1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে ইউরোপীয় উদ্যোগ

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে গঠন করা হয়েছে ‘ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার'৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর ‘ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট' বা ইউরোপোল-এর একটি অংশ এটি৷ যার বাজেট বছরে ৩.৬ বিলিয়ন ইউরো৷

পাসওয়ার্ড ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষ৷ কিংবা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে বিকল করে দিয়েছে কোম্পানির সব তথ্য৷ অথবা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সব টাকা চুরি করে নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে গেছে হ্যাকার – এমন দৃশ্য সিনেমায় দেখেছেন নিশ্চয়ই?

কেবল সিনেমা নয়, বাস্তব জগতেও এ সব ঘটনা অহরহই ঘটছে৷ বিশেষ করে অ্যামেরিকা আর ইউরোপের উন্নতদেশগুলোতে এ সব ঘটনা এখন অত্যন্ত সাধারণ৷

নানান রকম অপরাধ...

পত্রিকার পাতায় এমন খবর প্রায়শই চোখে পড়ে যে, রাতে যিনি নিজের অ্যাকাউন্টে কোটি টাকা রেখে ঘুমোতে গেলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন অ্যাকাউন্ট একেবারে ফাঁকা৷ কোনো টাকা নেই৷ মনে চোট পেলেও কিচ্ছু করার নেই সে ভুক্তভোগীর৷ কারণ, অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক' হয়ে গেছে৷

এই ‘হ্যাকিং' এখন আর শুধু ব্যাংকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়৷ ফেসবুক, টুইটার বা ব্লগের অ্যাকাউন্টও যোগ হয়েছে হ্যাকারদের তালিকায়৷ এছাড়া বিভিন্ন অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির ঘটনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানান সব ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে কম্পিউটার বা কোনো অফিসের পুরো কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সিস্টেমকে বিকল করে দেবার মতো মারাত্মক ঘটনাও৷

Phishing-mails spähen Daten aus, Postbank Internetseite

অনলাইন ব্যাংকিং’ও সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে

সাইবার অপরাধের ঘটনাটা এখানেই শেষ নয়৷ আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রও যোগ হয়েছে সাইবার অপরাধ জগতে৷ কারণ, সেই পুরনো পদ্ধতির খুন-খারাপিতে না গিয়ে ঘরে বসে ব্যাংক আইডি, পাসওয়ার্ড এবং অন্যের প্রোফাইল চুরি করাটা এখন আরো বেশি আধুনিক আর ঝামেলা বিহীন৷

সাইবার অপরাধ: ইউরোপে উদ্বেগ...

পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের কারণে শুধু ইউরোপেই বছরে ক্ষতি হয় অন্তত ৯২৯ বিলিয়ন ডলার৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, প্রতিদিন গড়ে অন্তত এক মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয় সাইবার অপরাধীদের দ্বারা৷

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সাইবার অপরাধ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ইউরোপে৷ সাইবার অপরাধ বেড়ে চলার এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুইডিশ রাজনীতিক সেসিলিয়া মালমস্ট্রোম৷ তাঁর মতে, এই ডিজিটাল যুগে মানুষের জীবন এখন নীরাপত্তাহীনতায় ভরা৷ আর এই ভয় সর্বত্র ছড়ানো৷ কেননা এখন, ‘‘অনলাইনে কেনাকাটা করায় ভয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যোগ দিতে ভয় এবং ভয় দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারেও৷''

সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হ্যাকাররা বা সাইবার অপরাধীরা যখন এক দেশে বসবাস করে অন্য দেশে সাইবার অপরাধ ঘটায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে৷

‘ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার'...

তাই ইউরোপের সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গঠন করা হয়েছে ‘ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার'৷ এটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর ‘ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট', ইউরোপোল-এর একটি অংশ৷ এর দপ্তর দ্য হেগ শহরে৷ আর এই কমিশনের বার্ষিক বাজেট প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ইউরো৷

সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে এই কমিশনে যোগ দিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫৫ জন তদন্তকারী৷ ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ ইয়ান ফিলিপ অ্যালব্রেশ্ট-এর মতে, ‘‘এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ৷'' তবে এই কমিশনে ‘‘আরো বেশি সংখ্যক তদন্তকারী নিয়োগ করা প্রয়োজন''৷

Symbolbild Internet Spionage Kriminalität Cyberangriffe

সশরীরে নয়, দূরে বসে তারের মধ্য দিয়েই হানা দিতে পারে দুষ্কৃতিরা

প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ...

ইউরোপ জুড়ে ঘটে চলা সাইবার অপরাধগুলো ঠেকাতে ইইউ'এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে আরো সমন্বিত ও একাত্ম হয়ে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ‘ইউরোপীয়ান নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইনফরমেশন সিকিউরিটি এজেন্সি'-র নির্বাহী পরিচালক উডো হেল্মব্রেশ্ট৷

উডো বলেন, ‘‘ক্রেডিট কার্ড বা তথ্য চুরি হয়ে গেলে স্থানীয় ভাবে মাঠে নামা যায়৷ কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে কিছু করতে হলে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন৷'' আর এই সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টিকে তিনি একটি বিরাট ‘চ্যালেঞ্জ' হিসেবেই মনে করছেন৷

সমন্বিতভাবে কাজে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে৷ সাইবার অপরাধ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের দিকে এগুবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ আর সেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তেই ইউরোপ নিয়েছে নিজেদের প্রস্তুতি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়