সাংবাদিকদের দুষলেন প্রধান বিচারপতি | বিশ্ব | DW | 25.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সাংবাদিকদের দুষলেন প্রধান বিচারপতি

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাঁকে ‘মিসকোট' না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ এমন সময় তিনি এই আহ্বান জানালেন যখন ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও ‘পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা' নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে৷

২৪ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জুডিশিয়াল ইন্টারপ্রিটেশন নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘আমাকে মিসকোট করবেন না৷ আমাকে নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়৷ এমনকি আমি কোর্টে যা বলি কিছু তা ‘ডিসটর্টেড' করা হয়৷ আর এতে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়৷ এটা যাতে আমাকে না পড়তে হয়৷'' প্রধান বিচারপতি অবশ্য  সুনির্দষ্টভাবে বলেননি যে তাঁকে কোথায়, কীভাবে ‘মিসকোট' করা হয়েছে৷

এর একদিন আগে ২৩ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাবি করেন, ‘‘পাকিস্তান প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি গণমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছেন৷'' তিনি আদালতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘আমি বললাম, ‘দেখেন, বাইরে অবস্থা খুব উত্তপ্ত৷ এখন লম্বা সময় দিয়ে দেন (শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রসঙ্গে)৷ উত্তপ্ত অবস্থা কাটুক, তারপর গভর্নমেন্ট এটা দেখবে৷' তখন উনি (প্রধান বিচারপতি) বললেন, ‘উত্তপ্ত তো আমরা করিনি৷ আমরা একটা রায় দিয়েছি আর এটা নিয়ে আপনারা এত আলাপ করছেন৷' পাকিস্তানের রায়ের পর তো প্রাইম মিনিস্টারও চলে গেল, কিন্তু সেখানে তো কিছু হয়নি৷''

অডিও শুনুন 00:29
এখন লাইভ
00:29 মিনিট

‘সাংবাদিকদের যথার্থভাবে ‘কোট' করার দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে’

এর আগেও প্রধান বিচারপতি সংবাদমাধ্যম সম্পর্কে একই ধরনের কথা বলেছিলেন৷ গত ২১ মে জয়পুর হাটে তিনি বলেন, ‘‘আমার বক্তব্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়৷ কিছু মিডিয়া তাদের কাটতির জন্য আমার বক্তব্য সঠিকভাবে তুলে না ধরে ভুলভাবে প্রকাশ করে৷''

আদালতের ‘প্রসিডিংস' বা যুক্তিতর্ক এবং কথাবার্তা কতটুকু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এ নিয়ে কোনো নীতিমালা বা বিধি নেই৷ তবে ‘মিসকোট' না করলেই হলো৷ সঠিকভাবে লিখলে বা উদ্ধৃত করলে কোনো সমস্যা নেই৷ যথার্থভাবে ‘কোট' করার দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে৷''

আদালত তো কখনো কখনো কতটুকু লেখা যাবে বা কতটুকু লেখা যাবে না, তা বলে দেয় – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে আদালত এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয়নি৷''

পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির যে বললেন তাঁর কথা গণমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছে – এ কথা তিনি কেন বললেন? প্রধান বিচারপতি জানান, ‘‘এ নিয়ে এখন আর আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না৷''

অডিও শুনুন 03:22
এখন লাইভ
03:22 মিনিট

‘প্রধান বিচারপতির কোনো বক্তব্য মিসকোট করা হলে তা চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে’

এ নিয়ে আইন ও আদালত বিষয়ে ‘দ্য ডেইলি স্টার'-এর সিনিয়র সাংবাদিক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আদালত বা প্রধান বিচারপতির কোনো বক্তব্য ‘মিসকোট' করা হলে তা চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে৷ সেটা দেশ তথা বিচার বিভাগেরও ক্ষতি করতে পারে৷ তাই আইন আদালত সম্পর্কে প্রতিবেদন করার সময় সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়৷ আদালতের ভাষা, মেজাজ এবং কোনো কথার প্রকৃত অর্থও বোঝা প্রয়োজন৷''

আশুতোষ ষোড়শ সংশোধনীসহ উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় এবং আইনগত বিতর্কগুলো নিজে আপিল বিভাগে উপস্থিত থেকে কাভার করেছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সাধারণত যেটা করি তা হলো মনোযোগ দিয়ে শুনি, নোট নেই এবং কোথাও বুঝতে অসুবিধা হলে পরে আদালত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তা বুঝে নেই৷ এছাড়া বক্তব্যে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা ‘ক্লারিফাই' করে নেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করি৷''

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ‘মিসকোট' করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি ‘মিসকোট' করিনি৷ তবে অন্য কেউ করেছেন কিনা, তা আমি তা বলতে পারব না৷ ‘মিসকোট' হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক৷''

আশুতোষ বলেন, ‘‘তবে এই সমস্যা এড়াতে উচ্চ আদালতসহ সব রকম আদালতে মুখপাত্র থাকা প্রয়োজন৷ এঁরা আদালতের বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের ‘ব্রিফ' করবেন৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেবেন৷ আইনগত বিষয়ও পরিষ্কার করবেন৷ তাহলে ‘মিসকোট'সহ আরো অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব৷''

তিনি অবশ্য একই সঙ্গে আইন আদালত নিয়ে যাঁরা প্রতিবেদন করবেন তাঁদের পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়