1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সরকার না নড়লে অচল হবে পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গেই বাস ও ট্যাক্সি সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে৷ যে কোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে বেসরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা!

বাসভাড়া বাড়াতে চাইছে না সরকার৷ তাই ২০ আগস্ট থেকে টানা তিন দিনের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বাসমালিকদের সংগঠন৷ শেষবার বাসভাড়া বেড়েছিল ২০১২ সালে৷ তখন ডিজেলের দাম ছিল ৫১ টাকার কাছাকাছি৷ এখন ডিজেলের দাম ৬৩ টাকার সামান্য বেশি৷ কাজেই ভাড়া বাড়ানোর দাবি যে একেবারেই অযৌক্তিক, এ কথা কেউ ভাবছেন না, একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার ছাড়া৷ এমনকি যাঁরা নিত্যযাত্রী, রাস্তায় বেরোলে বেসরকারি বাস ছাড়া যাঁদের গতি নেই এবং যথেষ্ট সংখ্যক বাস চলছে না বলে প্রতিদিনের ভোগান্তি যাঁদের সহ্য করতে হয়, তাঁরাও কিন্তু চাইছেন বাসভাড়া বাড়ুক!

ইদানীং বেসরকারি বাসের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকার দুটো কারণ আছে৷ এক, যেহেতু সরকার বাসভাড়া গত দুবছর ধরে বাড়াতে দিচ্ছে না, অনেক বাসমালিকই রুট থেকে বাস তুলে নিয়ে বসিয়ে রাখছেন৷ আর দ্বিতীয় কারণ হলো, দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধি মেনে, যেসব বাস ১৫ বছর বা তার বেশি পুরনো, সেগুলো আর চালানো যাচ্ছে না৷ কিন্তু তার জায়গায় নতুন বাস আর রাস্তায় নামাতে আগ্রহী নন মালিকরা৷ ফলে কলকাতা শহরেই গত ছমাসে প্রায় হাজারখানেক বাস কমে গিয়েছে৷

কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা ভেবে ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে একটা অনীহা রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ এর আগে তিনি যখন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন, বা ওই মন্ত্রকটি তাঁর দলের হাতে ছিল, তখনও যাত্রীভাড়া বাড়াতে নারাজ ছিলেন তিনি৷ যদিও দেখা গিয়েছে যে এর দরুণ বছর বছর রেল দপ্তরের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, তবু ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেননি মমতা৷ রাজ্যে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রশ্নেও তিনি একই মানসিকতায় অনড় রয়েছেন৷

তবে এর পিছনে একটি রাজনৈতিক কারণও রয়েছে৷ বাসভাড়া বাড়ানোর জন্য মালিকরা সরকারকে যে চাপ দিচ্ছেন, তার পিছনে সক্রিয় সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু ও এআইটিইউসি-র মতো বামপন্থি শ্রমিক সংগঠনগুলি৷ চাপের মুখে সরকার বাসভাড়া বাড়াতে রাজি হলে, সেটা কার্যত যে ওই সংগঠনগুলিরই জয় হবে এবং বামপন্থিদের চুপসে যাওয়া পালে নতুন করে হাওয়া জোগাবে, সেটা কিছুতেই হতে দিতে পারেন না তৃণমূলনেত্রী৷ বিশেষ করে আর দু বছর পরেই রাজ্যে যখন বিধানসভা ভোট৷ ফলে টানা ৭২ ঘণ্টার বাস-ধর্মঘটের হুমকির সামনে অনমনীয় মনোভাবই বজায় রেখেছে সরকার৷

কিন্তু এতে পরিস্থিতি ক্রমশ তীব্রতর সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে, যার পরিণতিতে স্রেফ অচল হয়ে পড়তে পারে রাজ্যের বেসরকারি গণ পরিবহণ ব্যবস্থা৷ কিছুদিন আগের আচমকা ট্যাক্সি ধর্মঘটেই সেই আসন্ন দুর্ভোগের একটা আন্দাজ পাওয়া গেল৷ ধর্মঘটের কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াই এক কাজের দিন সকালে কলকাতা শহরের ট্যাক্সিচালকরা আচমকা সিদ্ধান্ত নিলেন রাস্তায় ট্যাক্সি না নামানোর৷ তার বদলে তাঁরা সদলে মিছিল করে বিক্ষোভ দেখালেন শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় এবং অচল করলেন পথঘাট৷ তাঁদের প্রধান দাবি ছিল, যাত্রী প্রত্যাখান করার অপরাধে পুলিশ যে তিন হাজার টাকার স্পট ফাইন চালু করেছে, তা বাতিল করতে হবে৷

যদিও কলকাতা শহরে ট্যাক্সিচালকদের বেপরোয়া চাল-চলন, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং সওয়ারিদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে অস্বীকার করাটা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে তাদের শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করাটা একান্তই জরুরি৷ কিন্তু এক্ষেত্রে ট্যাক্সিচালকদের নালিশ, পুলিশ নাকি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিথ্যে অভিযোগে জরিমানা করছে, নিজেদের দপ্তরের তহবিল ভরাতে৷ কলকাতা পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করছে এই যুক্তিতে যে যাত্রী প্রত্যাখানের অভিযোগে ট্যাক্সির জরিমানা করাটা আদালতের সিদ্ধান্ত৷ এই অর্থ আদালতে জমা দিতে হয়৷ কাজেই পুলিশ নিজের তহবিল ভরছে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন!

কিন্তু ট্যাক্সিচালকদের সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলনে সরকার যে বেকায়দায় পড়েছিল, সেটা ঘটনা৷ যে কারণে প্রথমে কিছুটা নরম মনোভাব নিয়েছিল সরকার এবং গ্রেপ্তার হওয়া ২১জন ট্যাক্সিচালক আদালতে জামিন চাইলে সরকারপক্ষের আইনজীবী বিরোধিতা করেনি৷ কিন্তু তার পর আবার কঠোর মনোভাব নিতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য পরিবহণ মন্ত্রক কারণ ট্যাক্সিচালকদের এই আন্দোলনের পিছনেও রয়েছে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি৷ অর্থাৎ আবারও সেই রাজনৈতিক বাধ্যতা!

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ট্যাক্সি ইউনিয়নের আন্দোলনের সাফল্যে এখন রীতিমত উৎসাহিত বাসমালিকদের সংগঠনগুলিও৷ ধর্মঘটের ঘোষিত কর্মসূচি না থেকেও কীভাবে নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত করে দেওয়া যায়, তার শিক্ষা তাঁরা ট্যাক্সিচালকদের দেখে পেয়ে গেছেন৷ এবার রাজ্য সরকার যদি এতটাই অনমনীয় মনোভাব নিয়ে বসে থাকে এবং প্রশাসনিক দায়িত্বের বদলে রাজনৈতিক দায় সামলাতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তা হলে অচিরেই এক পরিবহণ বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়