1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

সাবেক পশ্চিম জার্মানিতে ডোপিং নিয়ে রিপোর্ট ঝড়

খেলাধুলায় ডোপিং-এর জন্য এ যাবৎ সাবেক পূর্ব জার্মানির নাম খারাপ ছিল৷ কিন্তু ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগে দুই জার্মানির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিম জার্মানির খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, এমনকি রাজনীতিকরাও ডোপিং নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন৷

রিপোর্টটা প্রকাশ করেছে ‘ফেডারাল ইনস্টিটুট ফর স্পোর্ট সায়েন্সেস'৷ ১৯৫০ সাল যাবৎ পশ্চিম জার্মানিতে খেলাধুলার ক্ষেত্রে ডোপিং নিয়ে একটি সমীক্ষার সারাংশ দেওয়া হয়েছে এই রিপোর্টে৷ মুশকিল এই যে, মূল সমীক্ষার একটি বড় অংশ – যাতে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, রাজনীতিকদের নাম থেকে থাকতে পারে – রিপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া সমীক্ষাটি যে গবেষকরা করেছেন, তাঁরাই বলছেন, ১৯৯০-৯১ সাল নাগাদ প্রাক্তন পশ্চিম জার্মানিতে ডোপিং সংক্রান্ত বহু নথিপত্র বিনষ্ট করা হয়েছে৷

ওদিকে সামনে সংসদীয় নির্বাচন৷ কাজেই সব রাজনৈতিক দলই এখন তাদের মাথা-মাথা রাজনীতিকরা যে এই ব্যাপক এবং ‘সিস্টেম্যাটিক' ডোপিং সম্পর্কে হয় কিছু জানতেন না, নয়ত জড়িত ছিলেন না, সেটা দেখাতে, অন্যদিকে বিপক্ষের প্রতি আঙুল তুলতে ব্যস্ত৷ মুশকিলে পড়েছেন জার্মান ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে ক্ষমতাশীল ব্যক্তি থোমাস বাখ, যিনি শুধু জার্মান অলিম্পিক কমিটিরই প্রধান নন, আগামীতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি হবার উচ্চাশা রাখেন৷

Thomas Bach

জার্মান ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে ক্ষমতাশীল ব্যক্তি থোমাস বাখ

বাখ বলছেন, তিনি নিজে বহুবছর ধরে অ্যাথলিট এবং কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও ডোপিং-এর ব্যাপারে কিছুই জানতেন না৷ কিন্তু প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ ও ট্রেনাররা বাখের এ ভাষ্য মানতে রাজি নন৷ তাঁরা বলছেন, বাখ নিজে ১৯৭৬ সালে ফেন্সার হিসেবে অলিম্পিকে মেডেল জিতেছেন; তিনি জানেন, মন্ট্রিয়লে ডোপিং নিয়ে কি কেলেংকারির সৃষ্টি হয়েছিল; ১৯৮০ সালে বাখ ছিলেন অ্যাথলিটদের মুখপাত্র৷ তিনি যদি আজ বলেন যে, তিনি ডোপিং-এর ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, তাহলে সেটা বিশ্বাস করা শক্ত৷

সরকারি ব্যয়ে ডোপিং

আসল দুঃস্বপ্নটা হলো, এই রিপোর্টের অর্থ, খেলাধুলার ক্ষেত্রে সাবেক পূর্ব জার্মানি আর সাবেক পশ্চিম জার্মানির মধ্যে কোনো তফাৎ রইল না – বলছেন নামি-দামি সাবেক অ্যাথলিটরা৷ পশ্চিম জার্মানিতেও দৃশ্যত সরকারিভাবে ডোপিং সহ্য করা হয়েছে, এমনকি সরকারি ব্যয়ে ডোপিং-এ মদত দেওয়া হয়েছে৷ পূর্ব জার্মানির ক্ষেত্রে বাড়তি যেটুকু, তা হলো এই যে, পূর্ব জার্মানির সরকার সক্রিয়ভাবে ডোপিং-এ উৎসাহ দিয়েছেন; পশ্চিমে সরকার সব জেনেশুনে নীরব থেকেছেন৷

কিন্তু প্রশ্ন হলো: কারা এই ডোপিং-এর জন্য দায়ী? এছাড়া: পূর্ব জার্মানিতে যে সব ট্রেনার, কোচ, ডাক্তারদের ডোপিং-এ সাহায্য করার জন্য রীতিমতো অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এক রকম বিচার, আর পশ্চিম জার্মানিতে যারা একই কুকর্ম করেছে, তাদের জন্য আরেক রকম বিচার, এ হতে পারে কি করে?

রিপোর্টে সেই নামগুলোই নেই৷ সেগুলো কি জেনেশুনে বাদ দেওয়া হয়েছে? রিপোর্টের অপ্রকাশিত অংশটিতে কি ছিল? জার্মানির ক্রীড়াজগত কি তার নিজের অতীতের মুখোমুখি হওয়ার মতো সৎসাহস প্রদর্শন করতে পারবে? ডোপিং থেকে ন্যায় ও নৈতিকতার সুবৃহৎ প্রশ্নগুলির দূরত্ব ঠিক এতটাই কম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন