‘সামাজিক সমতাকে বিপদের মধ্যে ফেলবে ইবোলা′ | বিশ্ব | DW | 20.11.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সামাজিক সমতাকে বিপদের মধ্যে ফেলবে ইবোলা'

পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে৷ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ইবোলা৷ জার্মানির ইবোলা বিষয়ক প্রতিনিধি ওয়াল্টার লিন্ডার বলেছেন,আগের সব ভুল শুধরে ভাইরাস নির্মূলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে৷

ডয়চে ভেলে: জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে বিশ্বে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইবোলা৷ জার্মান সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ইবোলার বিরুদ্ধে লড়তে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুকি হতে হবে বলে মনে করছেন আপনি?

ওয়াল্টার লিন্ডার: আমি পশ্চিম আফ্রিকায় দু'সপ্তাহেরও বেশি সময় থেকেছি৷ ফলে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে৷ সব দেখে আমার মনে হয়েছে সমস্যার ব্যাপকতাটা ভয়াবহ৷ এটা কেবল চিকিৎসার ক্ষেত্রে নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে৷ আমার মতে পশ্চিম আফ্রিকার তিনটি দেশে ‘সামাজিক ফেব্রিক' বা ‘সামাজিক সমতা' বিপদের মুখে রয়েছে৷ তাই সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা নিয়ে আমি চিন্তিত৷

World Health Summit in Berlin - Walter Lindner 20.10.2014

জার্মানির ইবোলা বিষয়ক প্রতিনিধি ওয়াল্টার লিন্ডার

জাতিসংঘের ‘ইবোলা এমারজেন্সি রেসপন্স মিশন'-এর প্রধান অ্যান্থনি ব্যানবারি বলেছেন, পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে সংক্রমণের হার কিছুটা কমানো গেছে, তবে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এটি, যা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে৷ আপনি কি তাঁর সাথে একমত?

হ্যাঁ আমারও তাই মনে হয়৷ আমি জানি ব্যানবরি একজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ রিপোর্টের ভিত্তিতেই তিনি এ কথা বলেছেন৷ আমরা দেখেছি লাইবেরিয়ায় এর প্রকোপ কমেছে, এমনকি গিনিতেও৷ কিন্তু অন্যদিকে সিয়েরা লিওনে কোনো পরিবর্তন আসেনি৷

আপনি শুরুতে ‘সমাজের ফেব্রিক' বা সামাজিক সমতায় এর বড় প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করেছেন৷ এটা দিয়ে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

পশ্চিম আফ্রিকার মানুষ ভীষণ আন্তরিক অর্থাৎ খোলামেলা স্বভাবের৷ তারা একে-অপরকে আলিঙ্গন করে, হাত মেলায়, অর্থাৎ শারীরিক সংযোগটা তাদের মধ্যে খুব বেশি৷ কিন্তু ইবোলা সংক্রমণের আশঙ্কায় তাঁরা এ সব থেকে এখন বিরত থাকছেন৷ রাস্তাঘাট, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ – প্রতিটি স্থানে আপনি এই পরিবর্তনটা দেখতে পাবেন৷ এতে মানুষে-মানুষে একটা বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে৷ সমাজের এতদিনের অতি পরিচিত চিক্রটা পাল্টে যেতে পারে৷

জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?

একথা এরই মধ্যে বহুবার বলা হয়েছে৷ আবারো বলছি, আমরা এ বিষয়টিতে অনেক দেরিতে প্রতিক্রিয়া করেছি৷ কেবল জার্মানিই নয়, পশ্চিমা বিশ্বের সব দেশ এমনকি জাতিসংঘ ইবোলা বিষয়ে অনেক দেরিকে কাজ শুরু করেছে৷ তবে এ নিয়ে এখন ভাববার কিছু নেই৷ বরং ভবিষ্যতে এ অভজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে৷ জার্মান সেনাবাহিনী এরই মধ্যে সেখানে কাজ করছে৷ গবেষণাগারে একটি ‘সিরাম' তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে৷

ওয়াল্টার লিন্ডার জার্মানির ইবোলা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি৷ ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তিনি কেনিয়ায় জার্মান রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন