1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সাইকেলের টিউব থেকে রকমারি সামগ্রী

বার্লিনের এক ডিজাইনার ফেলে দেওয়া সাইকেলের টিউব থেকে তৈরি করেন হাতের ব্যাগ, চশমা রাখার বাক্স, আইপ্যাড-এর খাপ সহ নানা রকমের জিনিস-পত্র৷ দোকানে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি এই সব পণ্য বিক্রি করেন৷

কাটিয়া ভ্যার্নার আবর্জনার স্তূপ ঘাঁটেন৷ ফেলে দেওয়া সাইকেলের টিউব পেলেই তিনি খুব খুশি হন৷ তাঁর সব কাজ তো রবারের পাইপ দিয়েই৷ তিনি বলেন, ‘‘দারুণ উপকরণ এটা৷ পানি ঢুকতে পারে না, বাতাস ঢুকতে পারে না৷ টেকসইও বটে৷ কত কাজেই না লাগে! এমন জিনিস পুড়িয়ে দিলে কেমন লাগে!'

আবর্জনার স্তূপে পড়ে থাকলে এসব বাতিল জিনিস-পত্র সত্যি পুড়িয়ে ফেলা হতো৷ কাটিয়ার হাতে এসে এ সবের যেন পুনর্জন্ম হয়৷ কোনো টুকরো হয়ে ওঠে হাতের ব্যাগ, কোনোটা আবার আইপ্যাড-এর খাপ৷ বার্লিনে তাঁর নিজের দোকান৷ সেখানে সব কিছু হাতে তৈরি৷

কাটিয়া টায়ার ও সাইকেলের দোকানে গিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল বা ট্রাকের টিউব সংগ্রহ করেন৷ তা দিয়ে কী তৈরি করা যায়, তা পাইপের আকারের উপর নির্ভর করে৷ তিনি বলেন, ‘‘আসলে ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা সবসময় আগে থেকে বলা যায় না৷ যেমন আমার হাতে রবারের পাইপ রয়েছে৷ আমি ছুঁয়ে দেখে সেটি অনুভব করছি৷ ভাবছি, কীভাবে কাজে লাগানো যায়৷ মাঝে মাঝে আগেই ঝাপসা একটা ধারণা মনে আসে৷ আবার এমনও হয়, কাজের সময় সেই আইডিয়া একেবারে বিসর্জন দিয়ে একেবারে নতুন কিছু করছি৷''

Ambiente 2012

বাতিল টায়ারের টিউব হয়ে উঠতে পারে অনেক কিছু

৪৫ বছর বয়স্ক এই ডিজাইনার ২০০৭ সাল থেকে রবারের পাইপ নিয়ে কাজ করছেন৷ প্রশিক্ষণ ছিল গ্রাফিক ডিজাইনিং-এ৷ তাই হাতেনাতে নতুন কাজ শিখতে হয়েছে৷ রবারের পাইপ হাতের কাছেই ছিল৷ কাটিয়া বলেন, ‘‘আমি সাইকেল ও মোটর সাইকেল চালাই৷ তাই টিউব বা পাইপের অভাব নেই৷ প্রথমে পরীক্ষা করে দেখতাম পাইপ দিয়ে কী করা যায়৷ হঠাৎ মনে হলো, পাইপ থেকে শুধু কিছু কেটে নিয়ে তারপর তা দিয়ে কিছু তৈরি করাই যথেষ্ট নয়৷ গোটা একটা জিনিসও তৈরি করা যেতে পারে৷ যেমন একেবারে প্রথম দিকে আমি একটা চাবির রিং তৈরি করেছিলাম৷ তার মধ্যে বাতাস ভরা থাকায় পানিতে পড়ে গেলেও তা ভাসতে পারতো৷''

এখন বড় আকারে অনেক পণ্যের উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে৷ যেমন মোটর সাইকেলের টিউব থেকে চশমার খাপ৷ কাটিয়া ভ্যার্নার-এর ব্র্যান্ডের নাম কেডাব্লিউডি৷ সাধারণ মানিব্যাগ থেকে শুরু করে বড় হাতের ব্যাগ তৈরি করেন তিনি৷

সাইকেলের নানা চিহ্নের কারণে এগুলি অনবদ্য হয়ে ওঠে৷ আবর্জনা অথবা ফ্লি মার্কেট থেকে জোগাড় করা জিনিসপত্র৷ কাটিয়া বললেন, ‘‘মাঝে মাঝে আমাকে বেশ কথা শুনতে হয়৷ আবর্জনা থেকে আবার রোজগার! আবার অনেকে উৎসাহ নিয়ে হলেন, বাঃ – দারুণ তো! প্রায়ই ভাবি, বয়স্ক মানুষও কত উৎসাহ পেতে পারে৷ তারা বলেন, কেউ তো ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে ভালো কিছু করছে! তখন আমার বেশ ভালো লাগে৷''

বার্লিনে নিজের দোকানে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাটিয়া তাঁর পণ্য বিক্রি করেন৷ ছোট ব্যাগের দাম ২০ থেকে ৩৫ ইউরো৷ ‘পাইপ-বেল্ট' এখন সেল-এ বিক্রি হচ্ছে – সঙ্গে মানানসই বেল্ট৷ বাতিল জিনিস-পত্র ভালোভাবে কাজে লাগাতে আজকাল ‘আপসাইক্লিং'-এর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, কাটিয়ার ব্যাগগুলি তারই উদাহরণ৷ কাটিয়া বললেন, ‘‘ডিজাইনার হিসেবে অবশ্যই আমি একটা দায়িত্ব অনুভব করি৷ পরিবেশের বিষয়েও আমি সচেতন৷ কিন্তু সেটাই সবকিছু নয়৷ কিন্তু আসল তাগিদ আসে, যখন আমি এই উপকরণ হাতে পেয়ে তা দিয়ে কাজ শুরু করি৷''

নতুন আইডিয়ারও অভাব নেই৷ যেমন আসবাবপত্র অথবা ফল রাখার পাত্রের মতো সংসারের জিনিস-পত্র৷ এই প্রথম তিনি বার্লিনে এক শিল্প প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন৷ সেখানে তিনি আবর্জনা থেকে তৈরি একেবারে নতুন জিনিস-পত্র দেখাবেন৷

বলা বাহুল্য, সাইকেল চালাতে চালাতেই তাঁর মাথায় অনেক আইডিয়া আসে৷ কাটিয়া বললেন, ‘‘পথেই অনেক আইডিয়া আসে৷ শুধু চারিদিকে ভালোভাবে তাকালেই হলো৷ সেখান থেকে আমি অনেক অনুপ্রেরণা পাই৷ নতুন নতুন কাজের অনেক পথ তখন খুলে যায়৷''

কাটিয়া ভ্যার্নারকে নতুন করে চাকা আবিষ্কার করতে হয় না৷ তবে চাকা খুলে আলাদা করলে অনেক কিছু সৃষ্টি হয়৷

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়