1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাংস্কৃতিক জোটসহ অনেক সংগঠন অনুষ্ঠানের অনুমতি পায়নি

বাঙালির নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে অনেক সংগঠন অনুষ্ঠান বা র‌্যালির অনুমতি পায়নি৷ কেউ আবার এ জন্য অনুষ্ঠানই বাতি করেছে৷ এই কড়াকড়ির মধ্যে অন্যতম হলো বিকেল পাঁচটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করা৷

ঢাকার রমনা বটমূলে নতুন বছরের ভোরে ছায়ানটের বর্ষবরণ হয়েছে যথারীতি৷ চারুকলার সামনে থেকেও মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়েছে সকালে৷ কিন্তু সবখানেই ছিল নিরপত্তার নামে ব্যাপক তল্লাশি৷ মঙ্গল শোভাযাত্রা এবার সংক্ষিপ্ত করা হয়৷ চারুকলা থেকে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয় তা৷ তাছাড়া এবার মুখোশের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে কাউতে মুখোশ পড়তে দেখা যায়নি৷ বরং মুখোশ ছিল হাতে৷ ভুভুজেলা নামে এক ধরনের বাঁশির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায়, তা-ও দেখা যায়নি৷ তবে ভুভুজেলা না থাকায় স্বস্তিই ছিল, বিকট শব্দের অত্যাচার থেকে বাঁচা গেছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই৷

এদিকে ‘রেইনবো র‌্যালি' নামে একটি র‌্যালিকে এবার অনুমতি দেয়নি পুলিশ৷ নববর্ষের এই র‌্যালিটির চারুকলার উল্টোদিক থেকে বের হওযার কথা ছিল৷ র‌্যালিটির আয়োজন করে ‘রূপবান' নামে সমকামীদের একটি সংগঠন৷ গত দু'বছর ধরে তারা র‌্যালি করলেও এবার তারা অনুমতি পায়নি৷ তবে এ নিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি৷ এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য করা হয়নি৷

অডিও শুনুন 03:56

‘নিরপত্তার অজুহাতে উৎসবের দিনে মানুষকে ঘরে আটকে রাখার কোনো মানে হয় না৷'

র‌্যালি সম্পর্কে ‘রূপবান'-এর ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা যে কারণে, রংধনু যাত্রাও ঠিক একই কারণে৷ বৈশাখের প্রথম দিবসে বন্ধুত্ব ও বৈচিত্র্য উদযাপন৷ এর উদ্দেশ্য একটাই – বাংলাদেশে বিরাজমান বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা, রংধনু রঙে৷'

এবার কয়েকটি ইসলমি দল আগে থেকেই বাংলা নববর্ষের এ সব অনুষ্ঠানকে ইসলাম বিরোধী এবং হিন্দু সংস্কৃতি অখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল৷ তারা নববর্ষে নারীদের বাইরে বের না হয়ে ঘরে থাকারও আহ্বান জানায়৷ কিন্তু তাদের হুমকি এবং নিরপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও রাজধানীতে নববর্ষের উচ্ছ্বাসে তেমন কোনো ঘাটতি দেখা যায়ানি৷ শুধু বিকেলের পর কোনো অনুষ্ঠান হতে দেয় না পুলিশ৷

বাংলাদেশের সবগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট – সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট৷ সাধারণত বাংলা বর্ষবরণের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান তারা করে থাকে ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে৷ এই অনুষ্ঠান বিকেল চারটায় শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত৷

জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা পুলিশের কাছে আবেদন করেও বিকেল পাঁচটার পর আর অনুষ্ঠান করার অনুমতি পাইনি৷ তাই আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের এই অনুষ্ঠানটি এবার করছি না, বাতিল করেছি৷''

তিনি বলেন, ‘‘সরকারের কাছে হয়ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো তথ্য আছে৷ কিন্তু আমরা সেটা জানি না৷ আমাদের জানানো হয়নি৷ তবে নিরপত্তার অজুহাতে উৎসবের দিনে মানুষকে ঘরে আটকে রাখার কোনো মানে হয় না৷''

তাঁর কথায়, ‘‘বাংলা নববর্ষ নিয়ে মৌলবাদী-চরমপন্থিদের হুমকি পাকিস্তান আমল থেকেই আছে৷ কিন্তু তাই বলে কি আমরা থেমে আছি, থেমে থাকব!''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়