1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধান

তাইওয়ান, চিলি এবং হাইতির ভূমিকম্পের খবর এখনও গণমাধ্যমে বিস্তৃত জায়গা জুড়ে৷ সর্বসাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি ঘটল তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে৷ বৈজ্ঞানিকভাবে এখনও প্রমাণিত না হলেও এসব ভূমিকম্পের মধ্যে সম্পর্ক লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা৷

default

তুরস্কের ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত বাড়ি-ঘর

রিশটার স্কেলে তুরস্কের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.০৷ সোমবার সকালের এই ভূমিকম্পে ৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে৷ বোখুমের রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানের অধ্যাপক ভোল্ফগাঙ ফ্রিডরিশের মতে, মাত্রা কিছুটা কমবেশি হলেও সারা পৃথিবীতে ভূমিকম্পের সংখ্যা প্রায় স্থির রয়েছে৷ মার্কিন প্রতিষ্ঠান জিওলজিক্যাল সার্ভে'র ভূমিকম্প দুর্যোগ কর্মসূচি'র তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশক ধরে রিশটার স্কেলে ৭.০ থেকে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা একই রয়েছে৷ প্রতি বছর এই ধরণের ভূমিকম্প হয়েছে গড়ে ১৩ টি করে৷ ফ্রিডরিশ বলেন, ‘‘ঐ সময়ে ৮.০ থেকে ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে চারটি৷ তবে স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প এবং কম্পনের ঘটনা অসংখ্যবার ঘটেছে৷''

পৃথিবীর চারটি স্তর রয়েছে৷ ভেতর, বাহির, ম্যান্টল এবং ক্রাস্ট৷ ক্রাস্ট এবং আপার ম্যান্টল মিলে তৈরি লিথোস্ফেয়ার৷ এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘন৷ এই স্তরটি টেকটোনিক প্লেটস দিয়ে গঠিত৷ বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্লেটগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরে যায় কিংবা কিছু ত্রুটির কারণে সরে যায়৷ আর এর ফলেই ঘটে অধিকাংশ ভূমিকম্প৷ , ‘‘এই প্লেটগুলো কখনো উল্লম্বভাবে আবার কখনো অনুভূমিকভাবে সরে যায়৷ যার ফলে একটা প্লেটের নিচে আরেকটি প্লেট চলে যায়৷ আবার প্লেটগুলোর এই জায়গা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে - উল্লম্ব এবং অনুভূমিক - দু'টো একসাথেও ঘটতে পারে৷''

Chile Erdbeben Februar 2010 Flash-Galerie

চিলির ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত নৌযান (ফাইল ছবি)

অধিকাংশ ভূমিকম্পই ‘আগুনের বলয়' নামে পরিচিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘটে৷ এটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল যা দেখতে অনেকটা ঘোড়ার পায়ের মতো বাঁকানো৷ নিউজিল্যান্ড, জাপান, আলাস্কা এবং চিলি রয়েছে এই বলয়ে৷ এছাড়া ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে মধ্য-আটলান্টিক রিজ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান-আন্ড্রিয়াস ফল্ট অঞ্চল৷

ফ্রিডরিশ বলেন, ভূকম্পবিদ্যার উদাহরণ এবং প্রতিঘাতের গাণিতিক হিসাব থেকে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের পর পৃথিবীর অপর অংশেও প্রতিঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পায়৷ এই পরিপ্রেক্ষিত এবং পরিসংখ্যান থেকেও সূত্র দাঁড়ায় যে, হাইতি এবং চিলির মতো বড় ধরণের ভূমিকম্প টেকটোনিকস প্লেটগুলোর একদিকের প্রতিঘাত মুক্ত করে৷ ফলে এটা অন্যপ্রান্তের প্লেটের উপর প্রতিঘাত বৃদ্ধি করে৷ যে কারণেই পৃথিবীর অন্য প্রান্তেও ফলো-আপ ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে৷

তাই ফ্রিডরিশ বলেন, হাইতির ভূমিকম্পের অল্প দিন পরেই চিলির ভূমিকম্প ঘটল যা যুগপৎ হতে পারে৷ অবশ্য, ভূ-বিজ্ঞান বিষয়ে জার্মান গবেষণা কেন্দ্র জিএফজেড এর গবেষক রাইনার কিন্ড বলছেন, ‘‘একপ্রান্তের ভূমিকম্পের সাথে প্লেটের অপর প্রান্তের সম্পর্ক রয়েছে এমনটি এখন পর্যন্ত প্রমাণিত নয়৷''

প্রতিবেদক: অ্যালিনা ডায়েন, ভাষান্তর: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়