1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাবেক জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেনশার পরলোকে

যুদ্ধোত্তর জার্মানির রূপরেখা এঁকেছেন যে সব রাজনীতিক, তাদের মধ্যে গণ্য; দুই জার্মানির পুনর্মিলনের হোতাদের মধ্যে গণ্য; পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সারা বিশ্বে মান্য হান্স-ডিট্রিশ গেনশার ৮৯ বছর বয়সে পরলোকগমন করলেন৷

১৯৮৯ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর প্রাগে জার্মানি দূতাবাসের বারান্দা থেকে ঘোষণা করেছিলেন গেনশার, ‘‘আমরা আপনাদের জানাতে এসেছি যে, আজ আপনাদের যাত্রা...''

দূতাবাসের প্রাঙ্গণে সমবেত পূর্ব জার্মান নাগরিকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন৷ সেই হর্ষধ্বনির মধ্যে গেনশারের শেষ কয়টি কথা শোনাই যায়নি, ‘‘...অনুমোদিত হয়েছে৷'' পূর্ব জার্মানি থেকে এই মানুষরা চেকোশ্লোভাকিয়া পৌঁছে, বেড়া টপকে জার্মান দূতাবাসের বাগানে ঢুকে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন শুধু ঐ কটি ক'থা শোনার আশায় – যে তারা বিনা বাধায় পশ্চিম জার্মানিতে যেতে পারবেন৷

গেনশার পরে বলেন যে, এটি ছিল তাঁর রাজনীতিক জীবনের সবচেয়ে আবেগপূর্ণ মুহূর্তগুলির মধ্যে একটি৷ ‘‘এ রকম আনন্দের অভিব্যক্তি কল্পনা করা শক্ত'', মন্তব্য করেছেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

হার্ট ফেল করে শুক্রবার মারা গেছেন জার্মানির উদারপন্থি এফডিপি দলের এই পিতৃপুরুষ৷

সাবেক জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স-ডিট্রিশ গেনশার

প্রাগে জার্মান দুতাবাসের ব্যালকনিতে গেনশার

ঝানু কূটনীতিক

শীতল যুদ্ধের সময়ে মূলত আলাপ-আলোচনা ও আপোষের উপর নির্ভর করে কাজ চালিয়ে গেছেন হান্স-ডিট্রিশ গেনশার৷ ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে গেনশার বলেছিলেন, ‘‘ইউরোপে আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শান্তি, যার ছত্রছায়ায় জার্মান জনগণ স্বাধীন স্বনির্ধারণের মাধ্যমে তাদের ঐক্য পুনরর্জন করতে পারবেন৷’’

গেনশারের বীজমন্ত্র ছিল, বিপক্ষের কাছে যাওয়া, অপরপক্ষের কথা শোনা, তার সঙ্গে কথা বলা৷ সেভাবেই তিনি শীতল যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার মুখে মস্কোর মনোভাব যখন বদলাতে শুরু করেছে, তখন জার্মান পুনর্মিলনের সুযোগ দেখেন ও ‘পুনর্মিলনের চ্যান্সেলর’ হেলমুট কোল-এর মতো তার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেন৷

হান্স-ডিট্রিশ গেনশার

হান্স-ডিট্রিশ গেনশার

এক হিসেবে দুই জার্মানির পুনর্মিলন গেনশারের ব্যক্তিগত জীবনের একটা অসমাপ্ত অধ্যায়কে সমাপ্ত করেছে, কেননা গেনশারের জন্ম সাবেক পূর্ব জার্মানির হালে শহরে৷ ১৯৫২ সালেই তিনি পূর্ব জার্মানি ছেড়ে পশ্চিম জার্মানির ব্রেমেন শহরে চলে আসেন ও আইনজীবীর পেশা অবলম্বন করেন৷

জার্মান চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ড-এর সরকারে ১৯৬৯ সালে থেকে ১৯৭৪ সাল অবধি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীপদে নিযুক্ত ছিলেন গেনশার৷ ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিক চলাকালীন ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদীদের রক্তাক্ত আক্রমণকে তিনি তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় দিন বলে বর্ণনা করেছেন৷

১৯৭৪ থেকে ১৯৯২ সালে অবধি তিনি ছিলেন চ্যান্সেলর হেলমুট কোল-এর সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেই সঙ্গে ভাইস চ্যান্সেলর৷ তবে সামাজিক গণতন্ত্রীদের পরিবর্তে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীদের সঙ্গে জোট গঠনের জন্য তাঁকে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে৷

বন্ধু, আপনি কি গেনশার বা তাঁর র্কমজীবন সম্পর্কে আগে জানতেন? তাহলে জানান আমাদের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন