1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

সহিংসতা রাজনৈতিক দলাদলি ছাড়া অন্য কিছু নয়!

বাংলাদেশে বর্তমানে যে সহিংসতা, অরাজকতা চলছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দলাদলি ছাড়া অন্য কিছু নয়! এই দলাদলি ভারত উপমহাদেশে অতীতেও ছিল, এখনও আছে!

নবী নেওয়াজ আমাদের কাছে পাঠানো লম্বা ইমেলে এমনই মন্তব্য করেছেন৷

তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে৷ এই সহিংসতার শিকার শুধু হিন্দু সম্প্রদায় একা নয়! যে অঞ্চলে যে রাজনৈতিক দলের লোকবল বেশি, সেখানেই তারা অন্য দলের সমর্থকদের উপর চড়াও হয়েছে৷ সেটা যে শুধু হিন্দুদের উপর, এমন নয়৷ কোনো কোনো অঞ্চলে মুসলমান পরিবারদের গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে লুটপাট করে সর্বহারা করা হয়েছে! ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় যে ৫০৮ জন মারা গেছে (টিআইবি), তার মধ্যে কয়জন হিন্দু ছিল! বাংলাদেশের কাবেরী, স্বরস্বতী, লক্ষী, অপু, পুষ্প, গীতাদিদিরা বাংলাদেশের মুসলমানদের কি মনে করেন৷ ওরা কি বহিরাগত আরবি, ফার্সি, তুর্কি, ওলন্দাজ, পর্তুগীজ না ফিরেঙ্গী! বাংলাদেশের মুসলমানরা এই বাংলারই নির্যাতিত, নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক, যাদের পূর্ব পুরুষরা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল সমাজের উচ্চবর্ণবাদী হিন্দু প্রভুদের শোষণ থেকে বাঁচার জন্য!

‘‘আজও এই ভারতবর্ষে হাজার হাজার মানুষ ধর্মান্তরিত হচ্ছে৷ কিন্তু উচ্চবর্ণের হিন্দু প্রভুদের রোষানল থেকে অনেকে বাঁচতে পারে না (উড়িষার ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদের উপর জুলুম নির্যাতন)! আজকের বাংলাদেশি হিন্দুরা নিজেদের বাংলাদেশি মনে করেন, নাকি ভারতীয় অভিবাসী! বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতায় মুসলমান সম্প্রদায় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের চেয়ে! সারাদেশের ২০১৩ সালের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলে দেখা যাবে যে, হিন্দুরা লাভবান ক্ষয়ক্ষতির অনুপাতে! এক বিশ্বজিতের নির্মম হত্যাকাণ্ড যত আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এমন কয়েক শত নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে গত এক বছরে ঘটছে৷ কিন্তু মিডিয়াতে আসছে না, কোনো আলোড়ন বিষ্ফোরণ ঘটছে না, কারণ ওরা যে মুসলমান! হিন্দু হলেই হৈহৈ তোলপাড়, কেন! এসবই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা! এই বাংলাদেশে হিন্দু মুসলমানে কোনো ভেদাভেদ নাই, আছে সম্প্রীতি! হিন্দু, মুসলমানের ভেদাভেদ দেখানো একটা রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা৷ এর পিছনে আন্তর্জাতিক কুচক্রীমহলের লম্বা হাত কাজ করছে! বাংলাদেশে রাজনৈতিক অরাজকতার ফলে যে সহিংসতা দেখা দিয়েছে তাতে হিন্দু মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভুক্তভোগী! তবে হিন্দুরা কেন বেশি মিডিয়াতে আসবে, আনুপাতিক ওরা কি বেশি প্রাণ হারিয়েছে, না আনুপাতিক ওরা বেশি ভুক্তভোগী!''

গড়মাটি, বনপাড়া, নাটোর থেকে শিক্ষক সোলাইমান মল্লিক আমাদের কাছে পাঠানো এক ইমেলে অভিযোগ করেছেন৷ তার অভিযোগ, ‘‘আমার দীর্ঘ ডিএক্স জীবনে দেখলাম মিডিয়া জগত যারা নিয়মিত ইমেল করে তাদের মুল্যায়ন করে না৷ এবং অনেকের পুরস্কার হাতে পায় না৷ যাদের কম্পিউটার দিলেন তাদেরই বার বার দিয়ে গেলেন৷ ভাল মানের ডিএক্সাররা বঞ্চিত হচ্ছেন৷ আপনারা আস্তে আস্তে সব আয়োজন বিলীন করছেন৷ কম্পিউটার ভারতে একজন শ্রোতা পাঠককে দেয়া এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাথী ফরিদপুরের আফজাল আলী খান, পাবনার ডা এস এম এ হান্নান, চুয়াডাঙ্গার হায়দার মাস্টার, এসব ভালো মানের শ্রোতারা আপনাদের নজরে আসে না৷আমি চাই না, তবে আমার বিবেককে নাড়া দেয়৷ এ জন্য আমি ডিএক্স বাদই দিয়েছি৷''

প্রিয় পাঠক সোলাইমান মল্লিক, আপনার দীর্ঘ ই-মেলের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ৷ তবে আপনার বক্তব্যের সাথে আমরা পুরোপুরি একমত হতে পারছি না বলে দুঃখিত৷ বিশেষ করে ই-মেলের শেষ লাইনগুলো সম্পর্কে বলতে চাইছি যে, লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়, আর সেকথা আমরা সবসময়ই বলে থাকি৷ বিশ্বাস করা বা না করা তা একান্তই পাঠক বা শ্রোতাবন্ধুদের ব্যাপার৷ আপনি যাঁদের নাম লিখেছেন তাঁরা সকলেই কিন্তু ডয়চে ভেলে থেকে রেডিও এবং অন্যান্য পুরস্কার পেয়েছেন৷ আর ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৫টি ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে পাঠক বন্ধুদের৷ কাজেই এতে যে অনেকেরই মন খারাপ হবে তা খুবই স্বাভাবিক৷ আপনি ভালো মানের ডি-এক্সার বলতে ঠিক কি বুঝিয়েছেন তা বুঝতে পারলাম না, দুঃখিত৷ দীর্ঘদিনের বন্ধু হায়দার মাষ্টার, আফজাল আলী খান এবং ডা এসএমএ হান্নানের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর৷ যাই হোক, মন খুলে বিস্তারিত লেখার জন্য আপনাকে আবারো ধন্যবাদ৷ ভালো থাকবেন, শুভেচ্ছা নেবেন আপনিসহ সকলে৷

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

নির্বাচিত প্রতিবেদন