1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সহস্রাধিক কারখানায় শ্রমিক বিদ্রোহের আশঙ্কা

ঈদে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারে অন্তত ১ হাজার তৈরি পোশাক কারখানা৷ এই খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র এক জরিপে এই আশঙ্কার চিত্র উঠে এসেছে৷

শ্রম মন্ত্রণালয়ও এসব কারখানার একটি তালিকা তৈরি করছে৷ এসব কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে বড় আকারের শ্রম অসন্তোষে রূপ না নেয় তা নিয়ে সতর্ক সরকার ও মালিক পক্ষ৷ এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে করণীয় ঠিক করতে একাধিক বৈঠকও হয়েছে৷ বৈঠকে ঐসব কারখানার বেতন-বোনাস পরিশোধে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক-শ্রমিক সব পক্ষই৷

মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে সমন্বয় করছেন বিজিএমইএ-র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, বিজিএমইএ প্রায় ১ হাজার কারখানার তালিকা করেছে যেগুলোতে বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিয়ে ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে৷ এসব কারখানাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে৷ এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ'র নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পহেলা রমজান থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে৷ এছাড়া ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জসহ শ্রমিক অধ্যুষিত ও অসন্তোষপ্রবণ এলাকার সংকট তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৫টি টিম কাজ করছে৷ প্রতিটি টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজিএমইএ-র একজন করে পরিচালক৷ মালিকরা এ নিয়ে দিন-রাত কাজ করছেন৷

বিজিএমইএ-র হিসাবে দেখা গেছে, রানা প্লাজা পরবর্তী সময়ে কাজ না পাওয়া, কারখানায় কমপ্লায়েন্সের (কর্মপরিবেশ) অভাবসহ নানামুখী সংকটে পড়ে ১৭৬টি তৈরি পোশাক কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে৷ এর মধ্যে অনেক কারখানার শ্রমিকদের যথাযথ পাওনা পরিশোধ করা হয়নি৷ এসব শ্রমিকরা তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রায়শই রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনের সামনে হাজির হচ্ছেন৷ সাম্প্রতিক সময়ে বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও দেনদরবার নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ঈদের আগে তারাও আন্দোলনে নামতে পারে৷

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিজিএমইএ-র সদস্য বহির্ভূত প্রায় ১২শ' কারখানার মধ্যেও বেশ কিছু কারখানার বেতন-বোনাস পরিশোধে অনিশ্চয়তা রয়েছে৷ বর্তমানে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ৪ হাজার ৩শ' কারখানার মধ্যে চালু রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩শ' কারখানা৷ এর বাইরে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্যভুক্ত কারখানা রয়েছে আরো প্রায় ১ হাজার৷ গত ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মত বর্ধিত নতুন মজুরির হিসাবে এসব কারখানাকে আসছে ঈদে বোনাসও দিতে হবে৷

রাস্তা অবরোধ

এদিকে বুধবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে৷ তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে৷ পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়৷

বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল ডয়চে ভেলেকে বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের জন্য বাড্ডা পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সড়ক বন্ধ হয়ে যায়৷ মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে অবরোধ তুলে নেন৷ তবে যে-কোনো সময় তারা আবার নামতে পারে এমন আশঙ্কাও তাঁর৷

অপরদিকে ২০ রমজানের আগেই পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন বোনাস পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নারী নেতৃত্বাধীন ৭টি পোশাক শ্রমিক ফেডারেশন৷ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাঁরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে৷ ওই সাতটি সংগঠনের সমন্বয়কারী শহিদা সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, এই দুর্মূল্যের বাজারে পোশাক শ্রমিকরা সারা বছর যে বেতন-ভাতা পায় তা দিয়ে কোনোরকম খেয়ে পড়ে চলতে পারে৷ তাদের সঞ্চয় বলে কিছুই নেই৷ এ জন্য আগামী ২০ রমজানের মধ্যে সব শ্রমিকদের বেতন-বোনাসসহ সব রকম পাওনা বুঝিয়ে না দিলে আনন্দের ঈদ তাদের কাছে কষ্টের হয়ে উঠবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়