1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সার্কুলার রোড, তবে ভিয়েনায়

ভিয়েনার রিংস্ট্রাসে বা সার্কুলার রোড৷ এককালের রাজপথ আজ জনপথ হয়ে উঠলেও, তার জমকালো ঐতিহ্যের কিছুমাত্র খোয়ায়নি৷ এককালে স্বয়ং কাইজার এখানকার মিষ্টির দোকান থেকে কেক-চকোলেট আনাতেন৷

মানফ্রেড গ্রাসাউয়ার এখানে কাজ করছেন বিশ বছরের বেশি সময় ধরে৷ হোটেলের শেফ কঁসিয়ের্জ হিসেবে তিনি অতিথিদের নানা ধরনের ইচ্ছা পূরণ করে থাকেন: আর্ট একজিবিশন থেকে শুরু করে ক্ল্যাসিকাল মিউজিকের কনসার্টের টিকিট পর্যন্ত৷ রিংস্ট্রাসের গাইডেড টুরও তাতে বাদ যায় না৷ মানফ্রেড বললেন, ‘‘আমার মতে, রিংস্ট্রাসে-র বিশেষত্ব হল তার বৈচিত্র্য৷ অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে ঐতিহাসিক রাস্তায় কাজ করতে পারাটাই ভাগ্যের কথা – বলতে কি, দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় কর্মস্থল৷ এখানে সবসময় কিছু না কিছু ঘটছে, সর্বক্ষণ জীবনের স্পন্দন অনুভব করা যায়৷''

নানা ঐতিহাসিক ভবন

পাঁচ কিলোমিটার লম্বা বুলেভার্ডটি চওড়ায় ৬০ মিটার৷ সার্কুলার রোড ন'টি ভাগে ভাগ করা আছে, প্রত্যেকটি অংশের নিজস্ব নাম৷ অনেকে আবার ড্যানিউব খালের পাড়ে ফ্রানৎস-ইওসেফ ডক-টিকেও রিংস্ট্রাসের মধ্যে ফেলেন৷ এ ভাবে রিংস্ট্রাসে ঐতিহাসিক নগরকেন্দ্রটিকে ঘিরে রয়েছে৷ ভিয়েনার প্রবাদপ্রতিম স্টাটসওপার বা রাষ্ট্রীয় অপেরা: বিশ্বের প্রথম সারির অপেরা হাউসগুলির মধ্যে গণ্য৷ রিংস্ট্রাসের শুরুই এই জমকালো বাড়িটি থেকে৷ মানফ্রেড জানালেন, ‘‘এটা সম্ভবত রিংস্ট্রাসে-র সবচেয়ে নামকরা ভবন৷ প্রতি সন্ধ্যায় এর সামনে যেন ভিড় লেগে থাকে – শুধু যানবাহনই নয়, সেই সঙ্গে পথচারী৷ অপেরা দেখতে যাবার কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও, দেখতে ভালো লাগে৷ অপেরার সামনেও বহু মানুষের ভিড়, যেন একটা নাটক চলেছে!''

রিংস্ট্রাসের বহু বাড়ি ভিয়েনার ঐতিহ্যপূর্ণ অতীতের সঙ্গে যুক্ত৷ হ্যাপসবার্গ রাজবংশের রাজারা হোফবুয়র্গ বা রাজদুর্গটিতে বাস করেছেন বহু শতক ধরে৷ আজ এটি ফেডারাল প্রেসিডেন্টের বাসভবন৷ কাছেই মারিয়া টেরেসিয়া চত্বর৷ মানফ্রেড-এর ভাষ্যে, ‘‘চত্বরটির বৈশিষ্ট্য হল, এর দু'পাশে দু'টি মিউজিয়াম: আর্ট হিস্ট্রি মিউজিয়াম আর ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম – অর্থাৎ শিল্পকলা সংক্রান্ত সংগ্রহশালা এবং উদ্ভিদ ও প্রাণিবিদ্যা সংক্রান্ত সংগ্রহশালা৷ মারিয়া টেরেসিয়া উভয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ডান হাত দিয়ে শিল্পকলার সংগ্রহশালার দিকে দেখাচ্ছেন৷ আমরা এবার সেখানেই যাব৷''

মিউজিয়ামটি রিংস্ট্রাসের স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন৷ কাইজারের আমলে নির্মিত মিউজিয়ামটিতে সাত শতাব্দীর শিল্পকলার নমুনা রাখা আছে৷ মানফ্রেড বললেন, ‘‘এই বিরাট সিঁড়িগুলো দিয়ে ওপরে ওঠাটা প্রতিবারেই একটা দারুণ অভিজ্ঞতা৷ সিঁড়িটা যেখানে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে দু'পাশের অলঙ্করণ৷ এখানকার আসল ঐশ্বর্য হল ওপরে: ওপর দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন, গুস্তাফ ক্লিম্ট-এর সেই অসাধারণ দেয়ালচিত্র, লাল ড্রেস পরা মহিলা৷ এগুলো সব অমূল্য চিত্রকলা৷''

বদলেছে রিং-স্ট্রাসে

গোড়ায় রিংস্ট্রাসে ছিল ছ'মিটার উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা একটা সামরিক এলাকা৷ ১৮৫৭ সালে সম্রাট প্রথম ফ্রানৎস ইওসেফ এলাকাটিতে বাড়িঘর তৈরি করার নির্দেশ দেন৷ সেটাই ভিয়েনার বৃহত্তম পৌর প্রকল্প হয়ে দাঁড়ায়৷ আবার মানফ্রেড, ‘‘রিংস্ট্রাসে স্বভাবতই শতকের পর শতক ধরে অনেকটাই বদলে গেছে৷ আগে এখানে অভিজাত কিংবা বিত্তশালীরাই চলাফেরা করতেন৷ পরে সকলকে এখানে আসতে দেওয়া হয়৷ আজকাল যানবাহন অনেক বাড়লেও, সাইকেল চালানোর রাস্তাও করে দেওয়া হয়েছে৷ পায়ে হেঁটেও খুব সুন্দর ঘুরে দেখা যায়৷''

‘রিং' বরাবর ঘুরে বেড়ানোটা যেমন টুরিস্টদের কাছে, তেমনই ভিয়েনাবাসীদের কাছেও প্রিয়৷ ছোট্ট একটা মোড়ের মাথায় একটু যেন লুকনো, এমনভাবে দেখতে পাবেন সুবিখ্যাত কেক-চকোলেটের দোকান গেয়ার্স্টনার-কে৷ ১৮৪৭ সাল যাবৎ এখানে যে সব মিষ্টি বিক্রি হয়, স্বয়ং কাইজার এককালে তার ভক্ত ছিলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক