1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

সারিন গ্যাস: এক অদৃশ্য ও নির্বিচার হত্যাকারী

গত আগস্ট মাসে দামেস্কের কাছে এই স্নায়ুর গ্যাসের আক্রমণ সিরিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে৷ কিন্তু কি এই গ্যাস, এবং তা থেকে বাঁচার উপায়ই বা কি?

default

জাতিসংঘের পরিদর্শকরা সিরিয়ায় সারিন গ্যাস প্রয়োগ হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন

সারিন গ্যাস এমনই বিষাক্ত যে, ঘনীভূত অবস্থায় তার একটি কণাই মানুষের মুত্যু ঘটাতে পারে – যদিও সারিন সাধারণত তরল অবস্থাতেই জমা থাকে৷ সেই তরল সারিন জলের মতো স্বচ্ছ এবং সেটা যখন বাতাসে উবে যায়, তখন তা-তে কোনো গন্ধ থাকে না৷ এমনকি তার হদিশ পাবারও কোনো উপায় থাকে না৷ সেই কারণেই গত আগস্টে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে যে মানুষরা উল্টে পড়ে গিয়ে, নিঃশ্বাস না নিতে পেরে প্রাণ হারিয়েছে, তারা বুঝতেও পারেনি কেন, অথবা কোন বিষে তাদের মৃত্যু ঘটছে৷

সারিন প্রধানত শরীরের স্বয়ম্ভর স্নায়ু প্রণালীকে প্রভাবিত করে – যে অনিচ্ছাচালিত পেশিগুলি হজমশক্তি, শ্বাস গ্রহণ কিংবা হাত-পা নাড়াচাড়ার মতো শারীরিক কর্মগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ যেমন নিঃশ্বাস নেওয়ার সংকেতটি আসে স্নায়ুকোষগুলির কাছ থেকে পেশির কোষগুলির কাছে৷

যে রাসায়নিক দূতেরা এই বার্তা বহণ করে আনে তাদের বলা হয় ‘নিউরোট্রান্সমিটার্স'৷ বার্তাটি দেওয়া হয়ে গেলেই অ্যাসেটিলকোলাইন নিউরোট্রান্সমিটারটির কাজ শেষ – এর পর এনজাইমরা সেটিকে ভেঙে ফেলে; যা পড়ে থাকে, তা হলো কোলাইন, যা শরীরে রিসাইকল্ড হয়, এবং অ্যাসেটিক অ্যাসিড, যা জলের সঙ্গে মিশে ভিনিগার হয়ে পরে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়৷

‘প্যাক-ম্যান'

যে এনজাইমটি এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে সেটিকে বলা হয় ‘প্যাক-ম্যান মলিকিউল'৷ এই প্যাক-ম্যান মলিকিউলকে যদি তার কাজ করতে না দেওয়া হয় – সারিন গ্যাস ঠিক যে প্রভাব ফেলে – তাহলে পেশি আর স্নায়ুর জংশনে বিপুল পরিমাণ নিউরোট্রান্সমিটার জমে যায়, যেন পেশিটির সুইচ স্থায়ীভাবে ‘অন' করে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে একটানা পেশির সংকোচন চলতে থাকে৷ অর্থাৎ মস্তিষ্ক সেই পেশিকে অন্য কিছু করার সংকেত পাঠালেও সেই সংকেত পৌঁছায় না৷ এভাবেই, সারিনের প্রভাবে চোখ থেকে জল পড়াও থামবে না, যেমন পেশির কাঁপুনিও থামে না৷

এই স্থায়ীভাবে ‘অন' করে রাখা সুইচ যখন ফুসফুসের ডায়াফ্রামকে প্রভাবিত করে, তখনই সারিন মারাত্মক হয়ে ওঠে৷

স্নায়ুকোষগুলি অ্যাসেটিলকোলাইনের বার্তা পাঠাতে থাকে যে, পেশির কোষগুলির শুধুই নিঃশ্বাস নেবে, প্রশ্বাস ছাড়বে না – যার ফলে দম আটকে মৃত্যু ঘটতে পারে৷

সারিন যে শুধু নিঃশ্বাসের সঙ্গেই শরীরে ঢোকে, এমন নয়৷ গায়ের ত্বক এবং চোখের মাধ্যমেও সারিন শরীরে প্রবেশ করতে পারে৷

প্রতিষেধক

এক্সপোজার কম হলে সারিনের প্রভাব থেকে প্রাণে রক্ষা পাওয়া সম্ভব৷ একটি অ্যান্টিডোটের নাম হলো প্রালিডক্সাইম, যা প্যাক-ম্যান এনজাইমগুলো থেকে সারিনকে বিচ্ছিন্ন করে৷ এর ফলে এনজাইমটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে অ্যাসেটিলকোলাইনকে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করতে পারে৷

অ্যান্টিডোট হাতের কাছে না থাকলে, এক গ্লাস জলে এক চামচ বেকিং সোডা গুলে, সেই জলে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে, সেই তোয়ালের ভিতর দিয়ে রোগীকে নিঃশ্বাস নেওয়ানো যেতে পারে৷ এই অ্যালকালাইন সলিউশনটির ফলে সারিনের প্রকোপের প্রশমন হয়৷

সারিনের বিধ্বংসী ক্ষমতা আবহাওয়ার উপরেও নির্ভর করে৷ তাপমাত্রা বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে, সারিন বাতাসে থাকে দুই থেকে বিশ দিন পর্যন্ত৷ ২৫ ডিগ্রি গরম হলে সেটাই কমে এক থেকে দশ দিন হয়ে যায়৷ খুব ঠান্ডা হলে – যেমন শূন্য ডিগ্রিতে – সারিন অথবা অন্যান্য স্নায়ুর গ্যাস এক বছর পর্যন্ত বাতাসে থাকতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন