1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সহিংসতার আতঙ্কে জনজীবনে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের রাজনীতি ও জীবনযাত্রা আবারো অবরোধ-সহিংসতা-প্রতিরোধের মধ্যে পড়ে গেছে৷ ৫ই জানুয়ারির পর থেকে টানা অবরোধ চলছে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের৷ বৃহস্পতিবার অবরোধের সঙ্গে থাকছে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল৷

দিনে কিছুটা কম হলেও রাতে আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয় ঢাকা৷ ঢাকা কেন, পুরো দেশ৷ কোন বাসে কখন আগুন দেয়া হয়৷ কোথায় ককটেল ফোটে কেউ জানেন না৷ যে কেউ এর শিকার হতে পারেন৷ সর্বশেষ মঙ্গলবার গভীর রাতে রংপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুনের ঘটনায় এক শিশুসহ চারজন ঘটনাস্থলেই জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন৷

আর একই রাতে কয়েক ঘণ্টা আগে ঢাকার গুলশানে গুলিবিদ্ধ হন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান৷ তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷

এই ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুধবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলার তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে৷

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘‘আমরা সকল দলকে সংযত আচরণ করতে এবং সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই এবং জনগণের স্বাধীনভাবে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান রাখছি৷''

Bangladesch Proteste 29. Dezember 2014

আবার কি আসছে সংঘর্ষের রাজনীতি?

এর আগে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ বিএনপির তিন নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়৷ সরকার দলের মন্ত্রীদের বাড়ি এবং গাড়ি লক্ষ্য করেও ককটেল ছোড়া হচ্ছে৷ আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাড়িতে ককটেল ছোড়া হয়েছে তিনদিন আগে৷

এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আরেকটি মাত্রা যোগ হয়েছে ভারতের বিজেপির প্রধান অমিত শাহের টেলিফোন কথোপকথন নিয়ে৷ ৭ই জানুয়ারি খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘‘অমিত শাহ টেলিফোন করে গুলশান কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ' খালেদা জিয়ার খোঁজ খবর নিয়েছেন৷'' কিন্তু এরপর বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ জানান, তিনি খালেদা জিয়াকে ফোন করেননি৷ তবে বিএনপি এখনো তাদের দাবিতে অটল আছে৷

এদিকে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চাই৷ তবে বাংলাদেশ কীভাবে চলবে তা সে দেশের সরকার ও জনগণই ঠিক করবে৷ বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের জন্য ভারতের শুভকামনা রয়েছে৷'' বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশের বিষয়ে আমাদের নীতি হচ্ছে – বাংলাদেশে কেমন সমাজ গঠন হবে, নিজেদের সমস্যাগুলো তারা কীভাবে সামাল দেবে – বাংলাদেশের সরকার ও তাদের জনগণই তা ঠিক করবে৷ এতে ভারতের ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ নেই৷'

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের ভুয়া বিবৃতিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে৷ প্যাড ও সই জালিয়াতি করে তাদের নামে এই বিবৃতি আসলে পাঠিয়েছিলেন বিএনপির বৈদেশিক দূত ও বিশেষ উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জাহিদ এফ সর্দার সাদী ও ডা. মজিবর রহমান মজুমদার৷ বিএনপি অবশ্য এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে৷ তাদের দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা৷

বুধবার বিএনপির ডাকা অবরোধের দশম দিন চলছে৷ ৫ই জানুয়ারির আগের রাত থেকে খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের বাসায় ‘অবরুদ্ধ' আছেন৷ ৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের বছর পুর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস' পালনে ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং খালেদাকে ‘অবরুদ্ধ' রাখার প্রতিবাদে বিএনপি এই লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়৷ খালেদা জিয়া বুধবার এই অবরোধ আরো তীব্র করার আহ্বান জানিয়েছেন৷ আর রিয়াজ রহমান গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি৷ অবরোধও চলবে৷

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি৷ তিনি চাইলে যে কোনো সময় বাড়ি যেতে পারেন৷'' শেখ হাসিনা সন্ত্রাস এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন৷ আর তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সারাদেশে প্রতিরোধ কমিটি গঠন শুরু করেছেন৷

গত ১০ দিনের অবরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে ৩ শতাধিক গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে৷ ভাঙচুর করা হয়েছে হাজারেরও বেশি যানবাহন৷ নিহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি মানুষ৷ পোশাক খাতে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা৷ আর পরিবহণ খাতে প্রতিদিন ৪৮ কোটি টাকা৷ স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে৷ নিম্নবিত্ত মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে৷

রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ রেলে নাশকতা এড়াতে ৪ হাজার আনসার নিয়োগ করা হয়েছে৷ আর ২৮ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি৷ যানবাহন চলাচল নিরাপদ রাখতে মহাসড়কে চলছে বিজিবি টহল৷ তারপরও মানুষের মধ্যে নিরপত্তাহীনতা বাড়ছে৷

তারপরও রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এখানো কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়৷ সরকারের তরফে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকোচ করে দেয়া হয়েছে৷ আর বিএনপি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়