1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

‘সরকার প্রবাসীদের জন্য কী করে, বোঝা যায় এয়ারপোর্টে'

‘বাংলাদেশ প্রবাসীদের রেমিটেন্সের ওপর নির্ভরশীল৷ অথচ তাঁদের নিয়ে সরকারের কোনো চিন্তা নেই, গুরুত্ব কেবল বক্তৃতায়৷' ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় এই মন্তব্যটি এক পাঠকের৷ তবে শুধু তিনি নয়, আরো অনেকেই এ রকম মনে করেন৷

‘‘সরকার যে প্রবাসীদের জন্য কী করে তা বোঝা যায় ঢাকা এয়ারপোর্টে গেলেই৷ আমাদের সাথে ওখানে জানোয়ারের মতো ব্যবহার করা হয়৷'' নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এই মন্তব্য করেছেন পাঠক আবির হাসান৷

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘সরকারের কি আর প্রবাসীদের কথা ভাবার দরকার আছে? প্রবাসীরা কি সরকারকে ভোট দেয়? তাছাড়া এখন তো ভোট ছাড়াই সরকার হওয়া যায়৷ তাই তো প্রবাসীরা এত অবহেলিত৷ তবে সরকার যে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্য ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছে, এতে প্রবাসীদের অনেকটাই ভুমিকা থাকবে, আর এ কথা সরকারকেই ভাবতে হবে৷'' বংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা ডয়চে ভেলের ফেসবুকে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল৷

তবে মো. আবদুল্লাহ আল-মাসুদের অভিজ্ঞতা আরো ভয়ংকর৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘প্রবাসীদের সাথে এয়ারপোর্টে খুব খারাপ ব্যবহার করেন কিছু অফিসার৷ এমনকি ব্যাগ কেটে দামি জিনিসপত্র রেখে পরে ব্যাগ টেপ দিয়ে জোড়া লাগিয়ে দেয়৷''

আবদুল হাসান নাহিদ অনেক দুঃখে খানিকটা ব্যঙ্গো করেই জানিয়েছেন, ‘‘দেশে পা ফেলতেই শুভেচ্ছা হিসেবে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হতে হয়৷''

অন্যদিকে নিজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও পাঠক আসিফ মেহেদি প্রবাসী অনেকের কাছেই শুনেছেন যে, ঢাকা বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে নাকি প্রবাসীদের মানুষ বলেই গণ্য করা হয় না৷

‘‘প্রবাসীরা তাঁদের পরিশ্রমের এত টাকা রেমিটেন্স দেওয়ার পরও যখন শখ করে ঢাকা এয়ারপোর্টে একটা টেলিভিশন কিনতে যান, তখন নাকি ঝামেলার শেষ থাকে না৷'' – এই মন্তব্য ফেসবুকবন্ধু মাহবুবের৷

‘‘নিজের জন্মস্থানে যেতে ভিসা নিতে হচ্ছে৷ তারপর এয়ারপোর্টের ঝামেলা, দেশে নিরাপত্তাহীনতা – সব মিলিয়ে প্রবাসীদের অবস্থা বেশ খারাপ৷'' দুঃখ করে লিখেছেন পাঠক মোহাম্মদ আলম৷

ডয়চে ভেলের ফেসবুক বন্ধু সেলিম হাওলাদারের ধারণা, সরকার চাইলে সবকিছুই করতে পারে৷ কিন্তু সরকার প্রবাসীদের জন্য কেন যে তা করে – সেটাই সেলিমের প্রশ্ন৷ সরকারের কাছে তাঁর আকুল আবেদন – প্রবাসীদের জন্য এ সব সুযোগ করে দেওয়ার, যাতে দেশে-বিদেশে সবাই ভালো থাকতে পারেন৷

ওদিকে রুবেল হাসানের কথায়, ‘‘সরকার দেশ উন্নয়নের ধোয়া তুলছে৷ কিন্তু যাদের দ্বারা এই উন্নয়ন, তারা সরকারের সুনজরে আসে না৷''

হাসানের মতো মোহাম্মদ রহমান, সাইফ আল-হাসান, কিরণ আকন্দেরও কষ্ট কম নয় যে তাঁরা নিজের দেশের সরকারের কাছেই অবহেলিত৷

‘‘বাংলাদেশ সরকার কখনোই প্রবাসীদের প্রতি গুরুত্ব দেয় না৷ সবই আসলে রাজনীতি৷ বিমানবন্দরের লোকজন এমন আচরণ করে যেন আমরা ভিনদেশি৷'' – এই মন্তব্য ডয়চে ভেলের ফেসবুক-বন্ধু আবদুল্লাহর৷

ইব্রাহিম খলিল বলছেন, ‘‘আসলে প্রবাসী ভাইদের প্রতি সরকারের সম্মান জানানো উচিত৷ তাছাড়া তাদের রক্ত পানি করা টাকা কোথায় যাচ্ছে এবং কাদের পকেটে যাচ্ছে, তা সরকারের নজর রাখা উচিত৷ সরকার তা না করায় উল্টে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে৷''

আর বাংলাদেশের ব্যাপারে ফরিদ মাহমুদ এতটাই হতাশ যে মনের দুঃখে তিনি বলেই ফেলেছেন, ‘‘এ সব নিয়ে লেখালেখি করে কোনো লাভ নেই৷ কারণ এ সব দেখার কেউ নেই৷''

ফরিদ মাহমুদের সাথে পুরোপুরি একমত পাঠক মনির খান, রাজু, বেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেকে৷

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়