1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সামরিক অভিযানের মুখে ফের আসছে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারে আবারো সামরিক অভিযান শুরুর কারণে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে৷ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নেতা ও কক্সবাজারের এক ইউপি চেয়ারম্যান এই তথ্য জনালেও বিজিবি এই খবর অস্বীকার করেছে৷

চলতি মাসের ১২ তারিখ মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের একটি অঞ্চলে নতুন করে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেয় সেখানকার সরকার৷ নতুন করে অভিযান চালাতে সেখানে সেনা সমাবেশ বাড়ানো হয়৷ গত বৃহস্পতিবার ৩৩তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের মোতায়েন শুরু হয়৷ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও হেলিকপ্টারে করে এসব সৈন্যকে রাজ্যের রাজধানী সিটওয়েতে নামানো হয়৷ পরদিন তাদের মোতায়েন করা হয় মংডুতে৷ এরপর থেকেই ঐ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী৷

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে মিয়ানমার থেকে আরও কয়েকশ' রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা৷

অডিও শুনুন 00:40

‘গত কয়েকদিন ধরেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে’

সম্প্রতি অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসেছে বলে জানান তাঁরা৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের কারণে অনেকেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন৷ জাতিসংঘের আশঙ্কা, মিয়ানমার ‘এথনিং ক্লিনজিং' করতে পারে৷

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে৷ তবে তারা সংখ্যায় এখনো খুব বেশি নয়৷ তারা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘুমঘুম ইউনিয়নের কমরু এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেছে৷ তারা বালুখালি, কুতুপালং ও ঘুমঘুম অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে৷'' তিনি আরো জানান, ‘‘আগে থেকেই তাদের আত্মীয়স্বজন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখানে আছেন৷ তাদের আশ্রয়েই প্রাথমিকভাবে তারা উঠছে৷''

কুতুপালং ক্যাম্পের তরুণ রোহিঙ্গা শরণার্থী নেতা ইউনুস আরমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ছোট ছোট গ্রুপে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন৷

অডিও শুনুন 02:04

‘সেনারা সেখানে ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছে’

কোনো গ্রুপে ৬-৭ জন রোহিঙ্গা আবার কিছু গ্রুপে ৫০ জনও থাকছে৷ রাখাইনে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে৷ আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে সদ্য আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে পাচ্ছি৷ বিশেষ করে লেদা, বালুখালি ও কুতুপালং ক্যাম্পে তারা বেশি আশ্রয় নিচ্ছে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়৷ সেনারা সেখানে ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছে৷ সেখান থেকে যারা পালিয়ে এসেছে তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি নির্যাতনে কেউ হাত, কেউ পা হারিয়েছে৷ অনেকে আহত অবস্থায়ও বাংলাদেশে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে৷''

গত কয়েকদিনে ঠিক কত রোহিঙ্গা মুসলিম রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে তা এই দু'জনের কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি৷ তবে বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিক বলছে সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে৷

অডিও শুনুন 01:16

‘গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে মিয়ানমার সীমান্তে সেনা সমাবেশ করেছে’

বিজিবি'র অস্বীকার

তবে টেকনাফে বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২ এর কমান্ডার লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত নতুন করে মিয়ানমার থেকে কোনো রোহিঙ্গা প্রবেশ করেনি৷ অন্য কোনো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে কিনা আমার জানা নাই৷'' তিনি বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগে থেকেই আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে আমাদের সীমান্তের উলটো দিকে মিয়ানমার সেনা সমাবেশ করেছে৷ এরপর থেকেই আমরা সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছি৷ আমরা সবসময়ই সতর্ক থাকি৷ এখন ভিজিলেন্স আরো বাড়িয়েছি৷ মিয়ানমার সেনাবাহিনী বর্ডার ক্রস করে কিনা অথবা রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে কিনা আমরা তার ওপর সতর্ক নজর রাখছি৷''

গত বছর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছিল৷ অক্টোবরের সেই অভিযানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার খবরে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ আর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়৷ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় নিপীড়নের শিকার প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা৷

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এখন রেজিষ্টার্ড ২৪ হাজারসহ তিন লাখের মত রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন৷

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কি? মতামত লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়