1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সশস্ত্র বাহিনীর বদলে আর্থিক সাহায্য

বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের মানুষ একা হয়ে পড়বেন না৷ এর বদলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন৷ লন্ডনে আফগানিস্তান সম্মেলন থেকে জানাচ্ছেন ওয়াসলাত হজরত-নাজিমি৷

বিদেশি সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পরেও আন্তর্জাতিক সমাজ আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীকে সাহায্য করবে৷ বৃহস্পতিবার দাতা দেশগুলি লন্ডনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আফগানিস্তান সম্মেলনে এ কথাই জানালেন৷ আগের মতোই কোটি কোটি ইউরো অঙ্ক দেওয়া হবে আফগানিস্তানকে৷ এই আর্থিক সাহায্যের বদলে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধ সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক সংস্কার চালাবে৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তাঁর ভাষণে বলেন, এর মাধ্যমে একা আফগানিস্তানের উপকার হবে না৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এক স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তান, যে দেশ তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রয়েছে – আমাদের সবার স্বার্থেই ভালো৷'' তাঁর মতে, আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান এক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ‘পাওয়ারহাউস' হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে৷

বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল

২০১০ সালে লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ন্যাটো সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের সমাপ্তি ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে ধরার সময়সীমা স্থির করা হয়েছিল৷ এবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহারের পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন৷ আগামী কয়েক বছরে আফগান পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের বিষয়টি এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে৷

Waslat Hasrat-Nazimi DW Redakteurin

ডয়চে ভেলের ওয়াসলাত হজরত-নাজিমি

স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য কমপক্ষে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১২,০০০ বিদেশি সৈন্য আফগানিস্তানে থাকবে৷ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, ব্রিটেন আফগান অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেবে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা আচমকা চলে যাবো না৷ এটা শুধু আফগানিস্তান নয়, আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷''

২০১২ সালে টোকিও শহরের দাতা সম্মেলনের পরের ধাপে লন্ডন কনফারেন্স আয়োজন করা হয়৷ টোকিও-য় দাতা দেশগুলি কোটি কোটি ডলার সাহায্যের বদলে আফগানিস্তানের কাছে সংস্কারের দাবি জানিয়েছিল৷ সে দেশের বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই আজও বিদেশি অর্থের উপর নির্ভরশীল৷ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড তাই তার উদ্বোধনী ভাষণে আফগানিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সাহায্যের আহ্বান জানান৷ কিন্তু অন্যদিকে আফগানদেরও নিজস্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে৷ হ্যামন্ড বলেন, ‘‘আফগানিস্তানের জনগণ ও সরকারকে প্রমাণ দিতে হবে যে, তারা দাতা দেশগুলির করের টাকায় দেওয়া আর্থিক সাহায্য বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যয় করছে৷''

আফগান পক্ষের সংস্কারের পরিকল্পনা

আশরাফ গনি আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিজের স্বপ্ন তুলে ধরেন৷ আগামী কয়েক বছরে সংস্কারের পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট তুলে ধরা হয়েছে৷ তাতে দুর্নীতি দমন, মানবাধিকার রক্ষা ও সমাজে নারীদের অধিকার শক্তিশালী করার বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ বিশ্বব্যাংকের প্রাক্তন কর্মী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে আশরাফ গনি অর্থনীতির বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছেন৷ তাই তিনি আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথা বলছেন৷ বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি ক্ষেত্রকেও তিনি মজবুত করতে চান৷

আরও অংশগ্রহণের দাবি

লন্ডন সম্মেলনের আগে আফগানিস্তানের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সরকার ও আন্তর্জাতিক সমাজের সামনে তাঁদের দাবি রেখেছেন৷ মূল সম্মেলনের অ্যাজেন্ডা প্রভাবিত করতে আলাদা একটি সম্মেলনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানাল সহ বিভিন্ন আফগান এনজিও-র প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন৷ তাঁরা সরকারের কাছে বিশেষ করে নারী অধিকার শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন৷ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের গুরুত্বও তাঁরা তুলে ধরেছেন৷ লন্ডন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ না পেয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ তাঁদের বক্তব্য পেশ করা হলেও মাত্র ১৫ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷

লন্ডন সম্মেলনে প্রায় ৭০টি দেশ অংশ নিয়েছে৷ আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম দাতা দেশ জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করেন জার্মান সরকারের আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বিষয়ক বিশেষ দূত মিশায়েল কখ৷ ২০০১ সাল থেকে জার্মানি আফগানিস্তানে প্রায় ২৮০ কোটি ইউরো ব্যয় করেছে৷ শুক্রবার আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বার্লিনে আসছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন