারীকে কমিশনার নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে৷

কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মাহমুদ ছাড়াও আছেন আরও পাঁচজন৷ তাঁরা হলেন হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির চেয়ারম‌্যান মোহাম্মদ সাদিক, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীণ আখতার৷

সার্চ কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ‌্যে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম দিতে বলা হয়েছে৷ এবার নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগ দেয়া হবে বলে তালিকায় নারীদের নামও রাখতে বলা হয়েছে৷ ফলে সাড়ে চার দশক পর প্রথমবারের মতো কমিশনার হিসেবে একজন নারী পেতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷

সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে গতবারও একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন৷ এবারও তাঁকে কমিটির প্রধান করায় সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে৷ ইমতিয়াজ চৌধুরী শুভ্র লিখেছেন, ‘‘বর্তমান প্রধান বিচারপতির মেয়াদেই দু'জন জেষ্ঠ্য বিচারপতি ওয়াহাব মিয়া এবং নাজমুন আরা সুলতানা অবসরে যাচ্ছেন৷ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হওয়ার দৌড়ে রীতিমত ‘ফ্রন্ট রানার'৷ এবার তাঁর যোগ্যতা প্রমাণের পালা৷ যোগ্যতা একটাই ‘আনুগত্য'৷ সার্চ কমিটির প্রধান হয়ে তিনি নিশ্চয়ই তাঁর আনুগত্যের প্রমাণ দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন৷''

সার্চ কমিটির সদস্য শিরীণ আখতার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সদস্য উল্লেখ করে রাশেদ খান ফেসবুকে  লিখেছেন, ‘‘এটাই হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশের ঘাড়ে ভুতের মতো চেপে থাকা রাজনীতি৷ কে এম হাসান  কোন এককালে বিএনপি করছে, সেটা তার অযোগ্যতা৷ তাই উনি নিরপেক্ষ হতে পারবেন না৷ কিন্তু শিরীন আখতার রানিং আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সদস্য, এটা হচ্ছে তাঁর যোগ্যতা৷ আর তিনি ঠিকই নিরপেক্ষতার ব্যারোমিটারে উৎরে গেলেন৷''

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন  লিখেছেন, ‘‘...দুঃখজনক হলেও সত্য, এঁদের (কমিটির সদস্যরা) প্রত্যেকেই আওয়ামী ঘরানার আমলা বা বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত৷ এখন বিএনপি যদি এই কমিটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে, তবে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তা থেকে যায়৷'' তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি৷

সার্চ কমিটি দেখে বিএনপি ‘শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধ' বলে মন্তব্য করেছেন  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ এই সার্চ কমিটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে কিনা- সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি৷ তবে বিএনপির এমন প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন বাণিজ‌্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ৷ বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘এই কমিটিকে বিতর্কিত করলে বিএনপিরই ক্ষতি হবে৷''

সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে ফেসবুকে যাঁরা রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করেছেন তাঁদের উদ্দেশে অলিউল্লাহ নোমান  লিখেছেন, ‘‘...বেচারা রাষ্ট্রপতিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই৷ সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে শেখ হাসিনার সুপারিশের বাইরে কিছু করার ক্ষমতা দেয়নি৷'' এরপর তিনি অনুচ্ছেদ ৪৮-এ কী বলা আছে তা উল্লেখ করেছেন৷

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন