1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সাগরেরও তাপমাত্রা বাড়ছে

উষ্ণায়নের ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ তার একটা বড় কারণ হলো সাগরের পানির সম্প্রসারণ, দেখছেন বিজ্ঞানীরা৷ কিন্তু এর অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে? ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে? সেজন্য আমাদের কী করা উচিত?

উষ্ণায়নের ফলে সাগরের জলের উচ্চতা বেড়ে চলেছে৷ বর্তমানে ‘সি লেভেল' বাড়ছে বছরে তিন মিলিমিটার করে৷ তার একটা কারণ মেরু অঞ্চলের তুষার ও হিমবাহের বরফ গলা৷ অপরদিকে তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সাগরের পানির সম্প্রসারণ ঘটছে৷ এভাবে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ার ফলে বিভিন্ন দ্বীপরাজ্য ও বাংলাদেশ বা নেদারল্যান্ডসের মতো উপকূলবর্তী দেশগুলি বিপদের মুখে৷

এ যাবৎ ধরে নেওয়া হয়েছিল যে, বিশ্বব্যাপী বরফ গলার ফলেই সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সাগরের জলরাশির সম্প্রসারণ ঘটছে, অর্থাৎ তার ঘনত্ব কমে গিয়ে আয়তন বাড়ছে৷ দৃশ্যত ‘সি লেভেল' বাড়ার এটাও একটা বড় কারণ৷ বন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওডেসি অ্যান্ড জিওইনফর্মেশন ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ইয়ুরগেন কুশে বললেন, ‘‘আমরা গত ১২ থেকে ১৫ বছরের ফলাফল পরীক্ষা করে দেখেছি৷ বছরে তিন মিলিমিটার করে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ এ পর্যন্ত আমরা ভাবছিলাম যে, এর এক-চতুর্থাংশ সম্ভবত উষ্ণায়নের ফলে সাগরের পানির সম্প্রসারণের কারণে৷ কিন্তু এখন আমরা দেখছি, তার অনেক বেশি: সি লেভেল বাড়ার ৫০ শতাংশ হলো সাগরের পানির সম্প্রসারণের দরুণ৷''

নতুন তথ্য

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, গত ১২ বছরে উষ্ণায়নের এই বিশেষ ফলশ্রুতি যা ভাবা গিয়েছিল, তার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে৷ নতুন পদ্ধতিতে স্যাটেলাইটের ডাটা অ্যানালাইজ করে সাগরের পানির সম্প্রসারণ নিখুঁতভাবে হিসেব করা যায়৷

অপরদিকে উষ্ণায়নের ফলে পানির সম্প্রসারণ যদি সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ায় একটা বৃহত্তর ভূমিকা পালন করে থাকে, তাহলে অতীতে অনেক কম তুষার গলা জল সাগরে গিয়ে পড়েছে৷ কেননা সাগরের পানির উচ্চতা আগের মতোই বছরে তিন মিলিমিটার করে বেড়ে চলেছে৷

তবে এর একটা খারাপ দিকও আছে৷ এর অর্থ, সাগর আরো অনেক বেশি তাপ শুষে নিয়েছে৷ জিওডেসি অ্যান্ড জিওইনফর্মেশন ইনস্টিটিউটের ডক্টর-ইঞ্জিনিয়ার রোয়লফ রিটব্রুক জানালেন, ‘‘সাগরের পানি যে আগের চেয়ে বেশি গরম হচ্ছে, সেটার তাৎপর্য আছে, কেননা সাগরের গরম পানি থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়৷ কাজেই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, সাগরের পানি যত গরম হবে, ততই আরো জোরালো ঘূর্ণিঝড় অথবা আরো ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে৷''

জলের তাপমাত্রা বাড়লে সেই তাপ বাষ্প সৃষ্টি করে৷ বাষ্পের মাধ্যমে সেই শক্তি বাতাসে গিয়ে পড়ে, ফলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়, ব্যাপক বৃষ্টিপাত আর বন্যা দেখা দেয়৷

পানি আর বাতাসের মধ্যে তাপমাত্রার ব্যবধান যত বেশি হবে, ঘূর্ণিঝড় ঠিক তত বেশি জোরালো হবে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আরো ঘন ঘন আবহাওয়ার দুর্যোগ ঘটবে, বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা৷ শতাব্দীর শেষ অবধি ঝড়জল আর বন্যা থেকে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াতে পারে৷

নতুন স্ট্র্যাটেজির প্রয়োজন

এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষভাবে বিপন্ন৷ এখানে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে দ্রুতহারে৷ ভারত ও বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তু হারিয়েছেন সাগর এগিয়ে আসার ফলে৷ একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের বাস এমন সব এলাকায়, যেখানে সাগরের জল বাড়লে, তাদের ঘরছাড়া হতে হবে৷ প্রফেসর ইয়ুরগেন কুশে মনে করেন, ‘‘আমাদের বিভিন্ন ধরণের ‘স্ট্র্যাটেজির' প্রয়োজন পড়বে৷ এমন এলাকা আছে, যেখানে বাঁধের উচ্চতা বাড়াতে হবে – একে বলে মানিয়ে নেওয়ার নীতি৷ আবার এমন এলাকা আছে, যেখানে উপকূল থেকে সরে যেতে হবে৷ এলাকা অনুযায়ী দেখতে হবে, সেখানে কি করা যায়, তার খরচ কীরকম পড়বে৷ কিন্তু আমাদের এখনই তা নিয়ে ভাবতে হবে৷''

সাগরের পানির উচ্চতা বাড়া রোখার কোনো পন্থা নেই৷ আর্থিক অথবা অন্য কারণে বাঁধ তৈরি সম্ভব না হলে, মানুষজনকে উপকূল ছেড়ে দেশের অভ্যন্তরে গিয়ে বাস করতে হবে, সেখানে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে৷

বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই বাস্তুহারা হয়েছেন সাগর এগিয়ে আসার ফলে৷ এই বিপদ এড়ানোর কোনো উপায় আপনার জানা আছে কি? লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক