1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিরোধী বিল নিয়ে উত্তাল সংসদ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিরোধী বিল নিয়ে বিতর্কে সরকার ও বিপক্ষ দলগুলির আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে সংসদে ঝড় বয়ে যায়৷ মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা বাড়ছে, কংগ্রেসের এ অভিযোগ খণ্ডন করে বিজেপি৷

সংসদে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিরোধী বিল নিয়ে গত দু'দিন ধরে বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেসের বক্তব্য: মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দু'মাসে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় প্রায় ৬০০-র মতো সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে৷ এর পেছনে আছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের মতো মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনগুলির বিভেদকামী শক্তি৷ পাল্টা আক্রমণে কংগ্রেসের অভিযোগ খণ্ডন করে বিজেপি বলে, কংগ্রেস ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি' করছে৷ উত্তর প্রদেশের গোরখপুরের সাংসদ যোগী আদিত্যনাথের বিতর্কিত বক্তব্য সংসদে বিস্ফোরক পরিস্থিতির আবহ তৈরি করে৷ প্রশ্ন ওঠে বিজেপির পক্ষ থেকে: আদিত্যনাথের মতো এক কট্টর হিন্দুত্ববাদী সাংসদকে প্রথমে বলতে দেয়া হলো কেন?

কী বলেছেন তিনি?

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, পাকিস্তানের অঙ্গুলিহেলনেই কংগ্রেস একথা বলছে৷ এখানেই থামেননি তিনি৷ বলেছেন, হিন্দুরা যখন ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে তখন ঘুরে দাঁড়িয়ে পাল্টা মারের জন্য তৈরি থাকতে হবে৷ স্বাধীন ভারতে গত ৬০ বছর ধরে কংগ্রেস সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নামে শুধু সংখ্যালঘু তোষণ নীতি চালিয়ে গেছে৷ ভারতে প্রায় ১২ লাখ সাধু আছেন, তাঁরা কোনো সরকারি সাহায্য বা ভাতা পান না, পান শুধু ইমামরা৷ এটাই কি ধর্মনিরপেক্ষতা? কাশ্মীর থেকে বিতাড়িত তিন লক্ষ হিন্দু পরিবার আজও নিজ দেশে পরবাসী৷ তাঁদের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সাবেক কংগ্রেস সরকারের কোনো মাথাব্যথা কি ছিল? প্রশ্ন বিজেপি সাংসদ আদিত্যনাথের৷

উল্লেখ্য, আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেবার অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ ২০০৭ সালে পূর্ব উত্তর প্রদেশের ডজন খানেক জেলায় সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোয় তিনি জড়িত ছিলেন – এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট৷ হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে৷ বিজেপির আরেক সাংসদ কংগ্রেসের দেয়া সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিসংখ্যান অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেন৷ বলেন, সাম্প্রদায়িক হিংসার ৬০০ ঘটনা গত দু'মাসে হয়নি, হয়েছে গত ছয় মাসে৷ মোদী সরকার এর সত্যতা যাচাই করতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে দিয়ে ঐ সব ঘটনার তদন্ত করাতেও রাজি আছে৷ তাহলেই কংগ্রেসের আসল স্বরূপ বেরিয়ে পড়বে ৷

বিতর্কে সার কথাটি বলেছেন অবশ্য তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের আলোচনা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে নয়৷ কিভাবে তা রোখা যায়, তার একটা মেকানিজম গড়ে তোলা৷ সমাজবিজ্ঞানী ওবং আইনজ্ঞরদের মতে, সব ঘটনাই সাম্প্রদায়িক নয়৷ অনেক সময় হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হয়ত ব্যক্তিগত স্তরে বিবাদ হয়, সেটাকে সাম্প্রদায়িক বলে চিহ্নিত করা ঠিক নয়৷ হিন্দু প্রধান রাষ্ট্রে মুসলিম সমাজে একটা বিশেষ মানসিকতা কাজ করে৷ সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলি বাড়িয়ে চড়িয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক দলগুলি ভোট ব্যাংকের দিকে তাকিয়ে৷ কারণ দেশের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন৷ সাম্প্রদায়িক ইস্যু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সবথেকে বড় হাতিয়ার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়