1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সাইকেলে চড়ে বার্লিন প্রাচীর

দেখতে দেখতে বার্লিন প্রাচীর পতনের ২৫ বছর পার হয়ে গেল৷ পশ্চিম বার্লিনের অনেক মানুষের কাছে এই ‘মাউয়ার' ছিল বাস্তব সত্য৷ অপরদিকে আক্সেল ফন ব্লমব্যার্গ-এর স্বপ্ন ছিল, তিনি পূর্ব বার্লিনের পথে পথে সাইকেল চালিয়ে বেড়াবেন!

জার্মানে বলে ‘‘মাউয়ারভেগ'', অর্থাৎ সাবেক বার্লিন প্রাচীর ধরে যে পথ৷ আজ শুধু ওয়াচটাওয়ার দেখে বোঝা যায়, সীমান্ত ছিল এইখানে৷

আক্সেল ফন ব্লমব্যার্গ ‘প্রাচীরের পথ' বরাবর সাইকেল টুর-এর আয়োজন করে থাকেন – এবং তাঁর সাইক্লিস্টদের একটি স্মৃতিসৌধেও নিয়ে আসেন৷ এটি হলো বার্লিনের পুরনো ট্রেপ্টো এলাকায়৷ ফন ব্লমব্যার্গ বলেন: ‘‘আমার অবাক লাগে: এখানে একটা পার্কের মাঝখানে এই ভয়ংকর সীমান্তের টাওয়ার৷ ওপরে যে ফাঁকগুলো আছে, সেগুলো হলো মানুষের দিকে গুলি চালানোর জন্য৷ আমরা কাছে এটা একটা আশ্চর্য বৈপরীত্য: এদিকে অশুভ অতীত, অন্যদিকে সুন্দর বর্তমান৷''

সীমান্তের জীবন

সীমান্ত বরাবর জীবন যে কত কঠিন ছিল, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সেটা দেখানোই হলো আক্সেল ফন ব্লমব্যার্গ-এর কাছে আসল চ্যালেঞ্জ৷ বার্লিন প্রাচীরের অধিকাংশ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে৷ আধুনিক বার্লিনে অতীতের স্মৃতিচারণের জন্য বেশি জায়গা পড়ে নেই৷

Berlin Feierlichkeiten am 9. November 25 Jahre Mauerfall Merkel

বার্লিন প্রাচীরের ধার দিয়ে চলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল...

সেরকম একটা জায়গা হলো ফ্রিডরিশসহাইন এলাকার ইস্ট সাইড গ্যালারি৷ ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর শিল্পীরা লম্বা দেওয়ালের পুবদিকটা ছবি এঁকে এঁকে ভরে দেন, কেননা ওদিকটা আগে সাবেক পূর্ব জার্মানির প্রহরীদের কড়া নজরে ছিল৷ আজ প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ তেরো'শ মিটার লম্বা সেই ওপেন এয়ার গ্যালারিটি পরিদর্শন করে থাকেন৷

১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মান সরকার রাতারাতি এই প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন৷ কড়া প্রহরায় রাখা এই সীমান্ত সমাজতান্ত্রিক জিডিআর-কে পুঁজিবাদী পশ্চিম জার্মানি থেকে আলাদা রাখবে – এই ছিল উদ্দেশ্য৷ যদি কেউ এই প্রাচীর পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার জীবনের ঝুঁকি থাকবে৷

প্রাচীরের পথ

সেকালের সীমান্তরেখার ওপর দিয়ে গিয়ে পৌঁছাতে হবে সুবিখ্যাত ‘চেকপয়েন্ট চার্লি'-তে৷ শীতল যুদ্ধের সময় এই সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রটি ছিল দখলদারি মিত্রশক্তিদের নানা ধরনের নাটকীয় ছলচাতুরির দৃশ্যপট৷ ‘চেকপয়েন্ট চার্লির বাড়ি' নামধারী বেসরকারি সংগ্রহশালাটিতে জিডিআর থেকে নাগরিকদের পলায়ন সম্বন্ধে নানা তথ্য পাওয়া যায়৷

পটসডামার প্লাৎস-এর কাছে ‘প্রাচীরের পথ' গেছে নতুন বার্লিনের মাঝখান দিয়ে৷ এখানে যে এককালে প্রাচীরের অস্তিত্ব ছিল, তা শুধু রাস্তার পাথর দেখে বোঝা যায়৷ ব্রান্ডেনবুর্গ তোরণ কাছেই, যুগপৎ বিভাজন ও ঐক্যের প্রতীক৷ আক্সেল ফন ব্লমব্যার্গ-এর সাইকেল টুর শেষ হয় ব্যার্নাউয়ার স্ট্রাসে-তে বার্লিন প্রাচীর স্মৃতিসৌধে৷ এখানে প্রাচীর দিয়ে শহরের দুটি অংশ – মিটে এবং ভেডিং-কে – পৃথক করা হয়েছিল৷ যেদিন বার্লিন প্রাচীরের পতন ঘটে, সেদিন রাতে আক্সেল ফন ব্লমব্যার্গ তাঁর সাইকেল নিয়ে – প্রথমবারের মতো – পূর্ব বার্লিনের রাস্তায় ঘুরে বেড়ান:

‘‘আজ যখন ‘প্রাচীরের পথ' ধরে যাই, তখন স্বভাবতই আমার বারংবার মনে হয়, সে আমলে পশ্চিম বার্লিনের আয়তন ছিল ত্রিশ বাই চল্লিশ কিলোমিটার৷ সে হিসেবে আমি এক দ্বীপরাজ্যের বাসিন্দা ছিলাম বলা চলে৷ কিছুদূর গেলেই এই প্রাচীরে ধাক্কা খেতে হতো; পশ্চিম বার্লিনের মানুষজনের কাছে প্রাচীরটা বাস্তব ছিল৷ আর আজকের এই স্বাধীনতা, এই বিশালতা, সীমান্তবিহীন সাইকেল চালানোর যে আনন্দ, সে অনুভূতি আজও প্রাচীরের পথে আমার সঙ্গী৷''

প্রাচীরের পথের মোট দৈর্ঘ্য ১৬০ কিলোমিটার৷ সে পথের সর্বত্র অতীতের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় – যদিও প্রকৃতি বার্লিন প্রাচীরের অনেক অংশ ধীরে ধীরে পুনর্বিজয় করে নিয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক