1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাইবার অপরাধ বেড়েই চলেছে

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে অপরাধ বেড়েই চলছে৷ এই অপরাধের বড় অংশই হচ্ছে কাউকে হেয় করে ছবি, মন্তব্য বা পোস্ট৷ কিছু ব্যতিক্রম বাদে এর প্রতিকার তেমন পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ৷

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেনের ফেসবুক পেজে তাঁর বোনের সাথে তোলা ছবি পোস্ট করার পর সেখানে নোংরা মন্তব্য নিয়ে এখন বাংলাদেশে চলছে তুমুল আলোচনা সমালোচনা৷ এরই মধ্যে নাসির হোসেন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি সরিয়ে নিয়েছেন৷ নাসিরের সমব্যথী হয়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশকে ‘কান্ট্রি রেস্ট্রিক্ট' করে দেন৷ ফলে বাংলাদেশের কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারী মাশরাফির পেজটি দেখতে পাচ্ছেন না৷

২৫শে জুন নাসির হোসেন তাঁর ছোটবোনের সাথে তোলা একটি সেল্ফি তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন৷ মূলত ছোট বোনের আবদার রক্ষা করতেই এ ছবি তোলা এবং ফেসবুকে পোস্ট করা৷ কিন্তু সেই ছবিতে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা মন্তব্য করে কতিপয় বিকৃত মানসিকতার ফেসবুক ব্যবহারকারী৷

এতে ব্যথিত হয়ে উক্ত ছবিটি ডিলিট করেন নাসির হোসেন এবং এর প্রতিবাদ জানিয়ে একটি অভিমানী পোস্ট দেন তাঁর পেজে৷ তিনি লিখেন, ‘‘আপনাদের খারাপ মন্তব্য দেখে অনেক কষ্ট পেলাম৷ আমার ছোট বোনের আবদার মেটাতে তার সাথে আমার ছবি পেজে পোস্ট করেছিলাম৷ তাই বলে আপনারা অনেকেই বাজে মন্তব্য করেছেন৷ যেটা নিয়ে অনেকেই ফান পোস্টও করছেন৷ পোস্টটা ডিলিট করে দিলাম এখন খুশি তো? আপনাদের মতো ফ্যান আমার দরকার নাই৷ আমাকে যাঁরা পছন্দ করেন না তাঁরা আমার ছবিতে লাইক দিবেন না৷ আমাকে ফলো করবেন না৷''

তবে এসব অসুস্থ মানসিকতার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই৷ এরই মধ্যে যারা এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তাদের চিহ্নিত করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা৷ চিহ্নিত করে অনলাইনে তাদের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে৷ কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তাদের আটক বা গ্রেপ্তার করেনি৷

জানা গেছে, র‌্যাব সদর দপ্তরসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হুমকি বা উত্ত্যক্ত করার বিপুল অভিযোগ প্রতিদিনই জমা পড়ছে৷ এর মধ্যে বড় একটি অংশ হচ্ছে নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা৷ বিশেষ করে ইনবক্সে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ছবি পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া যায় প্রায়ই৷ এ ধরনের ঘটনার শিকার ঢাকার ধানমন্ডির এক নারী ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আনফ্রেন্ড বা ব্লক করেও তাদেও থামানো যায় না৷ তারা নতুন ফেসবুক আইডি খুলে একই কাজ শুরু করে৷'' তিনি জানান, ‘‘পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কাজ হয় না৷ প্রথমত পুলিশ বিষয়টিতে ঝামেলা মনে করে এড়িয়ে যায়৷ আবার কখনো কখনো ‘ফেক আইডি’ বলে উড়িয়ে দেয়৷''

শুধুমাত্র কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য নয়,ফটোশপে কারসাজি করে বানানো আপত্তিকর ছবি দিয়েও হেয় করার চেষ্টা করা হয়৷ এমনকি ফেসবুকে প্রতিপক্ষকে হেয় করতে মিথ্যা ও ভুয়া খবরও ছড়ানো হয়৷

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরা এ ধরনের অভিযোগ পাই এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নিই৷ তবে অপরাধীদেরও চিহ্নিত করার পর ভুক্তভোগী অনেকেই মামলা করতে চাননা৷ তারা চান বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে৷ যা অনেক সময় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে৷''

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘‘আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে এখন যারা ফেসবুক ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ করে তাদের অধিকাংশ আইডি ভুয়া৷ আবার একটি গ্রুপ আছে যারা দেশের বাইরে অবস্থান করেন৷ ফলে তাদের চিহ্নিত করা গেলেও আইনের আওতায় আনা অনেক সময় সম্ভব হয় না৷''

ক্রিকেটার নাসির হোসেনের ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গির হোসেন জানান, ‘‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি৷ তবে তিনি এখনো পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি৷'' তিনি বলেন, ‘‘সাইবার অপরাধ নিয়ে পুলিশ যে তৎপর আছে, তার প্রমাণ বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতন করছে বলে ফেসবুকে ভুয়া ছবি দিয়ে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদেরও চিহ্নিত এবং আটক করা হয়েছে৷''

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিয়ে এরই মধ্যে একজন শিক্ষকসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন৷ আর এ বিষয়ে পুলিশ নিজেই ব্যবস্থা নিয়েছে৷ তবে সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিকার তেমন পায় না৷

অথচ বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি আইনে সাইবার অপরাধের প্রতিকারের ব্যবস্থা কিন্তু আছে৷ বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সাবির আহমেদ সুমন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এগুলো সাইবার অপরাধ৷ তথ্য-প্রযুক্তি আইনে পুলিশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে৷ আর সেখানে পুলিশের নজরে কোনো ঘটনা আসলে পুলিশ নিজেই বাদি হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে৷''

তিনি বলেন, ‘‘তবে এটা আমাদের সার্বিক শিক্ষা এবং রুচি বোধেরই প্রতিফলন৷ আমরা ইন্টারনেট ভব্যতা শিখিনি৷ ফেসবুক বা টুইটার একটা মাধ্যম৷ একজন রুচিহীন মানুষ যে কোনো মাধ্যমে তার রুচিহীনতার প্রকাশ ঘটাতে পারেন৷ তবে আইন এবং মনিটরিং কঠোর হলে তারা দমে যাবেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়