1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাঈদীর কারাদণ্ড: আঁতাত, গণজাগরণ মঞ্চ ও হরতাল

জামাত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত৷ কিন্তু এ রায় নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেষ৷ গণজাগরণ মঞ্চ বলছে এটা আঁতাতের রায়৷ অন্যদিকে জামাত পালন করছে হরতাল৷

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পর, তার ফাঁসির দাবিতে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে গড়ে উঠে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ৷ তাঁরা আন্দোলনে সফলও হয় তখন৷ কিন্তু কয়েকমাস আগে গণজাগরণ মঞ্চ তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়৷ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের প্রতি কামাল পাশার নেতৃত্বে একাংশ অনাস্থা জানিয়ে তাঁরাই গণজাগরণ মঞ্চের মূল শক্তি হিসেবে নিজেদের দাবি করেন৷ অন্যদিকে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন নিয়ে ‘শাহবাগ আন্দোলন' নামে একটি আলাদা মঞ্চ তৈরি হয় বাপ্পাদিত্য বসুর নেতৃত্বে৷

বুধবার জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর শাস্তি কমানোর রায়ের একদিন পর, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, ‘শাহবাগ আন্দোলন' শাহবাগে সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করে৷

Bangladesch Dhaka Gericht Kriegsverbrechen Delwar Hossain Sayeedi Protest gegen Urteil

শাহবাগে সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল

পরে এক সমাবেশে বাপ্পাদিত্য বসু দাবি করেন, ‘‘এই রায় আপোষের মধ্য দিয়ে হয়েছে৷ শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন বিভক্ত হওয়ার কারণেই এই রায় দেয়ার সাহস করেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘তাই এই পরিস্থিতিতে সকল ভেদাভেদ ভুলে গণজাগরণ মঞ্চের সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানাচ্ছি আমারা৷''

বুধবার রায়ের দিনই গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার একে ‘আঁতাতের রায়' বলে অভিহিত করেন৷ তিনিও সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের নামার আহ্বান জানান৷ একই কথা বলেন মঞ্চের একাংশের নেতা কামাল পাশা চৌধুরী৷ তিনিও রায়কে প্রত্যাখান করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলেন৷

তবে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আঁতাত শব্দটি আওয়ামী লীগের ডিকশনারিতে নেই৷ যাঁরা আঁতাতের কথা বলেন, তাঁরা ষড়যন্ত্রকারীদের একটি অংশ৷ আওয়ামী লীগ আঁতাতের রাজনীতি করে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড থেকে কারাদণ্ডের রায় মেনে নিতে পারি না৷ দেশের মানুষ হতাশ হয়েছে৷ তবে যেহেতু এটি সর্বোচ্চ আদালতের রায়, তাই এ রায় আমরা মেনে নিচ্ছি৷''

এদিকে এই রায়ের পর বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি৷ তবে তারা পরিস্থতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে৷ "তাঁরা এখন দেখতে চান সরকারবিরোধী আন্দোলনে জামায়াত কী ভূমিকা নেয়৷ আর সেই ভূমিকাই প্রমাণ করবে এই রায়ের নেপথ্যে কিছু আছে কিনা৷''

অবশ্য বিএনপির এই আপাত নীরব ভূমিকা সহজভাবে নিচ্ছেন না সরকারি দলের নেতারা৷ তাঁরাও দেখতে চান জাময়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কেথায় গিয়ে দাঁড়ায়৷ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘‘সাঈদীর রায়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নীরবতা আসলে তাঁর কৃতজ্ঞতার প্রকাশ৷ এতে প্রমাণ হয় যে, তিনি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষত্যাগ করেননি৷''

Bangladesch Dhaka Gericht Kriegsverbrechen Delwar Hossain Sayeedi Protest gegen Urteil

রায় নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও জল কামাল ছোড়ে

অন্যদিকে সাঈদীর শাস্তি কমলেও তাতে এখনো ‘নাখোশ' জামায়াতে ইসলামী বৃহস্পতিবার সারাদেশে ২৪ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করছে৷ হরতালে দিনের প্রথম ১২ ঘণ্টায় জামায়াত-শিবিরের অতীত রূপ দেখা যায়নি৷ সারাদেশে তারা নিরীহ হরতাল পালন করেছে৷ রবিবার আরো ২৪ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি রয়েছে তাদের৷ তবে গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়ার পর, রায়ের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির৷ ঐ সহিংসতায় এতদিনেই ৭০ জন নিহত হন৷

জামায়াতের এই নিরীহ হরতালকে ‘খুশি'-র হরতাল বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া৷ তিনি বলেছেন, ‘‘আদালতের দেয়া রায়ে মুক্তিযোদ্ধারা খুশি হতে পারে নাই, খুশি হয়েছে জামায়াত৷ তারা খুশি হয়েই আজকের এই হরতাল দিয়েছে৷ এই হরতাল জামায়াতের পিঠ বাঁচানোর হরতাল৷''

আরো রায় আসছে...

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবে৷ এ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১'এ চারটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় থাকল৷

অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিলের শুনানি বুধবার শেষ হয়েছে৷ যে কোনো দিন আপিলের রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকার পল্লবীতে গণহত্যার অভিযোগে গত ৯ই মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন