1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাবেক প্রতিমন্ত্রী কায়সারের মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জাতীয় পার্টি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ এটা যুদ্ধাপরাধ মামলার ১৪তম রায়৷

রায়ে বলা হয়, সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ এর মধ্যে সাতটিতে তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২৷ বাকি দুটি, অর্থাত্‍ ৪ এবং ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায়, এ দুটি অভিযোগ থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী কায়সারকে খালাস দেয়া হয়৷

তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণের মতো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ ১৯৭১ সালে কায়সার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ‘কায়সার বাহিনী' গঠন করে ঐ দুটি জেলায় যুদ্ধাপরাধে নেতৃত্ব দিয়েছিল৷

মঙ্গলবার সকাল ১১টার পর হবিগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ কায়সারের মামলার রায় পড়া শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২৷ ৪৮৪ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়৷ শুরুতে সংক্ষিপ্ত এক সূচনা বক্তব্য দেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান৷ বিচারক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া৷

সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ ১৬টি অভিযোগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২০শে আগস্ট রায় অপেক্ষমান রাখে ট্রাইব্যুনাল৷

১৬টি অভিযোগে কায়সারের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২রা ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল৷ অবশ্য প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ দাখিল করেছিল৷ এরপর ৪ঠা মার্চ থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়৷

গত ২৩শে জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত ছয় কার্যদিবস প্রসিকিউিশন এবং ৭ই আগস্ট থেকে ১৯শে আগস্ট পর্যন্ত আসামিপক্ষ সাত কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপন করে৷ গত ৯ই মার্চ থেকে ২৩শে জুলাই পর্যন্ত কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমসহ ৩২ জন সাক্ষী৷ অন্যদিকে আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেনি৷

এর আগে গত বছরের ১৫ই মে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল৷ ২১শে মে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ৪ঠা আগস্ট বিশেষ বিবেচনায় কায়সারকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয় ট্রাইব্যুনাল-২৷ অভিযোগ গঠনের শুনানিতে কায়সার মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে৷ গত ২০শে আগস্ট ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে৷ সেদিন শারীরিক কারণে জামিনে থাকা কায়সারের (৭৩) জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠায় ট্রাইব্যুনাল৷ এরপর মঙ্গলবার রায়ের সময় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়৷

Dhaka Demonstrationen

যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবি বাংলাদেশের অগুন্তি মানুষের...

কায়সার নামা

সৈয়দ কায়সারের বাবা সৈয়দ সঈদউদ্দিন ১৯৬২ সালে সিলেট-৭ আসনে কনভেনশন মুসলিম লীগ থেকে এমএনএ নির্বাচিত হন৷ আর ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয় কায়সার৷

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, একাত্তর সালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধীকে' নিয়ে ‘কায়সার বাহিনী' গঠন করে এই মুসলিম লীগ নেতা৷ কায়সার নিজেই ঐ বাহিনীর প্রধান ছিল৷ বাহিনীটির ছিল নিজস্ব ইউনিফর্ম৷ স্বাধীনতার ঠিক আগে কায়সার আত্মগোপন করে৷ পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর, ১৯৭৮ সালে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হয় কায়সার৷

১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাংসদ নির্বাচিত হয় কায়সার৷ পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে বিএনপিতে যোগ দেয় এবং হবিগঞ্জ বিএনপির সভাপতি হয় মোহাম্মদ কায়সার৷ এরপর এরশাদের আমলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয় এবং ১৯৮৮ সালে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার৷

চতুর্দশ রায়

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ডের মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্দশ রায় দিল ট্রাইব্যুনাল৷ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়৷

এর আগের ১৩টি রায়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, একাত্তরের দুই বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীন, জামায়াত আমির একাত্তরের বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়৷

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আদালত৷

এর মধ্যে আপিলের রায়ে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হলে গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর তা কার্যকর করা হয়৷ সাঈদীর আপিলে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত৷ আর কামারুজ্জামানের আপিলে ফাঁসির আদেশই বহাল থাকে৷

যুদ্ধাপরাধের দণ্ড ভোগের মধ্যেই গত ৩০শে আগস্ট কারাবন্দি অবস্থায় হাসপাতালের ‘প্রিজন সেলে' মারা যায় আলীম৷ মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর৷ এছাড়া নিজ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি চলাকালীন গত ২৩শে অক্টোবর হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন অবস্থায় মারা যায় ৯২ বছর বয়সি জামায়াতগুরু গোলাম আযম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়