1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের ডিজিটাল সমাধানসূত্র

আধুনিক যুগেও বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে আদানপ্রদান অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে গেছে৷ তথ্য প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অভিনব প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গেছে৷ মুখের অভিব্যক্তি ও ইশারা ইঙ্গিত শেখানো হচ্ছে কম্পিউটারকে৷

আমরা বিশ্বায়নের যুগে বসবাস করছি৷ বিশেষ করে শহরের পরিবেশে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হচ্ছে৷ এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ভুল-বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব?

যেমন আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুন-এর এরিক ও তার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা চীনের শু একসঙ্গে খাবার সময়ে ভাবেন, চপস্টিক, কাঁটাচামচ, নাকি হাতে করেই খাওয়া উচিত? এই ধরনের বাধাবিপত্তি কাটিয়ে তুলতে বিশেষ গেম ডিজাইন করা হয়েছে৷

কিন্তু তার আগে প্রযুক্তিকে মানুষের চরিত্র বুঝতে হবে৷ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এলিজাবেথ আন্ড্রে সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন৷ আউগসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গবেষকদলের সঙ্গে তিনি মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের মাধ্যমে আরও কার্যকর যোগাযোগ নিয়ে কাজ করছেন৷ এই সব ডিভাইস যাতে আমাদের ভালো বুঝতে পারে, সেটাই হলো লক্ষ্য৷ প্রো. আন্ড্রে বলেন, ‘‘যন্ত্রের সঙ্গে আদানপ্রদানের সময়ে আমরা যদি ভুলেই যেতে পারি, যে সেটা একটা যন্ত্র, সেটা খুব ভালো হবে৷''

ব্যবহারকারীর আবেগ ও নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া বুঝে সেই অনুযায়ী যন্ত্রকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ৷ সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গবেষক দল কম্পিউটারকে বিভিন্ন রকমের ইশারা-ইঙ্গিত ও তার অর্থ শেখাচ্ছে৷ নড়াচড়ার প্রক্রিয়াগুলি শব্দভাণ্ডারের মতো নতুন এক ভাষায় জমা করা হয়৷ কম্পিউটার সেগুলি শনাক্ত করে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়৷

তবে মুখের অভিব্যক্তি বোঝা আরও কঠিন৷ এখনো পর্যন্ত যন্ত্র আনন্দের হাসির সঙ্গে লজ্জার হাসির মধ্যে পার্থক্য করতে পারতো না৷ এখন নতুন সফটওয়্যার কম্পিউটারকে সেই তফাত বোঝাতে সাহায্য করছে৷ প্রো. আন্ড্রে বলেন, ‘‘এবার ঠিকমতো প্রতিক্রিয়া দেখাতে হলে যন্ত্রকে সত্যি বুঝতে হবে, ব্যবহারকারী ঠিক কোন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে৷ সেইসঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিস্থিতি বুঝে সেটি বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও থাকতে হবে৷''

মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরের ইশারা-ইঙ্গিতের গুরুত্ব আবার আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উপর নির্ভর করে৷ প্রথমবার এক র মাধ্যমে সেই পার্থক্য শনাক্ত করা হয়৷ ব্যবহারকারী এক ভার্চুয়াল চরিত্রের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে ভিনদেশি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারেন৷ সেই গেমে ব্যবহারকারী ইশারা-ইঙ্গিতের সাহায্যে তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন৷ অপর প্রান্তের চরিত্র বাস্তবের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখায়৷

হাতনাড়া, সৌজন্য দেখিয়ে ঝুঁকে পড়া, হাতজোড় করা – কখন এমন আচরণ করা উচিত? প্রো. আন্ড্রে বলেন, ‘‘একটি মাত্রা হলো ক্ষমতার রসায়ন৷ অর্থাৎ কোনো সংস্কৃতিতে বয়স বা অন্যান্য কোনো বিষয়ের ভিত্তিতে উঁচু-নীচু অবস্থান এবং সেগুলির মধ্যে ফারাক কতটা গ্রহণযোগ্য, তার উপর চরিত্রগুলির আচরণ নির্ভর করে৷ যেমন বয়সে বড়দের বেশি সম্মান দেখানো হয়৷''

ফ্ল্যাটের চীনা ও আফ্রিকান বাসিন্দারা কিন্তু কোনো প্রযুক্তি ছাড়াই সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান করছেন৷ কারণ তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে অনেক সময় কাটাচ্ছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক