1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সাংবাদিকরা বিপন্ন বোধ করছেন শ্রীলংকায়

শ্রীলংকায় সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের মাত্রা যে কোন সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে৷ এই অবস্থায় জীবনের নিরাপত্তার অভাবে রয়েছেন সেখানকার সাংবাদিকরা৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলো সাংবাদিক নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন৷

default

সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নির্যাতন আরও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ

মুনজা মুস্তাক৷ শ্রীলংকার একজন নারী সাংবাদিক৷ একটি পত্রিকায় কাজ করেন৷ ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দিলেন একটি কথা.... এসে দেখে যাও সভ্য মানুষ, কী হচ্ছে শ্রীলংকার সাংবাদিকদের সঙ্গে! থামো সরকার ! থামো!

এই হচ্ছে শ্রীলংকার আসল অবস্থা, যা জানাচ্ছেন মুনজা৷ সাংবাদিকদের উপর গত এক বছরের বেশী সময় ধরে নানা ধরণের নির্যাতন চলছে শ্রীলংকায়৷ এই মাত্রা সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আরও বেড়ে গেছে৷ সাংবাদিকদের অনেককেই জীবননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ ধিক্কার পড়েছে সারা বিশ্বে৷

গত মাসের ২৬ তারিখে মাহিন্দা রাজাপাকসে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয়বার বিজয়ী হন৷ ৬৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ হিসেবে সংসদে যোগ দেন ১৯৭০ সালে৷ ২০০৫ সালে তিনি প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন৷ তামিল টাইগারদের সঙ্গে সরকারের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্ষীণ সম্ভাবনার মধ্যে সে সময়ে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন৷ কিন্তু একে একে নানা সিদ্ধান্ত এবং সর্বশেষ তামিল টাইগারদের নিশ্চিহ্ন করতে নির্দেশ দেন সেনা অভিযানের৷ মরণকামড়ে জয়টা ছিল রাজাপাকসের৷

প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর তিনি বাকস্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাঁর আমলে শ্রীলংকায় কমপক্ষে একজন সাংবাদিক খুন হন, নির্যাতনের কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন অনেকে৷ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও প্রতিবেদক শ্রীলংকাকে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ বলেছেন৷

সেই প্রেসিডেন্টই এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলেন৷ যদিও এই নির্বাচন নিয়ে শ্রীলংকার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ৷ আর এই বিষয় নিয়ে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় আছেন সাংবাদিকরা৷ তাদের উপর নেমে এসেছে সরকারের স্ট্রিম রোলার৷

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন৷ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, তারা শ্রীলংকা থেকে প্রাপ্ত সংবাদে দেখতে পাচ্ছেন, সেখানে অন্তত ৫৬ জন সাংবাদিক সরকারী দলের কাছ থেকে কিংবা প্রশাসনের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন৷ এদের মধ্যে এমন অনেক সাংবাদিক আছেন যারা সরকারী গণমাধ্যমে কাজ করেন৷ বাদ যায়নি বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরাও৷ সরকার বিরোধী কোন সংবাদ পরিবেশিত হলেই তা ব্লক করে দেয়া হচ্ছে৷ এমন ব্লক করা নিউজ ওয়েবসাইটের সংখ্যা অন্তত ৫টি৷

সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো শ্রীলংকার গণমাধ্যমের উপর আরোপিত সেন্সরশিপ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার, সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়