1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সাবেক পূর্ব জার্মানির পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয়

পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে৷ সেই থেকে পথ চলা শুরু৷ বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে প্রায় কুড়ি হাজার ছাত্র-ছাত্রী৷

default

পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয়

এর মধ্যে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার৷ পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১১ হাজার ছাত্রী পড়াশোনা করছে৷সব মিলিয়ে পাঁচটি অনুষদ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ এই অনুষদগুলোতে অধ্যাপনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রায় দু'শো অধ্যাপক৷ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০ জন অধ্যাপক জড়িত রয়েছেন৷ তারা গেস্ট লেকচারার হয়ে আসেন৷

এসব অধ্যাপকদের সাহায্য এবং সহযোগিতা করছেন প্রায় সাড়ে ছয়শজন এ্যাকাডেমিক স্টাফ৷ আর রয়েছেন সাড়ে সাতশজন নন-এ্যাকাডেমিক স্টাফ৷

ভারতের ছাত্রী গোরী নেরকার৷ পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট অফ মলিকিউল্যার প্ল্যান্ট ফিজিওলজিতে তিনি পিএইচডি করছেন৷ জার্মানি দেশটি কেমন ? নতুন পরিবেশ, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ – কেমন লাগছে দেশটি ? গৌরী বললেন, ‘‘ এখন পর্যন্ত আমি বলতে পারি সবকিছু ভালই লাগছে৷ ভালমতই আমার দিন কাটছে৷ দেশে থাকতে আমি অনেক কিছু ভেবেছিলাম৷ এই প্রথম আমি বিদেশের একা থাকছি৷ এখন পর্যন্ত কোন ধরণের সমস্যা হয়নি৷ জার্মানরা অত্যন্ত বন্ধুসুলভ৷ যে কোন ধরণের সমস্যায় ওরা সাহায্য করতে এগিয়ে আসে৷ আমি নিজেই দেখেছি আমার যদি কোন কিছুর প্রয়োজন হয়, যদি সাহায্য চাই, তাহলে একেবারে দশজন এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে৷ তাই আমি এক কথায় বলতে পারি, এ পর্যন্ত জার্মানিতে আমার অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক৷''

9.2009 DW-TV hin und weg KW52 Zuschaueraktion flash-galerie 10 Potsdam

পট্সডামের প্যালেস সাঁসঁসি

কেন জার্মানি

পট্সডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯ সালের বাজেট ছিল ৯৩.৬ মিলিয়ন ইউরো৷ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এই বিশ্ববিদ্যালয়েও রয়েছে একটি ফরেন স্টুডেন্ট অফিস৷ সেখানে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তিসহ থাকা, চলাফেরা – ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়৷ প্রশ্ন হল, কেন জার্মানি? এত দেশ থাকতে কেন জার্মানিকে বেছে নেওয়া হল? গৌরী জানান,‘‘ জার্মান প্রযুক্তির কথা আমরা সবাই জানি৷ বিশ্বে জার্মান প্রযুক্তি শীর্ষে অবস্থান করছে৷ এছাড়া ভারতে আমি যেখানে কাজ করছি, সেই সংস্থার সঙ্গে জার্মানির মাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউটের সহযোগিতা নিয়ে একটি চুক্তি আছে৷ জার্মানির এই সংস্থাটি প্রযুক্তি এবং দক্ষ কর্মী দিয়ে আমাদের সাহায্য করে৷ ভারতের বিভিন্ন কর্মীকে জার্মানিতে ট্রেনিং-এর জন্য আনা হয়৷ তখন আমি এই সংস্থার সাহায্যেই জার্মানিতে পিএইচডি করার কথা ভাবি, আবেদন করি৷ আমার আবেদন পত্র গ্রহণ করা হয়৷ এখানে গবেষণার যে সুযোগ আমি পাচ্ছি ভারতে তা নেই – সেটিও একটি কারণ৷''

গোরী আপাতত দু'বছর জার্মানিতে থাকবেন৷ যদিও একবছর পর তাঁর ফিরে যাওয়ার কথা৷ কিন্তু তিনি চেষ্টা করবেন বৃত্তির সময়সীমা আরো এক বছর বাড়ানোর জন্য৷ ডিএএডি গোরীর বৃত্তির সময়সীমা বাড়াবে সে বিষয়েও গোরী আশাবাদী৷ জার্মানিতে থাকতে, পড়াশোনা করতে অথবা পিএইচডি করতে জার্মান ভাষার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ? গোরীর ভাষ্য,‘‘ আমি গত চার মাস ধরে জার্মান ভাষাটি শিখছি৷ আমার পিএইচডির গবেষণার জন্য জার্মান ভাষার প্রয়োজন নেই৷ কিন্তু তারপরেও আমি ভাষাটি শিখেছি৷ এর কারণ হল, আমি নিজেই নিজেকে বলেছি, আমি যদি এখানে থাকি তাহলে অনেকের সঙ্গে মেলা-মেশা করতে হবে৷ চলতে-ফিরতে, এখানে সেখানে যাওয়া, কেনা-কাটা করা – এসব ছোটখাট কাজের জন্য জার্মান ভাষা জানা প্রয়োজন৷ কারো সঙ্গে বসে গল্প করার মত জার্মান আমি শিখিনি, সেটা হয়তো সম্ভবও নয় কিন্তু কিছুটা জার্মান জানা

Symbolbild Deutsche Automarken Audi Mercedes Benz BMW USA China

পড়া শেষে ক্যরিয়ার কোথায় ?

থাকলে আমার নিজের জন্যই ভালো৷ কোথাও যদি হারিয়ে যাই তাহলে অন্তত কাউকে জিজ্ঞেস তো করতে পারবো – কীভাবে অমুক জায়গায় যাওয়া যায়? আমি খুব অল্প জার্মান জানি আর এই জানা থেকেই আমি বলতে পারছি – আমার প্রতিদিনের জীবন-যাপন আগের চেয়ে এখন অনেক সহজ হয়েছে৷''

ক্যারিয়ার কেথায়? জার্মানি নাকি নিজ দেশে?

জার্মানিতে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই দেশে ফিরে যান না৷ তারা থেকে যান জার্মানিতে৷ এখানেই তারা কাজ করেন, ক্যারিয়ার গড়েন৷ বিশেষ করে এশিয়া এবং আফ্রিকার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বেশি৷ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ? দেশে ফিরে যাওয়া, জার্মানিতে থেকে যাওয়া নাকি পোস্ট ডক্টরেটের চেষ্টা করা ? গোরী নেরকারের উত্তর, ‘‘ আমি ভারতে ফিরে যেতে চাই৷ এখান থেকে যে জ্ঞান আমি অর্জন করবো তা আমি আমার দেশেই কাজে লাগাতে চাই৷ আপাতত তা-ই পরিকল্পনা করছি৷ তবে পিএইচডি-র পর পোস্ট ডক্টরেটের সুযোগ যদি পেয়ে যাই তাহলে তা করবো৷ পোস্ট ডক্টরেট করার ইচ্ছে আমার আছে৷ যদি তা না হয় তাহলে ভারতে ফিরে যাবো৷ কারণ, ডিএএডি আমাদের বৃত্তি দিয়ে নিয়ে এসেছে৷ সংস্থাটি চায় আমাদের পড়াশোনা শেষে আমরা নিজেদের দেশে ফিরে যাই, সেখানেই আমরা আমাদের জ্ঞান কাজে লাগাই৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়