1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সান অ্যান্ড সার্ফ

ফুয়ের্তেভেন্তুরা কথাটির অর্থ হলো জোরালো বাতাস, অথবা ফরাসি ভাষায় গ্রেট অ্যাডভেঞ্চার৷ আসলে এটি একটি দ্বীপ, ছুটি কাটানোর দ্বীপ৷

ফুয়ের্তেভেন্তুরা হলো অতলান্তিক মহাসাগরে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ৷ এখানকার সমুদ্রসৈকতে সারাক্ষণ উত্তর থেকে জোরালো হাওয়া বয়, পরিভাষায় যার নাম ‘ট্রেড উইন্ডস'৷ কাজেই এটা উইন্ডসার্ফার আর কাইটসার্ফারদের স্বর্গ৷ দ্বীপের উত্তরে পাথুরে সৈকতগুলোতে কিন্তু সার্ফারদের রাজত্ব, কেননা এখানে ঢেউগুলো পাথরে আঘাত খেয়ে সমানভাবে ভাঙে৷

যার ঢেউয়ের ওপর সার্ফিং জানা নেই, তার জন্য ফুয়ের্তেভেন্তুরায় অসংখ্য সার্ফিং স্কুল রয়েছে – যেমন এল কতিয়োর ‘ফ্রেশসার্ফ'৷ সার্ফিং প্রশিক্ষক অ্যান্ডি কুলেপিস প্রথমে বোঝান, ঢেউ ছোট-বড় হয় কেন ও কীভাবে: ‘‘ফুয়ের্তেভেন্তুরায় দিনে চারবার জোয়ার আসে, ঢেউয়ের উচ্চতা প্রতিবারেই প্রায় একরকম হয়৷''

এল কতিয়োর কাছেই সৈকত৷ প্রথমে শুকনো মাটিতে – থুড়ি, বালুতে – একটু প্র্যাকটিস করে নেওয়া দরকার৷ তারপর কম জলে সার্ফিং – সার্ফিং রংরুটদের জন্য ঢেউগুলো বেশ শান্তশিষ্ট৷

‘‘সারা বছর ধরে ঢেউগুলো প্রায় একই রকম থাকে, কাজেই অপ্রত্যাশিত বলে কিছু নেই৷ বিভিন্ন মরশুমে বিভিন্ন ধরনের ঢেউ: উঁচু ঢেউ, নীচু ঢেউ, অতিকায় ঢেউ! সাধে কি আর ফুয়ের্তেভেন্তুরাকে ইউরোপের হাওয়াই দ্বীপ বলে৷''

গ্রামের আমেজ

দ্বীপের অভ্যন্তরে যে সব ন্যাড়া পাহাড় আছে, সেগুলো নিভে যাওয়া আগ্নেয়গিরি, লক্ষ লক্ষ বছরের পুরনো৷ পাহাড়গুলোর মাঝখানে দ্বীপের রাজধানী বেতানকুরিয়া৷ পঞ্চদশ শতকের গোড়ায় নর্মান রাজা জঁ দ্য বেতঁকুয়র এই দ্বীপে পদার্পণ করেন – তাঁরই নামে রাজধানী৷ বেতানকুরিয়া আজ দ্বীপের রাজধানী – অপরূপ শহর৷ রেস্টুরেন্ট মালিক রিকার্দো সিলভেরা মেখিয়াস বলেন:

‘‘বেতানকুরিয়ায় ফুয়ের্তেভেন্তুরার গ্রামীণ ও প্রাকৃতিক দিকটি দেখতে পাওয়া যায়৷ এখানে সব কিছু টুরিস্টদের জন্য নয়, সব কিছু শুধু সৈকত আর সূর্যস্নান নয়৷ বেতানকুরিয়া আজও একটি গ্রামের মতো ছোট ও সুন্দর – এখানে দ্বীপের নানা প্রথাগত খাদ্য ও পানীয়ের আস্বাদ নেওয়া যায়৷''

‘কাসা সান্তা মারিয়া' রেস্তোরাঁটি দু'শ বছরের বেশি পুরনো একটি খামারবাড়িতে৷ স্বভাবতই ‘টাপাস' গোত্রীয় স্পেনীয় ফিঙ্গার ফুড'-ও এখানে পাওয়া যায়৷ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একটি স্পেশ্যালিটি হলো ‘পাপাস আরুগাদাস': সৈন্ধব লবণ আর লাল-সবুজ চাটনি দেওয়া আলুভাজা৷ দ্বীপের মানুষ আবার ছাগলজাত সব কিছু ভালোবাসেন, দুধ থেকে চিজ থেকে মাংস৷ বেতানকুরিয়ায় ছাগল পোষা হয়৷ ছাগলের দুধ থেকে তৈরি চিজ খাওয়া হয় তেলে জারানো অলিভ আর প্রতিবেশী দ্বীপ লান্সেরতের ওয়াইনের সঙ্গে৷

পৃথিবী এখানেই শেষ

দ্বীপের দক্ষিণে ওয়েসিস পার্কের বট্যানিক্যাল গার্ডেন: এখানে আছে আট হাজার নানা ধরনের পাম গাছ আর প্রায় ৩০ হাজার ক্যাকটাস৷ পার্কের একটা লক্ষ্য হলো, দ্বীপের কিছু বিশেষ গাছপালার সংরক্ষণ৷ ওয়েসিস পার্কের অধ্যক্ষ স্টেফান শলৎস বলেন:

‘‘এমন কিছু গাছপালা আছে, যেগুলো শুধু বিশেষ কোনো পাহাড়, খাড়ি কিংবা পাহাড়ের ঢালে গজায়৷ আমরা চেষ্টা করি, সেই ধরনের গাছপালা আমাদের পার্কে রাখবার৷ এভাবে আমরা গাছপালা সংরক্ষণে আমাদের অবদান রাখার চেষ্টা করি, কেননা বাইরের খোলামেলায় ওরা ক্রমেই বিরল হয়ে আসছে৷''

শেষমেষ আবার সাগর – তবে দ্বীপের দক্ষিণে লা পারেদ-এর খাড়া উপকূলটি দেখলে মনে হবে, পৃথিবী এখানেই শেষ হতে চলেছে৷ সেটাই তো ফুয়ের্তেভেন্তুরার মজা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক